টুঙ্গিপাড়া মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয় সপ্তাহে তিন দিন তালা
ফাইল ছবি
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২১ নভেম্বর ২০২৫ | ০৭:৪২ | আপডেট: ২১ নভেম্বর ২০২৫ | ০৮:৪৫
| প্রিন্ট সংস্করণ
টুঙ্গিপাড়া উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ে জনবল সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। কার্যালয়ে মাত্র একজন কর্মকর্তা রয়েছেন; নিয়মিত অন্য কোনো কর্মচারী নেই। ফলে নারী উন্নয়ন, ভাতা বিতরণ, প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ও মাঠ পর্যায়ের কাজ ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। উপকারভোগীরা অভিযোগ করেছেন, অফিসে গিয়ে প্রায়ই তালা ঝুলতে দেখা যায়, সেবা না পেয়ে ফিরে যেতে হয়।
দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, অফিস সহকারী রশিদ গত ২৮ সেপ্টেম্বর ও একমাত্র এমএলএসএস আমিনুল ইসলাম গত ৬ ফেব্রুয়ারি অন্যত্র বদলি হন। এরপর থেকেই দুটি পদ শূন্য রয়েছে। পরে মুকসুদপুর উপজেলা মহিলাবিষয়ক দপ্তরের অফিস সহকারী প্রভাতী রানীকে টুঙ্গিপাড়া অফিসে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়। তিনি সপ্তাহে দুই দিন দায়িত্ব পালন করলেও দপ্তরের কাজের গতি বাড়েনি।
উপকারভোগী রোকেয়া বেগম বলেন, ‘প্রায় ১০ দিন ধরে আবেদন জমা দিতে আসছি। অনেক সময় এসে দেখি অফিসে তালা ঝুলছে। ম্যাডাম কোটালীপাড়ায় থাকেন, এ অফিসে আর কেউ নেই। দ্রুত নতুন জনবল দিলে আমাদের ভোগান্তি কমবে।’
টুঙ্গিপাড়া গ্রামের নারী উদ্যোক্তা দিলরুবা খানম বলেন, ‘নারী দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ, ভাতা বিতরণ, উদ্যোক্তা সহায়তাসহ বিভিন্ন কার্যক্রম জনবল সংকটে ঝিমিয়ে পড়েছে। আমরা কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছি না। জরুরি ভিত্তিতে সমাধানের উদ্যোগ চাই।’
উপকারভোগী সালমা বেগম বলেন, ‘অনেক সময় অফিসে এসে কর্মকর্তাকে পাই না। যেদিন ম্যাডাম থাকেন, খুব সহযোগিতা করেন, কিন্তু সেবা পেতে দেরি হয়।’
সরেজমিনে কার্যালয়ে গিয়ে দেখা গেছে, উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা শ্রীময়ী বাগচী একাই পুরো দপ্তর সামলাচ্ছেন। তিনি জানান, ২০২১ সালের ৪ এপ্রিল এ অফিসে যোগদান করেন। পাশাপাশি দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে কোটালীপাড়া উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তার অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে সপ্তাহে অন্তত তিন দিন তাঁকে কোটালীপাড়ায় থাকতে হয়। এ সময় টুঙ্গিপাড়ায় উপকারভোগীরা কোনো সেবা পান না।
জনবল সংকট বিষয়ে শ্রীময়ী বাগচী বলেন, এমএলএসএস ও অফিস সহকারী দুজনই বদলি হয়ে গেছেন। সপ্তাহে দুই দিন অতিরিক্ত জনবল পেলেও কাজের চাপ কমে না। অফিস খোলা, বন্ধ, কাগজপত্র, মাঠ পর্যায়ের কাজ–সবই এখন একার দায়িত্ব। এতে শারীরিক ও মানসিকভাবে খুব কষ্ট হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, বিষয়টি জেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা (ডিডি), উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং জেলা প্রশাসক (ডিসি)-কে অবহিত করা হয়েছে।
- বিষয় :
- তালা
