ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

পাট চুরির অভিযোগে দুই পক্ষে মারামারি, আহত ১০

পাট চুরির অভিযোগে দুই পক্ষে মারামারি, আহত ১০
×

ছবি: সমকাল

ফরিদপুর অফিস 

প্রকাশ: ২১ নভেম্বর ২০২৫ | ২২:৫৫

ফরিদপুরে পাট চুরির অভিযোগকে কেন্দ্র করে হামলা-ভাঙচুর ও মারধরের ঘটনায় এক পরিবারের পাঁচ সদস্যসহ ১০ জন আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে ফরিদপুর সদর উপজেলার কানাইপুর ইউনিয়নের কাশিমাবাদ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। 

আহতদের ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ভুক্তভোগীদের পরিবারের অভিযোগ, স্থানীয় এক জামায়াত নেতার নেতৃত্বে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। 

এ ঘটনায় শুক্রবার বিকেলে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী ইউসুফ শেখ (৬৭)।

অভিযোগে বলা হয়, গত ১৩ নভেম্বর রাতে তাঁর ঘরে থাকা ৪০ আঁটি পাট চুরি করে নেওয়ার চেষ্টা করে একই গ্রামের মোহাম্মাদ খানের ছেলে মেহেদী খান (১৮)। তখন তিনি বিষয়টি দেখে চিৎকার দিয়ে হাতেনাতে তাকে আটক করেন। এক পর্যায়ে সে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় পরের দিন রাতে স্থানীয় সালিশ মীমাংসা হয়। এর জের ধরে শুক্রবার বিকেলে স্থানীয় ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি লিয়াকত খান ও মেহেদীর বাবা মোহাম্মাদ খানের নেতৃত্বে অতর্কিতভাবে তাদের  বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়। এ সময় বাড়িতে থাকা সদস্যদের দেশীয় অস্ত্রসহ রামদা দিয়ে কুপিয়ে জখম করে। 

জানা গেছে, ইউসুফ শেখের বাড়িতে হামলার ঘটনায় তাঁর মেয়ে সানজিদা শেখ জিমি, ছেলে সজল শেখ, ছোট ভাই ইউনুস শেখ ও মোশারফ শেখ এবং ভাতিজা স্বাধীন শেখ আহত হয়েছেন। তাদের সবাই ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। 

আহত সানজিদা শেখ জিমির ভাষ্য, চোরকে তারা পুলিশে দিতে চাইলে স্থানীয় জামায়াত নেতা লিয়াকত খান ছাড়িয়ে নিয়ে যায়। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে তাঁর দুই চাচাতো ভাইকে রাস্তায় পেয়ে মেহেদীসহ কয়েকজন মারধর করে। এরপর ২০ থেকে ৩০ জন রামদা নিয়ে অতর্কিতভাবে বাড়ির মধ্যে ঢুকে ভাঙচুর করতে থাকে। এ সময় তারা যাকে পায় তাকেই মারধর করে। বাড়িতে থাকা অর্থ ও স্বর্ণালংকার লুটপাট করে নিয়ে যায় এবং চারটি ঘর ভাঙচুর করে।

প্রতিপক্ষের মারধরে তাদের পক্ষের পাঁচজন ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন জানিয়ে জামায়াত নেতা লিয়াকত খান বলেন, তাঁর ভাতিজা মেহেদী ও প্রতিপক্ষ ইউসুফের ভাতিজা আরাফাত একসঙ্গে চলাফেরা করে থাকে। আরাফাত নিজেই পাট চুরি করে নিয়ে আসার জন্য মেহেদীকে তাদের বাড়িতে পাঠায়। এর পর তারা মেহেদীকে আটক করে ব্যাপক মারধর করে। গত বৃহস্পতিবার মেহেদীর মা রহিমা বেগম তাদের বাড়ির সামনে দিয়ে আসতে গেলে তারা মারধর করে, এসব দেখে কয়েকজন এগিয়ে গেলে তাদেরও মারধর করে। এর পর তারা প্রতিপক্ষের লোকদের মারধর করেন। 

এ বিষয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম নুরুজ্জামান বলেন, অভিযোগের বিষয়ে খোঁজ নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন

×