পুরাতন খোয়াই নদীতে স্থাপনা আবার দখলের হিড়িক
হবিগঞ্জ শহরের পুরাতন খোয়াই নদী ভরাট করে নির্মিত স্থাপনা। পৌর সদরের মাছুলিয়া এলাকা থেকে রোববার তোলা ছবি সমকাল
হবিগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০২ ডিসেম্বর ২০২৫ | ০৭:০৬
| প্রিন্ট সংস্করণ
হবিগঞ্জ শহরের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া পুরাতন খোয়াই নদী এমনিতেই দখল-দূষণে অস্তিত্ব সংকটে। সম্প্রতি নতুন করে নদীর জমি দখলের হিড়িক পড়েছে। অনেকে ছোট-বড় অসংখ্য স্থাপনা তৈরি করে গড়ে তুলছে দোকানপাট ও বাসাবাড়ি। যে কারণে এখন নদীটির অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়েছে। ক্রমাগত নদীটি দখল হওয়ায় হবিগঞ্জ শহরে সৃষ্টি হচ্ছে জলাবদ্ধতা। এতে দুর্ভোগ বাড়ছে পৌরবাসীর।
প্রায় ৬ বছর আগে পুরাতন নদীটি দখলমুক্ত করতে অভিযান চালায় জেলা প্রশাসন। সে সময় গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় ৩০টি দালানকোঠাসহ দুই শতাধিক স্থাপনা। তবে উচ্ছেদ কার্যক্রমের মধ্যেই জেলা প্রশাসক বদলি হওয়ায় থমকে যায় কার্যক্রম।
২০১৯ সালে ২৫০ শয্যা সদর হাসপাতাল থেকে নারিকেলহাটা পর্যন্ত নদী দখল করে গড়ে তোলা ৬০০ অবৈধ স্থাপনার তালিকা করেছিল জেলা প্রশাসন। তালিকা ধরে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান শুরু করেছিলেন তৎকালীন জেলা প্রশাসক মাহমুদুল কবির মুরাদ। প্রশাসনের অভিযানে মাছুলিয়া থেকে মুসলিম কোয়ার্টার পর্যন্ত ৩০টি বহুতল ভবনসহ দুই দফায় দুই শতাধিক স্থাপনা ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এতে দখলদাররা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। রহস্যজনকভাবে কয়েক দিনের মধ্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় জেলা প্রশাসকের বদলির আদেশ হয়। এরপর গত ছয় বছর ধরে নদী উদ্ধারের উদ্যোগ শুরু হয়নি। এই সময়ের মধ্যে আরও চারজন জেলা প্রশাসক বদলি হয়েছেন। প্রত্যেকেই যোগদানের পর প্রথম বৈঠকে নদী উদ্ধারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। কিন্তু অভিযান শুরু করতে পারেননি। দুই বছর মেয়াদ শেষে চলে গেছেন।
সরেজমিন দেখা গেছে, উচ্ছেদ অভিযানে গুঁড়িয়ে দেওয়া ৩০ দালানকোঠাসহ দুই শতাধিক স্থাপনার ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে সেই জায়গায় আবার স্থাপনা তৈরি হচ্ছে। দিন দিন নতুন স্থাপনা নির্মাণ এবং দখলের কারণে নদী অনেক স্থানে সরু হয়ে খালে পরিণত হয়েছে।
হবিগঞ্জ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি মো. শামছুল হুদা বলেন, ‘নতুন জেলা প্রশাসক যোগদান করেই দুর্নীতিবিরোধী গণশুনানির মাধ্যমে নিজের অবস্থান জানান দিয়েছেন। আশা করছি, তিনি নদী উদ্ধারে ফলপ্রসূ উদ্যোগ নেবেন।’
বাপা হবিগঞ্জের সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল সোহেল জানান, পুরাতন খোয়াই নদীতে নারকেলহাটা থেকে মাছুলিয়া পর্যন্ত নৌকা চলাচল করত। মানুষ যানবাহনের পাশাপাশি নৌকায় মালপত্র আনা-নেওয়া করত। তখন যানজট হতো না। এখন নদী দখল-দূষণের কারণে সরু খালে পরিণত হয়েছে, যেন ময়লার ভাগাড়। সামান্য বৃষ্টিতেই শহর জলাবদ্ধ হয়ে পড়ে। একমাত্র সমাধান হলো নদীকে দখল ও দূষণমুক্ত করা। যে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে কাজটি সফল হবে তিনি হবিগঞ্জবাসীর কাছে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন।
বাপা হবিগঞ্জের সহসভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী মমিন বলেন, ‘প্রায় ৫ কিলোমিটার পুরাতন খোয়াই নদীটি উদ্ধারে আমরা বারবার আন্দোলন করেছি, স্মারকলিপি দিয়েছি। জেলা প্রশাসকরা নদী উদ্ধারের আশ্বাসও দিয়েছেন। কিন্তু কাজের বাস্তবায়ন কেউই করতে পারেননি।’
স্থানীয় বাসিন্দা সেলিম আহমেদ ও শুভ আহমেদ বলেন, পুরাতন খোয়াই নদীটি উদ্ধার
করা অত্যন্ত জরুরি। এতে পৌরবাসীর দুঃখ-কষ্ট লাঘব হবে। আমরা চাই প্রশাসন যাতে এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়। অনিক রায় নামে অপর এক বাসিন্দা বলেন, সময়ের ব্যবধানে পুরাতন খোয়াই নদীটি আমাদের গলার কাঁটা। অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে প্রশাসনকে কঠোর অবস্থান নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
হবিগঞ্জের নবাগত জেলা প্রশাসক আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফীন বলেন, তিনি এ জেলায় যোগদানের পর পুরাতন খোয়াই নদীর বিষয়ে জানতে পেরেছেন। দ্রুত এ বিষয়ে সমন্বিত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
- বিষয় :
- পুকুর
