ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

বাসায় ঢুকে সাংবাদিককে রেঞ্চ দিয়ে পেটালেন কনস্টেবল

বাসায় ঢুকে সাংবাদিককে রেঞ্চ দিয়ে পেটালেন কনস্টেবল
×

এশিয়ান টিভির বিভাগীয় প্রতিনিধি ফিরোজ মোস্তফা

বরিশাল ব্যুরো

প্রকাশ: ১০ ডিসেম্বর ২০২৫ | ০২:১৪

ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের জেরে বরিশাল নগরীতে ফিরোজ মোস্তফা নামে এক সাংবাদিককে বাসায় ঢুকে রেঞ্চ দিয়ে পিটিয়ে আহত করেছেন বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের এক কনস্টেবল।

গত সোমবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে নগরীর গোরাচাঁদ দাস সড়কে এ ঘটনা হয়। ৯৯৯ এ ফোন পেয়ে পুলিশ গিয়ে ফিরোজ মোস্তফাকে উদ্ধার করেছে।

এশিয়ান টিভির বিভাগীয় প্রতিনিধি ফিরোজ মোস্তফা বর্তমানে বরিশাল শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। অভিযুক্ত পুলিশ কনস্টেবল নাভিদ আনজুমকে আটকের পর আমানতগঞ্জ ফাঁড়ির কর্মকর্তার হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। নাভিদ ওই ফাঁড়িতেই কর্মরত।

স্থানীয়রা জানান, গোরাচাঁদ দাস সড়কে আল জামিয়া মাদ্রাসা ভবনের দোতলায় ফিরোজ মোস্তফার অফিস ও সেখানে তিনি একা থাকতেন। কনস্টেবল নাভিদের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের সখ্য। তবে ব্যক্তিগত নানা বিষয়ে নিয়ে সম্প্রতি দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন তারা। এর জেরে নাভিদ সোমবার রাতে হামলা করেন ফিরোজ মোস্তফার ওপর।

ফিরোজ মোস্তফার দাবি, খেলোয়াড় পরিচয়ে নাভিদের সঙ্গে তাঁর সখ্য হয়। এ সূত্রে তিনি প্রায়ই তাঁর অফিসে আসতেন। পরে জানতে পারেন, নাভিদ মাদকসেবী ও অনলাইন ক্যাসিনো চক্রের সঙ্গে জড়িত। এরপর থেকে তিনি নাভিদকে এড়িয়ে চলতেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সম্প্রতি নিজের ই-মেইল আইডি হ্যাক হওয়ার অভিযোগ তুলে নাভিদ দোষারোপ করতে থাকেন তাঁকে। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত। এক পর্যায়ে নাভিদ তাঁর পারিবারিক কিছু ব্যক্তিগত ছবি দিয়ে ব্ল্যাকমেইল করার চেষ্টা করেন। এতে সুবিধা করতে না পেরে গত ২৫ অক্টোবর রাতে নাভিদ লোকজনসহ এসে তাঁকে আটকে নির্যাতন করে এবং আটকে রেখে বিবস্ত্র অবস্থায় ভিডিও ধারণ করে রাখে।

ফিরোজের অভিযোগ, ২৫ অক্টোবরের ঘটনায় নাভিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিতে চাইলে কোতোয়ালি মডেল থানার তৎকালীন ওসি মিজানুর রহমান গ্রহণ করেননি। এ কারণে ৩ নভেম্বর পুলিশ কমিশনার বরাবর তিনি লিখিত অভিযোগ দেন। তদন্তের জন্য ১৩ নভেম্বর পুলিশ কমিশনার কার্যালয়ে তাদের দুজনকে ডাকেন উপকমিশনার (ডিবি) আবুল কালাম আজাদ। সেখানেও তাঁকে হুমকি দিয়েছেন নাভিদ। কোতোয়ালি থানার এএসআই সাঈদুর রহমান পক্ষ নেন নাভিদের। তারা আমার ল্যাপটপ নিয়ে যায়। ওসি বিষয়টি মীমাংসার আশ্বাস দিয়ে সময়ক্ষেপণ করেন। পরে কমিশনার বরাবর অভিযোগ দিলে ওসি মিজানুর রহমান, এএসআই সাঈদ ও নাভিদ আনজুম আরও ক্ষুব্ধ হন। এর জেরে সোমবার রাতে নাভিদ আমার বাসায় ঢুকে হাতুড়ি পিটিয়ে আমাকে রক্তাক্ত করে পালিয়ে যান।

অভিযোগ প্রসঙ্গে এএসআই সাঈদুর রহমান বলেন, কনস্টেবল নাভিদ তাঁর স্ত্রীর ই-মেইল আইডি হ্যাক নিয়ে সাংবাদিক ফিরোজের বিরুদ্ধে জিডি করছিলেন। তাই তদন্তের স্বার্থে ফিরোজের ল্যাপটপ নেওয়া হয়েছিল। তিনি স্বেচ্ছায় ল্যাপটপ দিয়েছিলেন। পরে সেটি তাঁকে ফেরত দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানার ওসি আল মামুন উল ইসলাম বলেন, নাভিদ স্বীকার করেছেন তিনি ফিরোজকে রেঞ্চ দিয়ে আঘাত করেছেন। ফিরোজ মামলা করেননি। তাই নাভিদকে তাঁর কর্মস্থল আমানতগঞ্জ ফাঁড়ি ইনচার্জের হেফাজতে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি বিভাগীয়ভাবে তদন্ত করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন

×