ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

গৌরীপুরে মাজারে ভাঙচুর, মল-মূত্র নিক্ষেপের অভিযোগ

গৌরীপুরে মাজারে ভাঙচুর, মল-মূত্র নিক্ষেপের অভিযোগ
×

শুক্রবার ভোরে ভক্তরা মাজারে প্রবেশ করে দেখতে পান মূল অংশের সীমানা প্রাচীর ভেঙে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেইসঙ্গে মাজারের পবিত্রতা নষ্ট করতে পলিথিনে ভরা মল-মূত্র ও গোবর ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখা হয়েছে।

​নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ

প্রকাশ: ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫ | ২১:৪০ | আপডেট: ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫ | ১২:২২

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে কয়েকশ বছরের পুরনো একটি মাজারে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়াও মাজারের বাউন্ডারি গুঁড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি ভেতরে মল-মূত্র ও গোবর নিক্ষেপের অভিযোগ উঠেছে। 

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতের কোনো এক সময় উপজেলার টেঙ্গাপাড়া গ্রামে অবস্থিত শাহজাহান উদ্দিন (র.) আউলিয়া মাজারে একদল দুর্বৃত্ত এই হামলা চালায়।

শুক্রবার সকালে বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়দের মধ্যে চরম উত্তেজনা ও ক্ষোভ দেখা দেয়।

​মাজার সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার ভোরে ভক্তরা মাজারে প্রবেশ করে দেখতে পান মূল অংশের সীমানা প্রাচীর ভেঙে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেইসঙ্গে মাজারের পবিত্রতা নষ্ট করতে পলিথিনে ভরা মল-মূত্র ও গোবর ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখা হয়েছে। খবরটি ছড়িয়ে পড়লে সকাল থেকেই আশপাশের গ্রামের শত শত মানুষ মাজারে ভিড় করেন এবং এই ঘটনার প্রতিবাদ জানান।

​মাজারের খাদেম মো. সাইদুর রহমান (৭০) জানান, তিনি গত ৪০ বছর ধরে এই মাজারের দেখাশোনা করছেন। তিনি জানান, মুঘল সম্রাটদের আমলে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। দীর্ঘ সময়ে এমন নৃশংস ঘটনা আর কখনো ঘটেনি।

স্থানীয় বাসিন্দা ফারুক আহম্মেদ বলেন, এই মাজারে দূর-দূরান্ত থেকে প্রতিদিন ভক্তরা আসেন। যারা রাতের আঁধারে এই ভাঙচুর চালিয়েছে, তাদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক বিচার করতে হবে।

​স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. জুয়েল মিয়া জানান, খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। দুর্বৃত্তরা মাজারের অবকাঠামো ধ্বংস করার পাশাপাশি পলিথিনে ভরে অপবিত্র বস্তু নিক্ষেপ করে ধৃষ্টতা দেখিয়েছে। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে।

​ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গৌরীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুল হাসান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। মাজারের দেয়ালের একাংশ ভাঙচুর করা হয়েছে এবং সেখানে মল-মূত্র নিক্ষেপের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

তিনি আরও জানান, গত ৮-১০ বছর যাবত ওই মাজারে কোনো বড় ওরস অনুষ্ঠিত হয় না। এই ঘটনায় এখনো পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। এ ঘটনাটি বড় করে দেখার সুযোগ নাই। বড় কোনো দুষ্কৃতকারী এ ঘটনা ঘটায়নি।

আরও পড়ুন

×