ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

বানেশ্বর-ঈশ্বরদী মহাসড়ক

ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতায় বন্ধ সড়কের কাজ

ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতায় বন্ধ সড়কের কাজ
×

 চারঘাট (রাজশাহী) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫ | ০৭:৩৩

| প্রিন্ট সংস্করণ

রাজশাহীর চারঘাট ও বাঘা উপজেলার মানুষের জন্য মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে বানেশ্বর-ঈশ্বরদী মহাসড়কের মাত্র দেড় কিলোমিটার অংশ। পাঁচ বছর সময় পার হলেও ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতা ও কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় এই সামান্য অংশের কাজ শেষ হয়নি। এতে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন ব্যবসায়ী, বিপাকে সাধারণ মানুষ। 

সরেজমিনে দেখা গেছে, রাস্তা খুঁড়ে রাখায় ৫ মিনিটের পথ পাড়ি দিতে সময় লাগছে এক থেকে দুই ঘণ্টা। বাঘা বাজারের ব্যবসায়ী আব্দুর রহমান জানান, বৃষ্টির দিনে হাঁটুপানি আর রোদে ধুলোবালিতে একাকার হয়ে যায় চারপাশ। পাবনা-রাজশাহী রুটের বাসচালক মোশাররফ হোসেন আক্ষেপ করে বলেন, এই দেড় কিলোমিটারের ভোগান্তি এড়াতে ৫০ কিলোমিটার ঘুরে যাতায়াত করতে হচ্ছে।
চারঘাট বাজারের স্টেশনারি ব্যবসায়ী রাজু আহমেদ জমি অধিগ্রহণের ফলে দোকান হারিয়ে এখন রাজমিস্ত্রির কাজ করছেন। শুধু রাজু নন, মহাসড়কের এই সরু ও ভাঙাচোরা অংশের কারণে ব্যবসা হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্থানীয় শত শত ব্যবসায়ী ও পরিবহন শ্রমিক। 

বাজারের ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আকরাম হোসেন জানান, রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি করে ফেলে রাখায় ক্রেতা বাজারে আসছেন না। ফলে অনেক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
রাজশাহী সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বর থেকে চারঘাট-বাঘা-নাটোরের লালপুর হয়ে পাবনার ঈশ্বরদী পর্যন্ত সড়কটির দৈর্ঘ্য ৫৪ কিলোমিটার। 
৩৪ ফুট চওড়া এ সড়কের কাজ শুরু হয় ২০২০ সালে। শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২২ সালের ৩১ ডিসেম্বর। দুই দফায় সময় বাড়িয়ে চারঘাট ও বাঘা বাজারের দেড় কিলোমিটার বাদে বাকি কাজ শেষ হয়েছে ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে। ৫৫৪ কোটি টাকার কাজটি সাতজন ঠিকাদার সাতটি প্যাকেজে বাস্তবায়ন করেছেন। 

এদিকে গত ২০ মার্চ সড়ক বিভাগ ২২ কোটি টাকা ব্যয়ে চারঘাট ও বাঘা উপজেলা সদরের দেড় কিলোমিটার আরসিসি ঢালাই সড়ক, ড্রেন নির্মাণ ও আলোকায়নের জন্য শামীম এন্টারপ্রাইজের সঙ্গে চুক্তি করে। ৩০ জুনের মধ্যে কাজ শেষ করতে বলা হয়েছিল। অধিগ্রহণের জায়গা ফাঁকা না থাকায় চুক্তি স্বাক্ষরের পরদিনই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করা সম্ভব নয় বলে সড়ক বিভাগকে লিখিতভাবে জানান ঠিকাদার। 
জমির মালিকদের অভিযোগ, জমি অধিগ্রহণ করা হলেও অর্ধেকের বেশি মানুষ এখনও ক্ষতিপূরণের টাকা পাননি। নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের নেতা সাইফুল ইসলামের মতে, জমি অধিগ্রহণ শেষ না করেই প্রকল্প গ্রহণ এবং বিদ্যুতের খুঁটি অপসারণ না করা কর্তৃপক্ষের অমার্জনীয় গাফিলতির প্রমাণ।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জান্নাতুল ফেরদৌস জানান, প্রতিটি সভায় এই জনদুর্ভোগের কথা তুলে ধরা হচ্ছে। অন্যদিকে, সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী রেজওয়ান করিম জানান, নতুন করে ১৯ কোটি টাকার সংস্কার প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে, যা বর্তমানে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় আছে। তবে কাজ পুরোপুরি শেষ হতে ২০২৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
 

আরও পড়ুন

×