সড়ক দখল করে ইট-বালুর ব্যবসা, দুর্ঘটনার ঝুঁকি
বাঞ্ছারামপুর উপজেলার শরিফপুর এলাকায় বাঞ্ছারামপুর-মুরাদনগর সড়কে অবৈধ বালুর ব্যবসা। ছবি: সমকাল
বাঞ্ছারামপুর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৫ জানুয়ারি ২০২৬ | ১২:১৬ | আপডেট: ০৫ জানুয়ারি ২০২৬ | ১২:২৬
বাঞ্ছারামপুরের বিভিন্ন স্থানে সড়কের জায়গা দখল করে ইট, পাথর ও বালুর ব্যবসা করছেন স্থানীয় কিছু ব্যক্তি। এতে একদিকে যেমন সড়ক সংকুচিত হয়ে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে, অন্যদিকে ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সড়কের কাঠামো।
ট্রাক্টর ও ভারী ট্রাকে করে ইট, পাথর ও বালু পরিবহন করা হচ্ছে। এসব যানবাহনের অতিরিক্ত চাপে ইতোমধ্যে অনেক সড়কে ফাটল ধরেছে, কোথাও পিচ উঠে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে খানাখন্দ।
সড়ক দখল হয়ে যাওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যানবাহন চালক ও পথচারীরা। বিশেষ করে রাতের বেলায় এসব রাস্তা দিয়ে চলাচলকারী যানবাহন ও লোকজন প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। সাধারণ যানবাহন, অ্যাম্বুলেন্স ও স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সরেজমিন দেখা গেছে, বাঞ্ছারামপুর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের মধ্য দিয়ে যাওয়া রাস্তার পাশে ইট, বালু রেখে ব্যবসা করছেন বিভিন্ন ব্যক্তি। বিশেষ করে বাঞ্ছারামপুর-ছলিমাবাদ সেতুর পূর্ব পাশে, আছাদনগর সেতুর উভয়পাড়, দুর্গারামপুর মোড়, আশ্রাববাদ, দশানি, সোনারামপুর, জয়কালিপুর, ফরদাবাদে, ভিটিঝগরারচর, হোগলাকান্দা, ভুরভুরিয়ায়, দরিকান্দিতে, উজানচর, কানাইনগর, গঙ্গানগর, হায়দারনগর, মিরপুর, রূপসদী গ্রামের ওপর দিয়ে যাওয়া সড়ক দখল করে শতাধিক স্থানে নির্মাণসামগ্রী রেখে ব্যবসা করা হচ্ছে। এসব মালপত্র পরিবহনে ব্যবহৃত হচ্ছে ট্রাক্টর ও ভারী ট্রাক। এতে রাস্তার বিভিন্ন অংশ ভেঙে গেছে। রাস্তা সংকুচিত হওয়ার কারণে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
ইট-বালু ব্যবসায়ী সুমন মিয়া জানান, গদি (ইট-বালুর স্তূপ) রাস্তার পাশে হওয়ার কারণে অনেক সময় বালু ও ইট রাস্তার কাছে চলে আসে। তবে এভাবে নির্মাণসামগ্রী রাখতে এই পর্যন্ত কেউ তাঁকে নিষেধ করেনি। অনেক বছর ধরে এই ব্যবসা করছেন তিনি।
ভুরভুরিয়া গ্রামের শাহ আলমের ভাষ্য, ওয়াই সেতুর নিচে রাস্তা দখল করে পাথর, বালু, ইট রেখে ব্যবসা করছেন সুমন নামে এক ব্যক্তি। এতে জনগণের চলাচল করতে অসুবিধা হচ্ছে। দিনের পর দিন রাস্তা দখল করে রাখছে।
পথচারী কবির হোসেন বলেন, রোগী নিয়ে অ্যাম্বুলেন্স পর্যন্ত ঠিকমতো চলতে পারে না। এসব দেখার কি কেউ নেই? প্রভাবশালীদের দাপটে
নীরব প্রশাসন, দীর্ঘদিন ধরে এই অবস্থা চললেও সংশ্লিষ্ট প্রশাসন কিংবা সড়ক বিভাগ কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। অভিযোগ রয়েছে, প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় এসব অবৈধ ব্যবসা নির্বিঘ্নে পরিচালিত হচ্ছে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) বাঞ্ছারামপুর উপজেলা প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, রাস্তার জায়গা দখল করে কেউ কিছু রাখলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী সিদ্দিকুর রহমানের ভাষ্য, তাদের আওতায় থাকা সড়কের ওপর ইট, পাথর, বালু রেখে ব্যবসা করার সুযোগ নেই। উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে বিভিন্ন ব্যক্তি রাস্তার পাশে বালু, ইট রেখে ব্যবসা করছে। এসব মালপত্র আনা-নেওয়ার কারণে রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে শিগগিরই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
- বিষয় :
- ব্রাহ্মণবাড়িয়া
- বাঞ্ছারামপুর
- সড়ক দখল
