ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

এক সিন্ডিকেটে দেড় শতাধিক নিয়োগ

দুই উপ-উপাচার্যের মেয়ে ও ভাগনে হলেন প্রভাষক

এক সিন্ডিকেটে দেড় শতাধিক নিয়োগ
×

ফাইল ছবি

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৯ জানুয়ারি ২০২৬ | ২২:৪৮ | আপডেট: ১১ জানুয়ারি ২০২৬ | ২৩:১৭

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শুক্রবার ৫৬৫তম সিন্ডিকেট সভায় শিক্ষক-কর্মকর্তা ও কর্মচারী মিলিয়ে মোট ১৫৩ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রভাষক হয়েছেন দুই উপ-উপাচার্যের মেয়ে ও ভাগনে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম গতিশীল করতে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, ইইই, প্রাণিবিদ্যা, এইচআরএমসহ ৯টি বিভাগে মোট ৪৪ জন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ১০০ জন তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী এবং ০৯ জন কর্মকর্তা নিয়োগের সুপারিশ অনুমোদন করেছে সিন্ডিকেট। কর্মকর্তাদের মধ্যে নেটওয়ার্ক টেকনিশিয়ান, কম্পিউটার অপারেটর, অফিস সহকারীসহ বিভিন্ন পদের নিয়োগ চূড়ান্ত হয়েছে।

উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক শামিম উদ্দিন খানের মেয়ে মাহিরা শামিম ফিন্যান্স বিভাগের প্রভাষক পদে নিয়োগ পেয়েছেন। আর উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক কামাল উদ্দিনের ভাগনে সাঈদুল রহমান নিয়োগ পেয়েছেন ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগে।

দুই কর্মচারীকে সতর্কবার্তা
এদিকে গত ৪ নভেম্বর রাতে পুরাতন শামসুন নাহার হলের গার্ডরুম থেকে মদ্যপানরত অবস্থায় প্রক্টরিয়াল বডির হাতে আটক হন দুই কর্মচারী। তারা হলেন ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের প্রহরী খবির আহমেদ ও কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের জেনিটর মো. নূরুল আবছার। আটকের পরে রেজিস্ট্রার দপ্তর তদন্ত কমিটি গঠন করে। শুক্রবারের সিন্ডিকেটে তদন্ত প্রতিবেদন পেশ করা হয়।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক শামিম উদ্দিন খান বলেন, ‘অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন সিন্ডিকেটে পেশ করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ে এ ধরনের আচরণ অত্যন্ত অনভিপ্রেত ও দৃষ্টিকটু। সার্বিক দিক বিবেচনা করে সিন্ডিকেট তাদের কঠোরভাবে সতর্ক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের কোনো কর্মকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি ঘটলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

নিয়োগ পরীক্ষায় জালিয়াতি, ৩ বছর নিষিদ্ধ
ওশানোগ্রাফি বিভাগের সেকশন অফিসার পদে নিয়োগ পরীক্ষা চলাকালে নিয়ম ভেঙে মোবাইল ফোন ব্যবহার করে উত্তর লেখার দায়ে এক প্রার্থীর বিরুদ্ধে কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিন্ডিকেট। তদন্ত কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী, ওই প্রার্থী আগামী তিন বছর বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো ধরনের নিয়োগ ও পদোন্নতি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন না।

এ প্রসঙ্গে অধ্যাপক শামিম উদ্দিন খান বলেন, নিয়োগ পরীক্ষায় জালিয়াতি বা অনিয়মের প্রশ্নে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। পরীক্ষায় মোবাইল ব্যবহার নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট প্রার্থী তা অমান্য করেছেন। তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে সিন্ডিকেট তাঁকে আগামী তিন বছরের জন্য সব ধরনের নিয়োগ ও পদোন্নতি পরীক্ষায় অংশগ্রহণে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। স্বচ্ছতা নিশ্চিতে এমন কঠোর ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।

নতুন রিভিউ কমিটি
৫৬২তম সিন্ডিকেটে অভিযুক্ত গোলাম কিবরিয়ার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এবং এর পরিপ্রেক্ষিতে দেওয়া জবাব পুনরায় পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন। শুক্রবার সিন্ডিকেট সভায় আগের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হলে বিষয়টি অধিকতর তদন্তের জন্য আরেকটি ‘রিভিউ কমিটি’ গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে অধ্যাপক শামিম উদ্দিন খান বলেন, গোলাম কিবরিয়ার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সিন্ডিকেটে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। আমরা চাই বিষয়টি নিয়ে কোনো অস্পষ্টতা না থাকুক এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত হোক। তাই অধিকতর তদন্ত ও পর্যালোচনার জন্য সিন্ডিকেট একটি রিভিউ কমিটি গঠন করে দিয়েছে। কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন

×