ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

মাথায় গুলি রয়ে গেছে, এখনও আইসিইউতে শিশু হুজাইফা

মাথায় গুলি রয়ে গেছে, এখনও আইসিইউতে শিশু হুজাইফা
×

হাসপাতালে গুলিবিদ্ধ শিশু হুজাইফা

শৈবাল আচার্য্য, চট্টগ্রাম

প্রকাশ: ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ | ১৫:৩৫ | আপডেট: ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ | ১৭:৪০

মুখের ডান পাশ দিয়ে গুলি প্রবেশ করে তা মস্তিস্কে মারাত্মকভাবে আঘাত করেছে নয় বছর বয়সী শিশু হুজাইফা আফনানের। তবে গুলিটি বের না হয়ে রয়ে গেছে মস্তিষ্কে। মস্তিস্কের খুব ক্রিটিক্যাল জায়গায় গুলিটা থাকায় টানা কয়েকঘণ্টা ধরে জটিল অস্ত্রোপচার করেও গুলিটি বের করতে পারেননি চিকিৎসকরা। গুলিটি যেস্থানে আটকে আছে সেটিকে মস্তিস্কের ‘বিপজ্জনক’ জায়গা বলছেন তারা। তাই গুলিটি বের করতে চাইলেই হুমকিতে পড়বে শিশুটির জীবন। এ অবস্থায় মস্তিষ্কে জমাটবদ্ধ রক্ত অপসারণ করতে ও রক্ত চলাচল স্বাভাবিক রাখতে হুজাইফার মাথার খুলি খুলে ফ্রিজে সংরক্ষণ করতে হয়েছে।

এমন করুণ পরিণতির শিকার হয়ে গুলিবিদ্ধ শিশুটি এখন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের আইসিউইতে। শিশুটির শারীরিক অবস্থার এখনও উন্নতি হয়নি। মঙ্গলবার দুপুরে তার চিকিৎসায় মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আইসিইউ বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. হারুন অর রশিদ সমকালকে বলেন, ‘গুলিটি শিশুটির মস্তিস্কের ডেঞ্জারাস স্থানে রয়েছে। যে কারণে অস্ত্রোপচার করেও গুলিটি বের করা যায়নি। শারীরিক সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক রাখতে শিশুটির মাথার খুলিটি খুলে আপাতত ফ্রিজে রাখা হয়েছে। গুলিটি যেখানে আটকে আছে সেখানে একসাথে অনেকগুলো রক্তসঞ্চালন লাইন রয়েছে। সেখান থেকে গুলিটি নিতে চাইলে আরও বিপদ বাড়তে পারে। এতে হুমকিতেও পড়তে পারে শিশুটির জীবন। তার শারীরিক অবস্থার তেমন উন্নতি না হওয়ায় আমরাও চিন্তিত। এই অবস্থায় পর্যবেক্ষণে রেখেছি। তাকে সুস্থ করে সব ধরনের চেষ্টাই করছি আমরা। এজন্য মেডিকেল বোর্ড বসানো হয়েছে।’

শিশুটির চাচা মোহাম্মদ এরশাদ বলেন, ‘আমার ভাতিজাটা নিথর হয়ে শয্যায় পড়ে আছে। তাই কিছুই ভালো লাগছে না। জটিল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করেও গুলিটি বের করতে পারেননি চিকিৎসকরা। কারণ গুলিটি নাকি মস্তিস্কের বিপজ্জনক স্থানে আটকে আছে। মেয়েটা কখন সুস্থ হবে?’ এমনটি বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।

গত রোববার সকাল ৯টার দিকে বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে ছোড়া গুলিতে গুরুতর আহত হয় শিশু হুজাইফা। পরে তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় বিকেলে চমেক হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় পরে তাকে লাইফ সাপোর্টে রেখে চিকিৎসা দেন চিকিৎসকরা। ওইদিন মধ্যরাতে তার একটি জটিল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করা হয়। তবে জটিল অস্ত্রোপচার করেও মাথার ভেতর থেকে গুলি বের করা সম্ভব হয়নি।

হুজাইফা আফনান টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মোহাম্মদ জসিমের মেয়ে। হুজাইফা লম্বাবিল হাজি মোহাম্মদ হোসেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ে। সে জসিমের একমাত্র মেয়ে, তার আরও দুটি ছেলে রয়েছে। পেশায় তিনি একজন মাছ বিক্রেতা।

আরও পড়ুন

×