ঢাকা শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

বাজারে মিলছে না এলপি গ্যাস কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগ

বাজারে মিলছে না এলপি গ্যাস কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগ
×

বেলাব (নরসিংদী) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ | ০৮:১৮ | আপডেট: ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ | ১৩:০১

| প্রিন্ট সংস্করণ

হঠাৎ করেই বেলাব উপজেলার সবগুলো বাজার থেকে উধাও হয়ে গেছে এলপি গ্যাস সিলিন্ডার। দোকানে দোকানে হন্যে হয়ে ঘুরেও গ্যাস পাচ্ছে না সাধারণ মানুষ। অনেকে বেশি দামে গোপনে এলপি গ্যাস কিনতে পারলেও তা যথেষ্ট নয়। হঠাৎ করেই বাজার থেকে এলপি গ্যাস উধাও হয়ে যাওয়ায় ডিলার ও ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে বেশি লাভের আশায় কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগ তুলেছেন ভোক্তারা। তাদের ধারণা, কোম্পানির ডিলার ও ব্যবসায়ীরা মিলে সিন্ডিকেট করে গ্যাসের কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছেন। এই সিন্ডিকেট ভাঙতে পারলেই বাজারে গ্যাস পাওয়া যাবে বলে তাদের বিশ্বাস।

সিন্ডিকেট করে গ্যাস সিলিন্ডার মজুতের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ডিলার ও ব্যবসায়ীরা। তারা জানান, কোম্পানিগুলো চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস দিতে পারছে না ডিলারদের। বিদেশ থেকে তরল গ্যাস না আসার কারণেই নাকি কোম্পানিগুলো এলপিজি সিলিন্ডার বাজারজাত করতে পারছে না।

বেলাব, আমলাব, বারৈচা, নারায়ণপুর, পোড়াদিয়া, বটেশ্বরসহ বিভিন্ন বাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, বাজারগুলোতে ইউনিক, বসুন্ধরা, ডেল্টা, আইএফ, ফ্রেস, ভিন, পেট্রোমেক্স, জি গ্যাস ও ওমেরা নামের গ্যাস সিলিন্ডার এতদিন বেচাকেনা হতো। কিন্তু হঠাৎ করেই এসব গ্যাস সিলিন্ডার সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে কোম্পানিগুলো। কয়েক মাস আগে থেকে অনেক কোম্পানি ডিলারদের কাছে গ্যাসের সিলিন্ডার সরবরাহ বন্ধ করে দেয়। এর মধ্যে এক মাস ২৫ দিন ধরে বন্ধ বেক্সিমকোর গ্যাস সিলিন্ডার সরবরাহ, এক মাস ১৮ দিন ধরে বন্ধ বসুন্ধরার গ্যাস সিলিন্ডার সরবরাহ। ওমেরা ও ফ্রেস কোম্পানির গ্যাস সিলিন্ডার বন্ধ না হলেও সরবরাহ কম। এ ছাড়া পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় ডিলাররা খুচরা দোকানে সিলিন্ডার সরবরাহ করতে পারছে না। ফলে বাজারে গ্যাসের সংকট দেখা দিয়েছে। ভোক্তাদের অনেকে মনে করছেন, উপজেলার আটটি ইউনিয়নে একসঙ্গে এলপি গ্যাসের সিলিন্ডার সংকট দেখা দেওয়ায় বিষয়টি আর স্বাভাবিক সংকট নয়, বরং পরিকল্পিত কারসাজি।
বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলার আটটি ইউনিয়নের বাজারগুলোতে বেশির ভাগ দোকানেই এলপি গ্যাস সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। দিনের পর দিন ক্রেতারা দোকানে ঘুরে ঘুরে শুনছেন ‘গ্যাস নাই সাপ্লাই বন্ধ, কবে গ্যাস আসবে তারা জানে না’। এভাবে চলছে বেশ কিছুদিন ধরে।

উদ্বেগজনক বিষয় হলো– যারা মাঝেমধ্যে গ্যাস বিক্রি করছেন, তারাই নির্ধারিত মূল্যের তোয়াক্কা না করে চড়া দামে বিক্রি করছেন। ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, মাত্র এক সপ্তাহ আগেও যে সিলিন্ডার নির্দিষ্ট দামে পাওয়া যেত, সেটিই এখন ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা বেশি দাম কিনতে হচ্ছে। আবার অনেক জায়গায় বেশি দাম দিয়েও পাওয়া যাচ্ছে না।

স্থানীয় গৃহিণীরা বলছেন, গ্যাস সংকট তাদের রান্নাঘর অচল করে দিয়েছে। কেউ বাধ্য হয়ে মাটির চুলা জ্বালাচ্ছেন, কেউ কাঠখড়ি সংগ্রহ করছেন। আধুনিক এলাকার মানুষ ফিরে যাচ্ছে আদিম ব্যবস্থায় যা অত্যন্ত লজ্জাজনক।

একজন ভুক্তভোগী ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, গ্যাস নেই, গ্যাস নেই বলে ঘোরায় বিক্রেতারা। আবার কোথাও গ্যাস সিলিন্ডার থাকার কথা শুনে গিয়ে দেখেন দাম এমন যে কিনতেই ভয় লাগে।

পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক এক খুচরা বিক্রেতার ভাষ্য, গ্যাস সিলিন্ডার একেবারেই নেই এটি সত্য না। কিছু ডিলার ও দোকানদারের কাছে মজুত থাকতে পারে। সেগুলো মজুত রেখে হয়তো গোপনে বেশি দামে বিক্রি করছেন তারা।

বেলাব উপজেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সভাপতি স্বপন মাহমুদ বলেন, কেউ যদি এভাবে কৃত্রিম সংকট তৈরি ও অতিরিক্ত দামে বিক্রি করে সেটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এটি ভোক্তা অধিকার লঙ্ঘনের পাশাপাশি ফৌজদারি অপরাধ।

এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে ডিলার ও দোকানে দোকানে তদন্ত, গুদামে তল্লাশি ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা না করলে এই সিন্ডকেট আরও বেপরোয়া হয়ে উঠবে।
বেলাব বাজারে ওমেরা গ্যাসের ডিলার গণি ব্রাদার্সের স্বত্বাধিকারী মো. তারেক বলেন, সিন্ডিকেটের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। কোম্পানি থেকে পাওয়া যাচ্ছে না, এ কারণেই বাজারে গ্যাস নেই। চলতি মাসের ১ থেকে ১৩ তারিখ পর্যন্ত তাঁর বিক্রয় কেন্দ্রে প্রয়োজন ছিল তিন হাজার থেকে চার হাজার গ্যাস সিলিন্ডার। সেখানে কোম্পানি দিয়েছে ৭৫০টি। কোম্পানি গ্যাস দিচ্ছে না, এ কারণে তারাও দোকানে সরবরাহ করতে পারছেন না।

বসুন্ধরা কোম্পানির ডিলার জুয়েল মিয়া জানান, তরল গ্যাস যে ২১টি জাহাজের মাধ্যমে বিদেশ থেকে আসত সেগুলো বন্ধ রয়েছে। কোম্পানিগুলো তরল গ্যাস না পাওয়ায় সিলিন্ডার গ্যাস উৎপাদন করতে পারছে না। যার কারণে বাজারে গ্যাস সিলিন্ডারের সংকট তৈরি হয়েছে।

ওমেরা কোম্পানির এরিয়া ম্যানেজার নয়ন মিয়া বলেন, ‘সাংবাদিকের সঙ্গে কথা বলার অনুমতি নেই আমার। এ কারণে বাজারে কেন গ্যাস নেই, কেন গ্যাসের সংকট, এর কিছুই বলতে পারছি না।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে হাফসা নাদিয়ার ভাষ্য, গ্যাস সিলিন্ডারের ডিলারদের সঙ্গে কথা বলবেন। যদি কেউ মজুত করে গোপনে বেশি দামে বিক্রি করে থাকে, প্রমাণ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন

×