ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

‘সন্তানেরা বাবাকে দেখতে চায়, তাদের জবাব দিতে পারছি না’

‘সন্তানেরা বাবাকে দেখতে চায়, তাদের জবাব দিতে পারছি না’
×

শামসুজ্জামান ডাবলু

 জীবননগর (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ | ০৭:৫২ | আপডেট: ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ | ০৮:২১

| প্রিন্ট সংস্করণ

চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে সেনা অভিযানে আটকের পর মৃত বিএনপি নেতা শামসুজ্জামান ডাবলুর প্রথম দফা জানাজা হয়েছে। গতকাল বুধবার সকালে জীবননগর পৌর ঈদগাহ ময়দানে তাঁর জানাজা হয়। ডাবলুর ছোট ভাই ও মা লন্ডন থেকে দেশে ফিরলে আজ বৃহস্পতিবার সকালে দ্বিতীয় দফা জানাজা শেষে তাঁকে দাফন করা হবে। এদিকে স্বজনেরা জানিয়েছেন, দাফনের পর পারিবারিকভাবে আলোচনা করে মামলার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

জানা গেছে, গত সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে জীবননগর পৌর এলাকায় অভিযান চালায় সেনাবাহিনীর একটি দল। এ সময় জীবননগর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ডাবলুকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে অবস্থিত তাঁর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ‘হাফিজা ফার্মেসি’ থেকে আটক করা হয়। এরপর তাঁকে নেওয়া হয় জীবননগর উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ে। সেখানে জিজ্ঞাসাবাদের পর রাত ১২টার দিকে নেওয়া হয় জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। এ সময় ডাবলুকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা গভীর রাতে রাস্তায় নামেন। হাসপাতালের সামনের সড়কে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন তারা। ডাবলুর মৃত্যুকে ‘হত্যাকাণ্ড’ দাবি করে জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তির দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

ময়নাতদন্তের পর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ডাবলুর মরদেহ জীবননগর পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বসুতিপাড়ার বাড়িতে পৌঁছায়। মরদেহবাহী ফ্রিজিং গাড়ি সেখানে পৌঁছানোর পর স্বজনদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। দলীয় নেতাকর্মী ও এলাকার সাধারণ মানুষ বাড়িতে ভিড় করেন।

শামসুজ্জামান ডাবলুর দুই ছেলে ও এক মেয়ে। তাদের মধ্যে আনিসা বিশ্বাস (১১) চতুর্থ শ্রেণিতে এবং ছেলে জাওয়াত বিশ্বাস (৮) পড়ে দ্বিতীয় শ্রেণিতে। ডাবলুর ছোট ছেলে জাওয়ান বিশ্বাসের বয়স আড়াই বছর। তাদের মা জেসমিন খাতুন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার নিরপরাধ স্বামীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। এতিম তিন সন্তান বারবার তাদের বাবাকে দেখতে চায়। তাদের কোনো জবাব দিতে পারছি না। আমার স্বামীর হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’

ডাবলুর বড় ভাই শরিফুল ইসলাম কাজল দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়ে বলেন, ‘আমার ছোট ভাইয়ের তিন শিশুসন্তান বাবাহারা হয়ে গেল। এই কষ্ট মেনে নেওয়া যায় না!’

গতকাল সকাল ১০টার দিকে জানাজার জন্য ডাবলুর মরদেহ পৌর ঈদগাহ ময়দানে নেওয়া হয়। জানাজায় অংশ নেন চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বি এম তারিক-উজ-জামান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. মোস্তাফিজুর রহমান, সহকারী পুলিশ সুপার (দামুড়হুদা সার্কেল) আনোয়ারুল কবীর, চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপি ও বিজিএমইএর সভাপতি এবং চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী মাহমুদ হাসান খান, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী শরীফুজ্জামান শরীফসহ বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি এবং এলাকাবাসী।

জানাজার আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে জেলা বিএনপির সভাপতি মাহমুদ হাসান খান ও সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান শরীফ বলেন, আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। এই দেশে এমন মৃত্যু প্রত্যাশা করি না। আমরা সঠিক বিচার চাই, যেন ভবিষ্যতে আর কাউকে এভাবে প্রাণ হারাতে না হয়।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ডাবলুর মৃত্যুতে আমরা জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে গভীরভাবে মর্মাহত। পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি। আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচারে পুলিশ সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।

বুধবার রাতে ডাবলুর ভগ্নিপতি অ্যাডভোকেট বদিউজ্জামান সমকালকে বলেন, দাফনের পর পরিবারের সবাই মিলে আলোচনা করে মামলার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন

×