ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

গণভোটের ইতিবাচক ফল দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে: ফারুক-ই-আজম

গণভোটের ইতিবাচক ফল দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে: ফারুক-ই-আজম
×

ছবি: সমকাল

সিলেট ব্যুরো

প্রকাশ: ১৬ জানুয়ারি ২০২৬ | ২০:০৯

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম (বীর প্রতীক) বলেছেন, রাষ্ট্র ও সরকারের মালিকানা জনগণের হাতে তুলে দেওয়ার জন্যই গণভোট। গণভোটের ইতিবাচক ফলাফলই আগামীর বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে। দেশের পরিবর্তনের জন্য অবশ্যই গণভোটে অংশ নিতে হবে।

শুক্রবার বিকেলে সিলেটের লাক্কাতুরা গলফ ক্লাব মাঠে গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে আয়োজিত উঠান বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এসময় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা-উন-নবীর সভাপতিত্বে উঠান বৈঠকে বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাইদুর রহমান, গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের পরিচালক মীর মো. আসলাম উদ্দীন, জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম, সিভিল সার্জন মো. নাসির উদ্দিন।

প্রধান অতিথি বলেন, ২৪ এর গণঅভ্যুত্থানের পরে অন্তর্বর্তী সরকারের মূল কাজ ছিল গণহত্যাকারীদের বিচার নিশ্চিত, রাষ্ট্র ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজন করা। অন্তর্বর্তী সরকার অল্প সময়ে সবগুলো কাজ সম্পন্ন করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। রাষ্ট্রকে আগের ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থায় যাতে আর কেউ নিতে না পারে সেজন্য সকল দলের ঐকমত্যের ভিত্তিতে জুলাই সনদ প্রণয়ন করা হয়। আর সে সনদের কিছু মৌলিক বিষয় নিয়েই গণভোটের আয়োজন।

যারা জীবনে প্রথম ভোট দেবেন তাদের সৌভাগ্যবান উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, আপনাদের প্রথম ভোট হবে রাষ্ট্রের আমূল পরিবর্তনের জন্য, আপনার নিজের মৌলিক অধিকার নিশ্চিতের জন্য। গণভোটের পক্ষে আপনার সুচিন্তিত মতামতের ফলেই দেশের অর্থনীতি, বিচারব্যবস্থা, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তন হবে।

তিনি বলেন, আমাদের স্বচ্ছল, সাবলীল ও মানবিকবোধ সম্পন্ন নতুন বাংলাদেশ গড়তে হবে। যে বাংলাদেশের জন্য ছাত্র-জনতা জীবন দিয়েছে সে আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে আমাদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে। এসময় তিনি রাষ্ট্রের সার্বিক মালিকানা জনগণকে বুঝিয়ে দিতে সরকার কাজ করছে বলে মন্তব্য করেন।

বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম বলেন, জনগণ যদি নিজের অধিকার সম্পর্কে সচেতন না হয় তবে কোনো সরকারই ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারবে না। ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য সচেতনতার সঙ্গে ভালো প্রার্থী নির্বাচিত করতে হবে। আর ভালো প্রার্থী তৈরি হবে ভালো রাষ্ট্র কাঠামোর মাধ্যমে। রাষ্ট্র কাঠামো পরিবর্তন ও সুসংহত করা এবং বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠনের জন্য গণভোটের পক্ষে রায় দেওয়ার কোনও বিকল্প নেই।

এর আগে বিভাগীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে সভায় গণভোটে ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে প্রচারণা চালাতে স্বাস্থ্য বিভাগের সকল কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন স্বাস্থ্য উপদেষ্টা। এসময় সরকারি দপ্তরের পাশাপাশি এনজিওগুলোকেও গণভোটের প্রচারণায় কাজে লাগানোর পরামর্শ দেন তিনি।

গণভোটে ‘হ্যাঁ’র পক্ষে প্রচার চালানো রাষ্ট্রের জন্য ফরজে কেফায়া বলে মন্তব্য করে স্বাস্থ্য উপদেষ্টা বলেন, সংবিধান, উচ্চকক্ষ-নিম্নকক্ষ বুঝানো লাগবে না, নাগরিকের প্রাত্যহিক জীবনে গণভোট কী প্রভাব রাখবে তা বুঝিয়ে ‘হ্যাঁ’এর পক্ষে জনমত তৈরি করতে হবে।

তিনি আরো বলেন, যারা নির্বাচন চায় না তারা সর্বোচ্চ ট্রাই করবে নির্বাচন না হোক। তাই জনগণকে যত যুক্ত করা যাবে, তত অশুভ শক্তি ও নির্বাচন বিরোধী শক্তি পরাজিত হবে।

আরও পড়ুন

×