ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

যাচাই-বাছাই শেষ না হলে তিস্তার কাজ শুরু করা যাচ্ছে না: রিজওয়ানা হাসান

যাচাই-বাছাই শেষ না হলে তিস্তার কাজ শুরু করা যাচ্ছে না: রিজওয়ানা হাসান
×

রংপুরের কাউনিয়ায় তিস্তা নদীর ভাঙনপ্রবণ এলাকায় পানিসম্পদ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। ছবি: সমকাল

রংপুর অফিস

প্রকাশ: ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ | ২১:১৭

পানিসম্পদ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, তিস্তা প্রকল্প নিয়ে ভালো করে যাচাই-বাছাই চলছে; যাতে কোনো ভুল না হয়। যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রকল্পটির কাজ শুরু করা যাচ্ছে না। রংপুরের কাউনিয়ায় তিস্তা নদীর ভাঙনপ্রবণ এলাকা পরিদর্শন শেষে আজ সোমবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।

তিস্তা মহাপরিকল্পনা ইস্যুতে গতকাল নদী এলাকা পরিদর্শন করেছেন চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন ও পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা। এ সময় রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম তিস্তা নদীর গতি-প্রকৃতি ও সংকট তুলে ধরেন।

ইয়াও ওয়েন বলেন, তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়নে চীন নীতিগতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এটি একটি বড় প্রকল্প। বিজ্ঞানসম্মতভাবে এটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। তিনি আশা করেন, নির্বাচিত সরকার প্রকল্পটির ধারাবাহিকতা বজায় রেখে কাজ চালিয়ে যাবে।

সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়নে বাংলাদেশ ও চীন সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। রাজনৈতিক দলগুলো তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে তিস্তা প্রকল্পকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। কিন্তু প্রকল্পটা জটিল হওয়ায় তিনটা বিষয় দেখতে হচ্ছে– বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নদীভাঙন রোধ ও সেচ কার্যক্রম। এ কারণে যাচাই-বাছাইয়ে চীন একটু সময় নিচ্ছে।

তিনি বলেন, প্রকল্পটি নিয়ে গণশুনানি, জাতীয় পর্যায়ে বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়ে চীনে পাঠানো হয়েছে। এখন চীন যাচাই-বাছাই করছে। চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কটা বন্ধুত্বপূর্ণ। তা ছাড়া চীনের সঙ্গে আমরা নদী ভাগাভাগি করি। রংপুর অঞ্চলে একটি হাসপাতাল করতে তারা এগিয়ে আসছে, স্বাস্থ্য ও অবকাঠামো নির্মাণে এগিয়ে আসছে। তবে তিস্তা প্রকল্পের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল।

উপদেষ্টা বলেন, পানির ন্যায্য হিস্যা চলমান প্রক্রিয়া। এগুলো রাজনৈতিক ইস্যু। নির্বাচিত সরকার এসে যাতে আর অপেক্ষা করতে না হয়, সেই প্রস্তুতিটা আমরা গঙ্গা ও তিস্তা উভয় ক্ষেত্রে করে দিয়েছি।

উল্লেখ্য, এই প্রকল্পের মাধ্যমে লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধায় ১১০ কিলোমিটার নদীতে এক হাজার ৩৩০ লাখ ঘনমিটার ড্রেজিং করা হবে। তীর রক্ষা, বাঁধ নির্মাণ ও মেরামত, ৬৭টি গ্রোয়েন বা স্পার নির্মাণ ও মেরামত, নদীর দুই ধারে সড়ক নির্মাণ, ১৭০ দশমিক ৮৭ বর্গকিলোমিটার ভূমি পুনরুদ্ধার ও উন্নয়ন করা হবে।

আরও পড়ুন

×