জাপা প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধতা পাওয়ায় পাল্টে গেছে সমীকরণ
মঈনুল ইসলাম খান, এসএম আব্দুল মান্নান,মোহাম্মদ আলী, মো. সালাহউদ্দিন
মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ | ০৮:১৭
| প্রিন্ট সংস্করণ
মানিকগঞ্জ-২ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন চার প্রার্থী। জামায়াতে ইসলামীর দলীয় প্রার্থী না থাকায় বিএনপির প্রার্থীর জন্য নির্বাচনী বৈতরণি পার হওয়া অনেকটা সহজ ছিল। শেষ বেলায় জাতীয় পার্টির প্রার্থীর (জাপা) মনোনয়নপত্র বৈধ হওয়ায় ভোটের সমীকরণ পাল্টে গেছে।
সিংগাইর, হরিরামপুর ও সদর উপজেলার দুই ইউনিয়ন নিয়ে মানিকগঞ্জ-২ আসন। এখানে ভোটার সংখ্যা চার লাখ ৭২ হাজার ৬২২ জন। এই আসনের চার প্রার্থীর বাড়িই সিংগাইর উপজেলায়।
এই আসনে বিএনপির প্রার্থী সাবেক মন্ত্রী শামছুল ইসলাম খানের ছেলে সাবেক এমপি মঈনুল ইসলাম খান, জাতীয় পার্টির প্রার্থী সাবেক এমপি এস এম আব্দুল মান্নান, ১০ দলীয় নির্বাচনী জোটের প্রার্থী খেলাফত মজলিসের মো. সালাউদ্দিন ও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মোহাম্মদ আলী। ভোটারদের মধ্যে বেশি পরিচিতি বিএনপি প্রার্থী ও জাতীয় পার্টির প্রার্থীর।
স্থানীয়দের অভিমত, এই আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে গত ছয় মাস মাঠ চষে বেড়িয়েছেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সভাপতি জাহিদুল। এ সময় তিনি ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে দিয়েছিলেন। জোটের কারণে তিনি প্রার্থী হতে পারেননি। এই আসেন ১০ দলীয় নির্বাচনী জোটের প্রার্থী হয়েছেন মানিকগঞ্জ শহরের কামিল মাদ্রাসার শিক্ষক মো. সালাউদ্দিন। তিনি ভোটারদের কাছে সেই হিসেবে পরিচিত মুখ নন। ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মোহাম্মদ আলীও ভোটারদের কাছে নতুন মুখ।
ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জামায়াতে ইসলামীর দলীয় প্রার্থী না থাকায় ও ঋণখেলাপির কারণে জাতীয় পার্টির প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ায় অনেকটা সুবিধাজনক অবস্থানে ছিলেন বিএনপির প্রার্থী মঈনুল ইসলাম খান। প্রতীক বরাদ্দের আগের দিন উচ্চ আদালতের রায়ে জাতীয় পার্টির প্রার্থী এস এম আব্দুল মান্নানের মনোনয়নপত্র বৈধতা পায়। এতেই পাল্টে গেছে এই আসনের ভোটের সমীকরণ।
বিএনপির প্রার্থী মঈনুল ইসলাম খানের ভরসা তিনি বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত মানিকগঞ্জ-২ আসনের প্রার্থী। এ ছাড়া তাঁর প্রয়াত পিতা সাবেক শিল্পমন্ত্রী সামছুল ইসলাম খানের সময় উপজেলায় যে উন্নয়ন হয়েছে, তা ভোটাররা এখনও মনে রেখেছেন। এসব কারণে তিনি নির্বাচনী বৈতরণি পার হয়ে যাবেন বলে আশা করছেন। এ ছাড়া বিগত সময় নেতাকর্মীদের সবসময় খোঁজখবর রেখেছেন তিনি।
জাতীয় পার্টির প্রার্থী এস এম আব্দুল মান্নানের ভরসা তিনি বিগত সময় এই আসনে মহাজোটের প্রার্থী হয়ে এমপি পদে নির্বাচিত হয়েছিলেন। ওই সময় এলাকায় উন্নয়ন, পদ্মার ভাঙন রোধে ব্যবস্থা ও সিংগাইর-হরিরামপুরে যোগাযোগের জন্য কালিগঙ্গা নদীতে বালিরটেক সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেন। পাশাপাশি আওয়ামী লীগের প্রার্থী না থাকায় এবং বিএনপির দলীয় কোন্দলকে কাজে লাগিয়ে নির্বাচনী বৈতরণি পার হওয়ার আশা করছেন তিনি।
অবশ্য ভিন্নমতও প্রকাশ করেছেন অনেক ভোটার। এই আসনের চার প্রার্থীর বাড়িই সিংগাইর উপজেলায়। এই উপজেলায় চার লাখ ৭২ হাজার ৬২২ ভোটার। এখানে কমবেশি সব প্রার্থী ভোট পাবেন। হরিরামপুর উপজেলা এক লাখ ৪৪
হাজার ৫৯২ জন ও সদরের দুই ইউনিয়নে ৪৮ হাজার ৪৭১ ভোটারের ওপর নির্ভর করছে প্রার্থীর জয়-পরাজয়। হরিরামপুরে ও সদরের দুই ইউনিয়নের ভোট যেদিকে গড়াবে সেই দিকেই জয়ের পাল্লা ভারী হবে।
- বিষয় :
- প্রার্থী
