ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

মদনে আমন বীজের সংকটে বিপাকে কৃষক

মদনে আমন বীজের সংকটে বিপাকে কৃষক
×

ফাইল ছবি সমকাল

মদন(নেত্রকোনা) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৩ আগস্ট ২০২০ | ০৫:০৫

নেত্রকোনার মদনে আমন বীজের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। উপজেলার ৬ ইউনিয়নের ৫শ হেক্টর আমন বীজতলা চলতি বন্যার পানিতে তলিয়ে বিনষ্ট হওয়ায় নতুন করে বীজতলা তৈরি করতে বীজ সংগ্রহে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষক। এছাড়া হাট-বাজারগুলোতে প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারি না থাকার সুযোগে এক শ্রেনির মুনাফালোভী অসাধু ব্যবসায়ীরা বীজের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে অধিক মূল্যে বীজ ধান বিক্রি করছে। অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে উচ্চ দামে বীজ সংগ্রহ করে বীজতলা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। আবার কেউ কেউ বীজ সংগ্রহ করতে না পেরে হন্য হয়ে ঘুরছেন।

বৃহস্পতিবার সরেজমিনে মদন উপজেলার দেওয়ান বাজারে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) এর বীজের সংকট দেখা যায়। বেসরকারি কোম্পানির বীজের আড়ালে ডিলারদের বিএডিসি বীজের ১০ কেজির বস্তা ৩শ টাকার স্থলে ১২শ থেকে ১৩শ টাকায় বিক্রি করতে দেখা যায়। অন্যদিকে বেসরকারি ১০ কেজি বস্তার বীজ বিক্রি করতে দেখা গেছে ৭শ/৯শ টাকায়। অন্যান্য কোম্পানির বীজের মূল্যরও কোনো নিয়ন্ত্রণ দেখা যায়নি বাজারে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি আমন মৌসুমে উপজেলায় ১১ হাজার ৭শ ৮৫ হেক্টর জমিতে আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর জন্য ৫শ ৯৩ হেক্টর বীজতলা তৈরি করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত ৩শ৬২ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরি হয়েছে। সময় মতো বীজ ধান না পেলে অনেক আমন জমি অনাবাদি থেকে যাবে বলে সম্ভবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা। এ পরিস্থিতিতে সরকারের কাছে বন্যা পরবর্তী আমন বীজ সংকট সমাধানের দাবি জানিয়েছেন তারা।

উপজেলার ফতেপুর গ্রামের কৃষক ইঞ্জিল খা, বাগজান গ্রামের আলী আহম্মদ, ভবানীপুর গ্রামের দুলাল মিয়া, বৈঠাখালী গ্রামের ইসলাম উদ্দিন জানান,বাজারে সরকারি ধান বীজ পাওয়া যাচ্ছে না। যা পাওয়া যাচ্ছে তার দাম দুই থেকে তিনগুণ বেশি।  তিনি আরও জানান, বৃহস্পতিবার তারা জসিম ডিলারের দোকান থেকে ১৩শ টাকায় ব্রি-৫২ জাতের বীজ কিনেছেন। বাজারে পর্যাপ্ত বীজ না থাকায় অনেকে বেশি দাম দিয়েও বীজ সংগ্রহ করতে পারছে না বলেও জানান তিনি।

বিএডিসি জসিম বীজ ডিলারের সাইনবোর্ড ব্যবহারকারী বীজ বিক্রেতা মামুন জানান, এক মাস আগেই বিএডিসি চালান দেয়া বীজ শেষ হয়ে গেছে। কৃষকদের চাহিদা পূরণে তাই অন্য জায়গা থেকে বীজ সংগ্রহ করে বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

বিএডিসি ডিলার জসীম জানান, চালানের উত্তোলণকৃত বীজ এক মাস আগেই বিক্রি হয়ে গেছে। তার প্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ড ব্যবহার করে বেশি দামে বীজ বিক্রির খবর পেলে ব্যবস্থা নেবেন বলেও জানান তিনি।

উপজেলা বিএডিসি বীজ ও সার ডিলার সমিতির সভাপতি শামছুল আলম ভূইয়া জানান, উপজেলায় ২৭ জন ডিলার এক মাস আগেই বিএডিসির বীজ বিক্রি করে দিয়েছেন। মদন ও দেওয়ান বাজারে যারা বিএডিসির বীজ বিক্রি করছেন তারা কোনো ডিলার না।

উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা নাজমুল হাছান জানান, এক মাস আগেই আমন বীজের বরাদ্দ শেষ হয়েছে। বন্যায় বীজতলা নষ্ট হওয়ায় বীজ সংকট সৃষ্টি হয়েছে। তবে কেউ যদি উচ্চ মূল্যে বীজ ধান বিক্রি করে এর দায়-দায়িত্ব তাকেই বহন করতে হবে। তিনি বলেন, ১৫ আগষ্ট এর মধ্যে বীজতলা তৈরি করতে না পারলে আমন ফসল ভালো হবে না। তাই কৃষকদের অন্য ফসল চাষের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বুলবুল আহমেদ জানান, বিএডিসির বীজ সংকটের বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে দ্রুতই সমাধানের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।  বিএডিসির বীজ উচ্চ মূল্যে বিক্রির অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান ওই কর্মকর্তা ।

আরও পড়ুন

×