৩৯ বিশিষ্ট নাগরিকের বিবৃতি
বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য অপসারণের চেষ্টার প্রতিবাদে তীব্র ক্ষোভ-নিন্দা
ফাইল ছবি
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৩ জুলাই ২০২৬ | ২০:৫৩ | আপডেট: ২৩ জুলাই ২০২৬ | ২১:৩৩
ঝিনাইদহে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের নির্মাণাধীন ভাস্কর্য অপসারণের চেষ্টার প্রতিবাদে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়েছেন দেশের ৩৯ জন বিশিষ্ট নাগরিক। তারা অবিলম্বে ভাস্কর্যটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পুনঃস্থাপনের দাবি জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে তারা বলেন, ঝিনাইদহ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল সংলগ্ন সড়কের বেদিতে জেলার কৃতী সন্তান বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের একটি ভাস্কর্যের নির্মাণকাজ চলমান ছিল। কিন্তু কোনো ধরনের জনপরামর্শ বা সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই জেলা প্রশাসন সেটি অপসারণের উদ্যোগ নিয়েছে, যা জনমনে গভীর ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর স্বাধীনতাবিরোধী একটি গোষ্ঠী নির্মাণাধীন ভাস্কর্যটিতে ভাঙচুর চালায়। সেটি সংস্কার না করে ভাস্কর্য অপসারণের উদ্যোগ বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের স্মৃতির প্রতি অসম্মান প্রদর্শনের শামিল।
সরকারের পক্ষ থেকে দুর্ঘটনা এড়ানোর যুক্তি তুলে ধরা হলেও, নাগরিক সমাজ ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়া এ ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণকে দায়িত্বজ্ঞানহীন বলে মন্তব্য করেন বিবৃতিদাতারা।
তারা শুধু ঝিনাইদহের ভাস্কর্যটি পুনঃস্থাপনের দাবিই জানাননি, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুর হওয়া বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ভাস্কর্য সংস্কার ও পুনঃস্থাপনেরও দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, মানবাধিকারকর্মী ও মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল, নিজেরা করির সমন্বয়কারী খুশী কবির, নারীপক্ষের সদস্য শিরীন পারভিন হক, লেখক ও সাংবাদিক আবু সাঈদ খান, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ও আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) সভাপতি অ্যাডভোকেট জেড আই খান পান্না, আলোকচিত্রী ড. শহিদুল আলম, এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী ও অ্যাডভোকেট তবারক হোসেন, লেখক রেহনুমা আহমেদ, মানবাধিকারকর্মী মো. নুর খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. সুমাইয়া খায়ের, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সামিনা লুৎফা, নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. জোবাইদা নাসরীন, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস ও গীতি আরা নাসরিন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মির্জা তাসলিমা সুলতানা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তাসনিম সিরাজ মাহবুব, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. নোভা আহমেদ, লেখক ও গবেষক পাভেল পার্থ, নৃবিজ্ঞানী ও গবেষক ড. ঈশিতা দস্তিদার, গবেষক ও অধিকারকর্মী রোজিনা বেগম, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সাবেক সভাপতি কাজল দেবনাথ, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মনীন্দ্র কুমার নাথ, সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক সালেহ আহমেদ, আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মী পারভেজ হাসেম, ডারহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রিসার্চ ফেলো সাদাব নুর, নাগরিক উদ্যোগের প্রধান নির্বাহী জাকির হোসেন, মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী অ্যাডভোকেট সাইদুর রহমান, মানবাধিকারকর্মী সাঈদ আহমেদ, কবি ও প্রাবন্ধিক শাহেদ কায়েস, আদিবাসী কবি ও সংস্কৃতিকর্মী মিঠুন রাফসান, মানবাধিকারকর্মী দীপায়ন খীসা, অধিকারকর্মী মুক্তাশ্রী চাকমা, আদিবাসী অধিকারকর্মী মেইনথিন প্রমীলা, অধিকারকর্মী ড. হানা শামস আহমেদ এবং সাংবাদিক ও গবেষক সায়দিয়া গুলরুখ।
- বিষয় :
- ভাস্কর্য
- বীরশ্রেষ্ঠ