সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৩ জনের সুরতহালে গিয়ে অবরুদ্ধ ওসি ও এসআই, উদ্ধার করল সেনাবাহিনী
রাজশাহী ব্যুরো
প্রকাশ: ২৬ জানুয়ারি ২০২৬ | ১৬:৩৭
রাজশাহীর পুঠিয়ার পোল্লাপুকুর এলাকায় বাস-অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীসহ ৩ জন নিহতের ঘটনায় বেলপুকুর থানার ওসি মো. আরজুন ও এসআই সুবাশ চন্দ্র বর্মনকে কান ধরিয়ে অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয়দের বিরুদ্ধে। দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টা তারা কান ধরে থাকেন। পরে সেনাবাহিনী ও অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে তাদের উদ্ধার করে।
নিহতরা হলেন, পুঠিয়ার বালাদিয়ার গ্রামের ওমর আলীর ছেরেল শান্ত ইসলাম (২২), নগরীর কর্নহার থানার ঠাকুরপাড়ার বেলাল হোসেনের মেয়ে সুমাইয়া আকতার বৃষ্টি (৩০), ও অজ্ঞাত পরিচয়ের (৪৫) এক ব্যক্তি।
জানা যায়, রোববার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে পুঠিয়ার পোল্লাপুকুর এলাকায় রাজশাহীগামী রাজকীয় পরিবহন বিপরীতমুখী একটি অটোরিকশাকে চাপা দিয়ে পালিয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী শান্ত ইসলাম নিহত হন। রামেক হাসপাতালে গিয়ে মারা যান আরও দুজন। পরে বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ও স্থানীয় জনতা ক্ষিপ্ত হয়ে রোববার বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত রাজশাহী-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন। এসময় কয়েক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানযট সৃষ্টি হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে বেলপুকুর থানার ওসি মো. আরজুন ও এসআই সুবাস চন্দ্র বর্মনকে একটি টিনের ঘরে অবরুদ্ধ করে কান ধরিয়ে রাখে ছাত্র-জনতা। পরে খবর পেয়ে সেখানে পুলিশের আরেকটি দল গেলে তাদেরও অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। রাত সাড়ে ৯টার দিকে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা যান অবরুদ্ধ সবাইকে উদ্ধার করতে। এসময় স্থানীয় জনতা পুলিশ ও সেনাবাহিনীকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়তে থাকেন। পরে সেনাবাহিনীর সদস্যরা লাঠিচার্জ করে তাদের রাস্তা থেকে সরিয়ে অবরুদ্ধ পুলিশ সদস্যদের উদ্ধার করেন। পরে রাজশাহী-ঢাকা মহাসড়কে সৃষ্টি হওয়া কয়েক কিলোমিটার যানজট মুক্ত হয়।
নগর পুলিশের মুখপাত্র মো. গাজিউর রহমান সমকালকে বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে বেলপুকুর থানার ওসি মো. আরজুন ও এসআই সুবাস সেখানে যান। তারা মরদেহের সুরতহাল করতে চাইলে স্থানীয় জনতা তাদের অবরুদ্ধ করে। এসময় তারা অভিযোগ করেন, ‘পুলিশ ঘাতক বাসচালককে আটকের পর ছেড়ে দিয়েছে। কিন্তু তাদের অভিযোগটি ছিল ভুল। কারণ অটোরিকশাকে চাপা দিয়ে বাসটি দ্রুত টেনে তিন কিলোমিটার দূরের একটি ফিলিং স্টেশনে যায়। তারপর বাস রেখে চালক পালিয়ে যায়। ততক্ষণে দুর্ঘটনার খবর পুলিশ জানতে পারেনি। কিন্তু একটি গোষ্ঠি বিষয়টিকে ভুলভাবে উপস্থাপন করে পুলিশের দুই সদস্যকে আটকে কান ধরিয়ে রাখে। তাদের ওপর মব সৃষ্টি করে মানষিকভাবে শাস্তি দেয়। পরে তাদের উদ্ধার করতে নগরীর মতিহার জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার আল মামুন, এডিসি মহিবুল ইসলাম ও এসি সোহেল রানার নেতৃত্বে ঘটনাস্থলে পুলিশের আরেকটি দল সেখানে গেলে তাদেরও অবরুদ্ধ করে রাখা হয়।’
এসি সোহেল রানা বলেন, ‘আমাদের লাঞ্ছিত করেনি, তবে আটকে রেখে খারাপ ব্যবহার করা হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘পরে সেখানে সেনাবাহিনী ও পুলিশ গিয়ে রাত সাড়ে ৯টার দিকে আমাদের উদ্ধার করে। এসময় সেনাবাহিনী লাঠিচার্জ করে তাদের মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেয়। এতে যানজট মুক্ত হয়।’ পুলিশের এই কর্মকর্তা জানান, ‘এ ঘটনায় সড়ক দুর্ঘটনার আইনে মামলা হচ্ছে। যারা মব করেছে তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
- বিষয় :
- পুঠিয়া
- সড়ক দুর্ঘটনা
- অবরুদ্ধ
