ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

আদালতের রায় উপেক্ষা করে কয়লা কেনার তোড়জোড়

পটুয়াখালীর আরএনপিএল বিদ্যুৎকেন্দ্র

আদালতের রায় উপেক্ষা করে  কয়লা কেনার তোড়জোড়
×

 সমকাল প্রতিবেদক 

প্রকাশ: ২৭ জানুয়ারি ২০২৬ | ০৭:৪২

| প্রিন্ট সংস্করণ

পটুয়াখালীর আরএনপিএল (আরপিসিএল-নরিনকো) বিদ্যুৎকেন্দ্রের কয়লা সরবরাহে উচ্চ আদালতের রায় উপেক্ষা করে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে (ডিপিএম) কয়লা কেনার তোড়জোড় শুরু করেছে বিদ্যুৎ বিভাগ ও কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ। এর আগে আদালত আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্র (ওটিএম) প্রক্রিয়ায় কারিগরি ও আর্থিকভাবে যোগ্য প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। 

বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে দীর্ঘমেয়াদি কয়লা সরবরাহে গত সাড়ে তিন বছরে চারবার দরপত্র ডেকেও দর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারেনি আরএনপিএল কর্তৃপক্ষ। চতুর্থ দফায় ডাকা আন্তর্জাতিক দরপত্রে সিঙ্গাপুরভিত্তিক ইয়াংথাই এনার্জি কারিগরি ও আর্থিকভাবে যোগ্য বিবেচিত হয়। তবে কোনো যুক্তিসংগত কারণ ছাড়াই দরপত্র বাতিল করে ফের আহ্বানের সিদ্ধান্ত নেয় আরএনপিএল। এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানটি রিট করলে গত ৩০ নভেম্বর উচ্চ আদালত সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা করেন এবং ইয়াংথাই এনার্জির পক্ষে নোটিফিকেশন অব অ্যাওয়ার্ড জারির নির্দেশ দেন। আদালতের এ চূড়ান্ত রায় কার্যকর না করেই ডিপিএম ও স্পট পারচেজ পদ্ধতিতে কয়লা কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সূত্র জানায়, সিঙ্গাপুরভিত্তিক জিনহে গ্লোবাল কমোডিটি সাপ্লাই চেইন নামে প্রতিষ্ঠানের আগ্রহকে কেন্দ্র করে ডিপিএম প্রক্রিয়ায় এগোচ্ছে সরকার। গত ২৪ নভেম্বর প্রতিষ্ঠানটি বিদ্যমান দরে সরাসরি খনি থেকে কয়লা সরবরাহের প্রস্তাব দিয়ে বিদ্যুৎ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বরাবর চিঠি দেয়। পরে ৪ জানুয়ারি ওই চিঠিতে ‘বিষয়টি দেখুন’ লিখে বিদ্যুৎ বিভাগের সচিবকে নির্দেশনা দেওয়া হয়। অথচ প্রতিষ্ঠানটির স্থানীয় প্রতিনিধি রেডসান এগ্রোসিমের (বিডি) কয়লা সরবরাহে কোনো বাস্তব অভিজ্ঞতা নেই।
গত ১০ ডিসেম্বর আরএনপিএলের ৬৮তম বোর্ড সভায় কয়লা কেনার একাধিক সিদ্ধান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। ইন্দোনেশিয়ার খনি থেকে সরাসরি কয়লা আনার সম্ভাবনা যাচাইয়ের সিদ্ধান্ত রয়েছে। এ লক্ষ্যে ছয় সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে, যাদের ইন্দোনেশিয়া সফরের প্রস্তুতি চলছে। 

বিদ্যুৎ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেন, বিষয়টি নিয়ে আদালতে একটি রিট পিটিশিন রয়েছে। বারবার দরপত্র ডেকেও কার্যাদেশ দেওয়া সম্ভব হয়নি। তাই উপায়হীন হয়ে বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু রাখতে অল্প কিছু কয়লা সাময়িক হিসেবে আমদানির অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে।
কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক শামসুল আলম বলেন,  আগের মতোই প্রতিযোগিতা ছাড়াই কয়লা কেনার উদ্যোগ নিচ্ছে। এটা গ্রহণযোগ্য নয়। 

আরও পড়ুন

×