হাতিয়া
সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার ও অস্ত্র উদ্ধার নেই, সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা
ছবি-সংগৃহীত
নোয়াখালী প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ২০:৫৫
নোয়াখালীর মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হাতিয়া উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে নোয়াখালী-৬ আসন গঠিত। দুর্গম এই দ্বীপে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও সন্ত্রাসী বাহিনীর সদস্যরা গ্রেপ্তার না হওয়ায় সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে ভোটার ও প্রার্থীদের মধ্যে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
গত বছর ২৩ ডিসেম্বর উপজেলার সুখচর ইউনিয়নের ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডে মেঘনা নদীতে জেগে ওঠা চর (জাগলার চর) দখল ও জমি বিক্রির অর্থ ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে তিনটি সন্ত্রাসী বাহিনীর মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে সামছু বাহিনীর প্রধান সামছু ও আলাউদ্দিন বাহিনীর প্রধান আলাউদ্দিনসহ ছয়জন নিহত হন। এ ঘটনায় ৫১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও শতাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে দুটি মামলা দায়ের হয়। মামলা দায়েরের দেড় মাসেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী আসামি গ্রেপ্তার ও আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করতে পারেনি।
সংঘর্ষে ব্যবহৃত অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার ও আসামিরা গ্রেপ্তার না হওয়ায় উদ্বেগ জানিয়েছেন ১১ দলীয় জোট প্রার্থী আব্দুল হান্নান মাসউদ ও স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য প্রকৌশলী মোহাম্মদ ফজলুল আজিম। নির্বাচনের আগেই অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান তারা।
নোয়াখালী-৬ আসনের ১১ দলীয় জোট প্রার্থী ও এনসিপির (জাতীয় নাগরিক পার্টি) জ্যেষ্ঠ মুখ্য সংগঠক আবদুল হান্নান মাসউদ বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে হাতিয়া উপজেলায় সন্ত্রাসীরা প্রবেশ করেছেন। সন্ত্রাসীদের মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার কারণে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নষ্ট হয়ে গিয়েছে। ইতোমধ্যে সন্ত্রাসীরা তাঁর লোকজনের ওপর একাধিকবার হামলা করেছে। শাপলা কলির নির্বাচন কার্যালয় ভাঙচুর করেছে। তারা প্রশাসনের কাছে বিষয়গুলো তুলে ধরেছেন। কিন্তু প্রশাসন কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ নিচ্ছে না। এই অবস্থা বজায় থাকলে সুষ্ঠু নির্বাচনের কোনো সম্ভাবনা নেই।
একই আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রকৌশলী মোহাম্মদ ফজলুল আজিম আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ জানিয়ে বলেন, নির্বাচনের বাকি মাত্র এক দিন। কিন্তু হাতিয়া উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও প্রত্যন্ত চরাঞ্চলে দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকা বনদস্যু, জলদস্যু ও সন্ত্রাসী বাহিনী নির্বাচন সামনে রেখে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। এদের আইনের আওতায় আনতে না পারলে সুষ্ঠু নির্বাচন গ্রহণ সম্ভব নয়। তিনি আরও বলেন, বিগত ১৭ বছর উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে ২০টিরও বেশি সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে উঠেছে। সন্ত্রাসীরা যদি নির্বাচনের সময় অবাধে বিচরণ করে এবং নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করে তাহলে কীভাবে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে।
এ বিষয়ে নোয়াখালী পুলিশ সুপার কার্যালয়ের মুখপাত্র ও জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন– অর্থ) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন বলেন, হাতিয়ার জাগলারচরে ৬ খুনের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার আসামিদের গ্রেপ্তার করতে যৌথ বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে। নির্বাচন সামনে রেখে সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে হাতিয়ায় নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড ও পুলিশ যৌথভাবে প্রতিরাতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে।
নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও নোয়াখালী জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, নোয়াখালী-৬ আসনের (হাতিয়া) ভোটারদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। এখানে পর্যাপ্ত পরিমাণে নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড, পুলিশ ও আনসার বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। ছয়জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে যা প্রয়োজন তার সব কিছুই করা হবে। নির্বাচনে কেউ কোনো প্রকার গোলযোগ কিংবা বিশৃঙ্খলার চেষ্টা করলে কঠোর হাতে দমন করা হবে। এই ব্যাপারে কোনো আপস নেই। ভোটাররা যাতে নিরাপদে ও নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারেন তার সব ব্যবস্থা প্রশাসন করেছে।
