ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

আওয়ামী লীগ অফিসের তালা খুলে দেওয়ার ভিডিও ভাইরাল করা উদ্দেশ্যমূলক

বিএনপি নেতা আবু দাউদ

আওয়ামী লীগ অফিসের তালা খুলে দেওয়ার ভিডিও ভাইরাল করা উদ্দেশ্যমূলক
×

সংবাদ সম্মেলনে পঞ্চগড় সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবু দাউদ প্রধান

পঞ্চগড় প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ০৮:০৪

পঞ্চগড়ে আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ের তালা খুলে দেওয়ার ঘটনার ভাইরাল ভিডিও নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবু দাউদ প্রধান। শুক্রবার রাতে জেলা শহরের মিডিয়া হাউসে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘একটি গোডাউন ঘরকে ঘিরে আমাকে বিতর্কিত করার জন্য এ ধরনের ভিডিও ছড়ানো হয়েছে।

আবু দাউদ প্রধান বলেন, ‘আমার পাশে থেকে কে কি বক্তব্য দিয়েছেন, জানি না।’ ভিডিও ছড়ানো উদ্দেশ্যমূলক উল্লেখ করে ঘটনার প্রতিবাদ জানান  তিনি।

শুক্রবার সকালে সদর উপজেলার চাকলাহাট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের অফিস বিএনপি নেতা আবু দাউদ প্রধান খুলে দিয়েছেন উল্লেখ করে তার পাশে দাঁড়িয়ে চাকলাহাট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান বুলেটকে বলতে শোনা যায়, ‘সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি জননেতা আবু দাউদ প্রধান প্রথমে যে কাজটি করেছেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের তথা আওয়ামী লীগের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের প্রাণের সংগঠন চাকলাহাট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগকে তিনি আজ তালামুক্ত অবমুক্ত করেছেন।’

ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেনকে বলতে শোনা যায়, ‘আমাদের নামে মিথ্যা মামলা হয়েছে সেখান থেকে যেন আমাদের রক্ষা করা হয় এই অনুরোধ জানাচ্ছি আমার মামা আবু দাউদ প্রধানের কাছে।’

সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আনিসুজ্জমান স্বপনকে বলতে শোনা যায়, ‘বাংলাদেশের পতাকা ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে যদি কেউ ছিনিমিনি খেলার চেষ্টা করে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এই পরাজিত শক্তিকে আবারও নস্যাৎ করব। দলমত নির্বিশেষে সবাই আমরা এলাকায় থাকতে চাই।’

বিএনপি নেতা আবু দাউদ প্রধানকে বলতে শোনা যায়, ‘কিছুক্ষণ আগে আমি জানলাম আওয়ামী লীগ অফিসে তালা দেওয়া আছে। আগে জানলে আগেই ব্যবস্থা নিতাম। দীর্ঘ ১৮ বছর পর আমাদের বিজয় হয়েছে। স্বাধীনতার উভয়পক্ষের শক্তিগুলো এক হয়ে ম্যান্ডেট দিয়েছে। যার কারণে আমরা রেকর্ড পরিমাণ ভোট পেয়েছি সারাদেশে। আমি উভয়দলের নেতাকর্মীদের বলব, প্রত্যেক দলে কম বেশি দুষ্ট প্রকৃতির লোক আছে। তাদেরকে দল থেকে বহিষ্কারের নিষেধ আছে আমাদের। কোনো অবস্থাতেই আমাদের এলাকার শাস্তি শৃঙ্খলা কেউ যেন ভঙ্গ করতে না পরে। আওয়ামী লীগের ভাইদের উদ্দেশে বলতে চাই, স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের নাগরিক আপনারা। আপনারা কোনো প্রকার অন্যায় করবেন না, আপনাদের গায়ে কেউ যদি কোনো আঁচড় দেয় আমাকে জানাবেন। কোনো অন্যায়কারীকে আমি প্রশ্রয় দেব না।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেন বলেন, ‘এই অফিসটি জামায়াতের লোকেরা তালাবদ্ধ করে রেখেছিল। আজ আমরা আবু দাউদ প্রধানসহ এলাকার অনেক মানুষকে নিয়ে অফিসটি খুলেছি। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা চলছে। এই অফিসটি আপাতত আমরা মুক্তিযোদ্ধারা বসব। আওয়ামী লীগের কোনো কার্যক্রম আপাতত এই অফিস থেকে হবে না।’

সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবু দাউদ প্রধান বলেন, ‘এটা আমার দলের সিদ্ধান্ত নয়। এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে আওয়ামী লীগের অফিস খুলে দিয়েছি। এর আগে জামায়াত এই অফিসটি তালাবদ্ধ করে রেখেছিল।’


আওয়ামী লীগ নেতার এই ভিডিও বক্তব্য দ্রুত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ছড়িয়ে পড়লে পক্ষে-বিপক্ষে বিভিন্নভাবে মন্তব্যের ঝড় উঠে। 

আরও পড়ুন

×