কুড়িগ্রাম-৪
সাত প্রার্থীর লড়াইয়ে ৫ জনের জামানত বাজেয়াপ্ত
চিলমারী (কুড়িগ্রাম) সংবাদদাতা
প্রকাশ: ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ১৬:০১ | আপডেট: ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ১৬:১২
এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুড়িগ্রাম-৪ (চিলমারী, রৌমারী ও রাজিবপুর) আসনে শুধু জয়-পরাজয় নয়, আলোচনায় এসেছে প্রার্থীদের জামানত হারানোর বিষয়টি। সাতজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও তাদের মধ্যে পাঁচজন নির্ধারিত ন্যূনতম ভোট না পাওয়ায় জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। ফলাফল বলছে, ভোটের লড়াই কার্যত সীমাবদ্ধ ছিল দুই প্রধান প্রার্থীর মধ্যেই।
ঘোষিত ফল অনুযায়ী, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. মোস্তাফিজুর রহমান দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৬ হাজার ৩৪৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মো. আজিজুর রহমান ধানের শীষ প্রতীকে পান ৮৩ হাজার ৭৮২ ভোট। ব্যবধান দাঁড়ায় ২২ হাজার ৫৬৫।
তৃতীয় অবস্থানে থাকা স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. রুকুনুজ্জামান বালতি প্রতীকে পান ২০ হাজার ৭২৮ ভোট। অন্যদের মধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী হাতপাখা প্রতীকে ৬ হাজার ১৯০ ভোট পেয়েছেন।
সবচেয়ে আলোচিত ফল এসেছে জাতীয় পার্টির ক্ষেত্রে। একসময় এ আসনটি জাতীয় পার্টির দুর্গ হিসেবে পরিচিত ছিল। কিন্তু এবার লাঙল প্রতীকের প্রার্থী পেয়েছেন মাত্র ২ হাজার ১৯০ ভোট। যেখানে বিজয়ী প্রার্থী পেয়েছেন ১ লাখ ৬ হাজার ৩৪৭ ভোট। এই বিশাল ব্যবধান স্থানীয় রাজনৈতিক বাস্তবতার বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এছাড়া সমাজতান্ত্রিক ধারার দুই প্রার্থী রাজু আহম্মেদ (মার্কসবাদী) কাঁচি প্রতীকে ৩১১ ভোট, শেখ মোহাম্মদ আব্দুল খালেক (বাসদ) মই প্রতীকে পেয়েছেন মাত্র ১৯০ ভোট।
এ আসনে মোট বৈধ ভোট পড়েছে ২ লাখ ১৯ হাজার ৬৯৭। নির্বাচন বিধি অনুযায়ী, মোট বৈধ ভোটের এক-অষ্টমাংশ, অর্থাৎ অন্তত ২৭ হাজার ৪৬২ ভোট না পেলে প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। সে হিসাবে সাত প্রার্থীর মধ্যে পাঁচজনই সেই সীমা অতিক্রম করতে পারেননি।
কুড়িগ্রাম জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসেন সমকালকে বলেন, ‘নির্বাচনী বিধি খুবই স্পষ্ট- মোট বৈধ ভোটের নির্ধারিত অংশ অর্জন করতে না পারলে প্রার্থীর জামানত ফেরতযোগ্য থাকে না। চূড়ান্ত ফলাফল যাচাই-বাছাই শেষে আইন অনুযায়ীই জামানত বাজেয়াপ্তের সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হবে।’
বিশ্লেষকদের মতে, এবার ভোটের মেরুকরণ ছিল স্পষ্ট। ভোটাররা মূলত শক্ত দুই প্রার্থীর মধ্যেই পছন্দ সীমাবদ্ধ রেখেছেন। ফলে প্রতীকের সংখ্যা বেশি হলেও কার্যকর প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল সীমিত। পাঁচ প্রার্থীর জামানত হারানো সেই বাস্তবতারই স্পষ্ট প্রতিফলন।
