ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

মানিকগঞ্জ বার নির্বাচন আজ

পক্ষপাতিত্ব ও রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ এক প্রার্থীর

পক্ষপাতিত্ব ও রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ এক প্রার্থীর
×

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ০৮:০৫

| প্রিন্ট সংস্করণ

মানিকগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির (বার) নির্বাচন আজ বৃহস্পতিবার। এর আগের দিন নির্বাচন ঘিরে অনিয়ম, পক্ষপাতিত্ব ও রাজনৈতিক প্রভাবে প্রতিপক্ষের ১৪ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করার মতো অভিযোগ এসেছে। ১৯৮৪ সালে সমিতির কার্যনির্বাহী পরিষদ প্রতিষ্ঠার পর এবারই প্রথম ১৫টি পদের মধ্যে শুধু সাধারণ সম্পাদক পদে ভোটগ্রহণ  হবে বিএনপি সমর্থিত দুই প্রার্থীর মধ্যে।  
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম মনোনীত প্যানেলের বাইরে শুধু সাধারণ সম্পাদক পদে লড়ছেন বর্তমান কমিটির সাধারণ সম্পাদক বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট আজাদ হোসেন খান। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী আইনজীবী ফোরামের  অ্যাডভোকেট এম এস শফিউল আজম। সমিতি ভবনে আজ  ভোটগ্রহণ চলবে।
গতকাল বুধবার বিকেলে জেলা আইনজীবী সমিতির মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করেন সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী আজাদ হোসেন খান। এ সময় তিনি নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা ও দলীয় নেতৃত্বের অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। 

জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আজাদ হোসেন খান অভিযোগ করেন, যারা বর্তমানে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের নেতৃত্ব দিচ্ছেন তাদের অধিকাংশই বিগত ১৬ বছর সরকারবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন না। তারা দলে ‘হাইব্রিড’। তিনি বলেন, আইনজীবী সমিতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য নির্বাচন কমিশনাররা নিজেরা উপস্থিত থেকে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের প্রার্থীদের মনোনীত করেছেন। এ ছাড়া ভিন্ন রাজনৈতিক দলের সমর্থকদের মনোনয়নপত্র বাতিল করেছেন, যা বারের ইতিহাসে আগে হয়নি।
সংবাদ সম্মেলনে ছিলেন বিগত নির্বাচনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার অ্যাডভোকেট একেএম কায়সার। তিনি বলেন, এবারের নির্বাচন বারের ইতিহাসকে কলঙ্কিত করেছে। আওয়ামী মনোভাবাপন্ন কয়েকজন আইনজীবী সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ বিভিন্ন পদে মনোনয়নপত্র কিনে জমা দিলেও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ও বিভিন্ন অজুহাতে তাদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। এতে তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার ক্ষুণ্ন হয়েছে। 

জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট খলিলুর রহমান এই নির্বাচনকে হযবরল আখ্যা দিয়ে বলেন, এটি একটি পরিকল্পিত প্রহসনের নির্বাচন। তিনি সর্বদলীয় অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য পুনঃতপশিলের দাবি জানান। মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া বিএনপি ঘরানার আইনজীবী বারের সাবেক সহসভাপতি অ্যাডভোকেট শামছুল হক বলেন, তিনি সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী ছিলেন। কিন্তু তাঁর প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে। আপিল করা হলেও তাঁর প্রার্থিতা বহাল করা হয়নি। নির্বাচন কমিশনার স্বেচ্ছাচারিতা করেছেন।
সূত্র জানায়, সভাপতি পদে আওয়ামী ঘরানার অ্যাডভোকেট নুরুজ্জামান ও সাধারণ সম্পাদক পদে অ্যাডভোকেট রৌশন আলম মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু সেগুলো বাতিল হয়ে যায়। 
যোগাযোগ করা হলে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সভাপতি ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার অ্যাডভোকেট মো. মেজবাউল হক মেজবা এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, যেসব প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়েছে তা অতীতের নির্বাচনী ফরমেট অনুযায়ী হয়েছে। মনোনয়নপত্রে প্রার্থী, প্রস্তাবক ও সমর্থকের স্বাক্ষর ও নাম লেখার বিধান ছিল। যাদের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে তাদের কারও স্বাক্ষর ছিল কিন্তু নাম ছিল না। আবার কারও নাম ছিল, স্বাক্ষর ছিল না। এসব কারণে ১৪ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। এ ছাড়া একজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেন। তিনি আরও বলেন, সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে আওয়ামী লীগ সমর্থক আইনজীবীরা প্রার্থী হয়েছিলেন, আমরা তাদের চিহ্নিত করেছি। নানা কারণে তাদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী বাতিল প্রার্থীদের জন্য আপিলের কোনো সুযোগ নেই বলেও জানান তিনি।

মেজবাউল হক মেজবা আরও বলেন, আজাদ হোসেন খান দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে দলীয় ফোরাম থেকে তাঁকে শোকজ করা হচ্ছে। এ ছাড়া বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম প্যানেলের ১৪ প্রার্থীর মধ্যে আজাদ হোসেন খানের স্ত্রী সানজিদা রহমান সহসভাপতি হিসেবে মনোনীত হয়েছেন। নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে কমিশন সব প্রস্তুতি নিয়েছে। এবার ৬১৪ ভোটার শুধু সাধারণ সম্পাদক পদে ভোট প্রদান করবেন।
অন্য দুই নির্বাচন কমিশনার হলেন নারী ও শিশু বিশেষ আদালতের পিপি হুমায়ুন কবির ও আব্দুল আওয়াল।

আরও পড়ুন

×