ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

বৃদ্ধ রিকশাচালকের মুখে হাসি ফোটালেন চা দোকানি

বৃদ্ধ রিকশাচালকের মুখে হাসি ফোটালেন চা দোকানি
×

অটোরিকশায় বসে আছেন চালক এরশাদ মিয়া। পাশে দাঁড়িয়ে আলমগীর হোসেন সমকাল

মুরাদনগর (কুমিল্লা) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ০৮:৩৬

| প্রিন্ট সংস্করণ

চা বিক্রি করে সংসার চালান আলমগীর হোসেন। বৃদ্ধ অটোরিকশাচালকের দুরবস্থা দেখে বসে থাকতে পারেননি এই যুবক। বাড়িয়ে দিয়েছেন সাহায্যের হাত। নিজের উপার্জনের টাকা দিয়ে অটোরিকশা মেরামত করে পরিবারটির মুখে হাসি ফুটিয়েছেন তিনি।

আলমগীর হোসেন মুরাদনগর উপজেলা সদরের গোমতী মার্কেটের চা দোকানি। চা বিক্রির আয়ে চলে যার সংসার, সেই মানুষটিই অন্যের কষ্ট দেখলে ব্যাকুল হয়ে পড়েন। অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোকে নিজের নৈতিক দায়িত্ব মনে করেন। তাঁর ভাষ্য, মানুষকে সহযোগিতা করতে পারলেই আত্মতৃপ্তি পান তিনি।
কয়েকদিন আগে চা বিক্রির সময় তাঁর চোখে পড়ে একটি জরাজীর্ণ অটোরিকশা। খোঁজ নিয়ে তিনি জানতে পারেন, দিলালপুর গ্রামের ৭২ বছর বয়সী অটোরিকশাচালক এরশাদ মিয়ার একমাত্র উপার্জনের মাধ্যম সেটিই। অটোরিকশা ভাঙাচোরা হওয়ায় ঠিকমতো ভাড়া পান না তিনি। অথচ তাঁর উপার্জনেই চলে পুরো পরিবারের ভরণপোষণ।
এরশাদ মিয়ার দুই ছেলে থাকলেও কেউই উপার্জনক্ষম নয়। বড় ছেলে ১৪ বছর বয়সী আরাফাতুল ইসলাম স্থানীয় একটি মাদ্রাসার হিফজ বিভাগে পড়াশোনা করছে। ছোট ছেলে রিফাতুল ইসলামের বয়স মাত্র ১১ বছর।

বৃদ্ধ চালকের দুরবস্থা দেখে বসে থাকেননি আলমগীর হোসেন। দুই সহযোগীর সহায়তায় নিজের চা বিক্রির প্রায় ৮ হাজার টাকা খরচ করে অটোরিকশাটি মেরামত করে নতুন রূপ দেন। ফলে আগের তুলনায় এখন ভালো ভাড়া পাচ্ছেন এরশাদ মিয়া।
স্থানীয়রা জানান, আলমগীর হোসেন আগেও বিভিন্ন মানবিক সংগঠনের মাধ্যমে নিজের উপার্জনের একটি বড় অংশ অসহায় মানুষের জন্য ব্যয় করেছেন।
 

আরও পড়ুন

×