ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

ট্রাকে টিসিবির পণ্য

চাঁপাইনবাবগঞ্জে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম

চাঁপাইনবাবগঞ্জে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম
×

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে টিসিবির ট্রাক সেলের মাধ্যমে পণ্য কিনতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের দীর্ঘ সারি। জেলার পাঁচ উপজেলায় ট্রাকে পণ্য বিক্রি হলেও প্রতিদিন শূন্য হাতে ফিরে যাচ্ছেন অনেকে। গতকাল শনিবার দুপুরে উপজেলা পরিষদ চত্বরে সমকাল

 চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি 

প্রকাশ: ০১ মার্চ ২০২৬ | ০৭:৫৯

| প্রিন্ট সংস্করণ

শিবগঞ্জ পৌর এলাকার দেওয়ানজাইগীর গ্রামের মর্জিনা খাতুন শনিবার টিসিবির ট্রাক থেকে পাঁচ ধরনের পণ্য কেনার আশায় লাইনে দাঁড়ান। সকালে সব কাজ ফেলে লাইন ধরেন উপজেলা পরিষদ চত্বরে ট্রাকের সামনে। সাত ঘণ্টা পর বিকেলে পেলেন বহু প্রত্যাশিত সেসব পণ্য। তবে তাঁর শাশুড়ি আসমা ফিরলেন খালি হাতে। শুধু আসমা নন; এদিন ৩০ জন ফিরে গেছেন কোনো পণ্য না পেয়ে। 
টিসিবির ট্রাক সেলে নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষের দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে। জেলার পাঁচ উপজেলায় ট্রাকে পণ্য বিক্রি হলেও প্রতিদিনই শূন্য হাতে ফিরে যাচ্ছেন অনেক মানুষ। উপজেলা পরিষদ চত্বরে লাইনে দাঁড়িয়ে পণ্য না পাওয়া গৃহবধূ আসমা জানান, ট্রাকে পণ্য বিক্রির বিষয়ে ছেলের বাড়ি থেকে খবর পেয়ে এসেছেন। লাইনে দাঁড়ালেও তিন ঘণ্টা পর খালি হাতে ফিরতে হলো তাঁকে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন জানান, চালাকি করে একই পরিবারের দু-তিনজন লাইনে দাঁড়িয়ে পণ্য নিচ্ছে। ব্যাপক প্রচারণা না থাকায় শহরের বেশির ভাগ মানুষ জানতে পারছে না এ সেবার কথা। তারপরও অনেক মানুষ পণ্য না পেয়ে ফিরে গেছেন।

সোনামসজিদ বন্দরের এক আমদানিকারকের কর্মচারী আহাদ বলেন, অমোচনীয় কালি লাগানোয় একজনের দুবার নেওয়া বন্ধ হলেও যে পরিবারের সদস্য বেশি ও বেকার, তারা পণ্য একাধিকবার নিচ্ছে। অথচ তাঁকে ফিরতে হলো খালি হাতে।
এদিন দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত উপজেলা পরিষদ চত্বরের একটি পয়েন্টে ৪০০ জনের জন্য ট্রাকে করে পাঁচ ধরনের পণ্য বিক্রি করা হয়। আগের দিন শাহবাজপুর ইউনিয়নে একই পরিমাণ পণ্য বিক্রি করা হলেও সেখানে পণ্য না পেয়ে ফিরে যান ৫৩ জন। একজন ৫৯০ টাকার প্যাকেজে এক কেজি চিনি (৮০ টাকা), দুই কেজি মসুর ডাল (১৪০ টাকা), দুই লিটার ভোজ্যতেল (২৩০ টাকা), এক কেজি ছোলা (৬০ টাকা) এবং আধা কেজি খেজুর (৮০ টাকা) কিনতে পারছেন। 
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, শিবগঞ্জ, গোমস্তাপুর নাচোল ও ভোলাহাটে একজন করে ডিলার প্রতিদিন মোট দুই হাজার কেজি পণ্য বিক্রি করেন। প্রতি উপজেলায় কোন ইউনিয়নে কোন দিন পণ্য বিক্রি করা হবে, তা আগের দিন বিকেলে সংশ্লিষ্ট ডিলারকে জানিয়ে দেওয়া হয়। প্রচারণা না থাকায় অনেকের মধ্যে রয়েছে ক্ষোভ।

আরও পড়ুন

×