বেতন-বোনাস না দিয়ে মিল বন্ধ, সড়ক অবরোধ
মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন উত্তরা স্পিনিং মিলের শ্রমিকরা সমকাল
মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৬ মার্চ ২০২৬ | ০৯:১৭
| প্রিন্ট সংস্করণ
শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-বোনাস না দিয়ে মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই এলাকার উত্তরা স্পিনিং মিলস লিমিটেড বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এর প্রতিবাদে গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন শ্রমিকরা। খবর পেয়ে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও স্থানীয় বিএনপি নেতারা গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। তারা মালিক পক্ষের সঙ্গে কথা বলে বেতন-বোনাস পরিশোধের আশ্বাস দিলে অবরোধ তুলে নেন শ্রমিকরা।
জানা গেছে, গোড়াই এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল সড়কের পাশে উত্তরা স্পিনিং মিলস লিমিটেড। মিলের গ্যাস সংযোগ বন্ধ, কাঁচামাল সংগ্রহ করতে না পারা এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা না পাওয়ায় তিন মাস ধরে উৎপাদন বন্ধ রাখা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার কারখানাটি চালু করার কথা ছিল। সকালে শ্রমিকরা গিয়ে কারখানার প্রধান ফটকে তালা দেখেন এবং মিল বন্ধের নোটিশ দেখতে পান। তখন কারখানার তিন শতাধিক শ্রমিক প্রধান ফটকের সামনে বিক্ষোভ করতে থাকেন। একপর্যায় বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা ঢাকা-টাঙ্গাইল সড়ক অবরোধ করেন। এতে টাঙ্গাইলের দিকে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। খবর পেয়ে মির্জাপুর সেনা ক্যাম্পের মেজর হাফিজ, মির্জাপুর থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন এবং উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক খন্দকার আনোয়ার পারভেস শাহআলম ঘটনাস্থলে হাজির হন। তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মালিক পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। মালিক পক্ষ ঈদের আগে বেতন-বোনাস পরিশোধের আশ্বাস দিলে শ্রমিকরা তাদের অবরোধ তুলে নিয়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি স্থগিত করেন।
কারখানার শ্রমিক তাসলিমা আক্তার, শামসুন্নাহার, সহকারী প্রকৌশলী তোষার শীল জানান, বৃহস্পতিবার কারখানা চালুর কথা থাকলেও সকালে প্রধান ফটকে তালা দেওয়া এবং বন্ধের নোটিশ দেখা যায়। এ সিদ্ধান্ত কোনো শ্রমিক-কর্মচারী আগে থেকে জানতেন না। কর্তৃপক্ষ দুই মাসের বেতন ও বোনাস না দিয়ে এ রকম সিদ্ধান্ত নেওয়ায় হতবাক তারা।
উত্তরা স্পিনিং মিলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অঞ্জলীলাল মেদীর মোবাইল ফোনে কল দিলেও রিসিভ না করায় তাঁর বক্তব্য জানা যায়নি। পরে কথা হয় কারখানার নিরাপত্তা কর্মকর্তা আব্দুছ সাত্তার মন্ডলের সঙ্গে। তাঁর ভাষ্য, তিন মাস ধরে লে অফ (সাময়িক উৎপাদন বন্ধ) চলছিল। বৃহস্পতিবার কারখানা খোলার কথা ছিল। কর্তৃপক্ষ কারখানা বন্ধের নোটিশ দিয়েছে। এজন্য কিছু শ্রমিক সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন। মালিক পক্ষের সঙ্গে কথা বলে সেনাবাহিনী, পুলিশ, স্থানীয় বিএনপি নেতারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছেন।
মির্জাপুর থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, শ্রমিকদের বিক্ষোভের খবর পেয়ে সেনা ক্যাম্পের মেজর হাফিজ, সেনা সদস্য ও পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। মালিক পক্ষের সঙ্গে কথা বলে বেতন-বোনাস পরিশোধের কথা বলার পর শ্রমিকরা বিক্ষোভ ও অবরোধ স্থগিত করেন।
- বিষয় :
- সড়ক অবরোধ
