বোরো নিয়ে দুশ্চিন্তা, স্বস্তির বৃষ্টির সঙ্গে বাঁধের অস্বস্তি
জগন্নাথপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১০ মার্চ ২০২৬ | ০৯:৪৪ | আপডেট: ১০ মার্চ ২০২৬ | ১১:২৬
| প্রিন্ট সংস্করণ
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে খরার কারণে বোরো ফসল ঘিরে শঙ্কার মেঘ কেটে গেছে স্বস্তির বৃষ্টিতে। তবে বাঁধের কাজ শেষ না হওয়ায় টানা বৃষ্টি শুরু হলে ঢলের ভয়ে আছেন কৃষক।
রোববার রাত ১টার দিকে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মৌসুমের প্রথম বৃষ্টি হয়। এতে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন স্থানীয় কৃষকরা। বৃষ্টি না হাওয়ায় মরতে থাকা বোরো ফসলে ফিরেছে নতুন প্রাণ।
এদিকে, বৃষ্টিতে স্বস্তি ফিরলেও অস্বস্তি আছে হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি বাঁধের কাজের নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলে এখনও কাজ শেষ হয়নি। বর্ধিত সময়েও শেষ হবে কিনা, তা বলা কঠিন। জগন্নাথপুরের সর্ববৃহৎ নলুয়া হাওরের ১১ নম্বর প্রকল্পে এখনও মাটি কাটার কাজ সম্পন্ন হয়নি। তবে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বাঁধের কাজের আরও ১৫ দিন সময় বাড়ানো হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে কাজ হয়ে যাবে।
জগন্নাথপুর পৌরসভার হবিবপুর গ্রামের কৃষক মুমেন মিয়া বলেন, বর্তমানে জমিতে ধানের ছড়া বা থোড় আসার সময়। এই সময়ে ধানের গোড়ায় পর্যাপ্ত পানির প্রয়োজন; কিন্তু হাওরে পানি সংকট ও বৃষ্টি না হওয়ায় ধানের চারা মরে যাচ্ছিল। বৃষ্টিতে ফসলের প্রাণ ফিরেছে।
চিলাউড়া গ্রামের কৃষক জুবায়ের মিয়া বলেন, তীব্র রোদে কয়েক দিন ধরে জমি ফেটে চৌচির। পানির অভাবে অনেক জায়গায় ধানগাছ লালচে বর্ণ ধারণ করতে শুরু করেছিল। ঠিক এমন সময় এই বৃষ্টি কৃষকদের দুশ্চিন্তা দূর করে মুখে হাসি ফুটিয়েছে। তবে হাওরে বাঁধের কাজ এখনও শতভাগ শেষ না হওয়ায় কিছুটা অস্বস্তি দেখা দিয়েছে।
জগন্নাথপুরের দায়িত্বে থাকা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী শেখ ফরিদ বলেন, বৃষ্টিতে ফসল রক্ষা বাঁধের কোনো ক্ষতি হয়নি। হাওরের একটি বাঁধে মাটি ভরাটের কাজ এখনও শেষ হয়নি। তবে কাজ চলমান।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কাওসার আহমেদ বলেন, এ সময় বৃষ্টি হওয়া ফসলের জন্য খুবই প্রয়োজন ছিল। সঠিক সময়ে এ বৃষ্টি হওয়ায় ফসল ভালো হবে। এ বছর ২০ হাজার ৪২৩ হেক্টর জমিতে বোরো ধান রোপণ করা হয়েছে।
- বিষয় :
- বোরো মৌসুম
- জগন্নাথপুর
- সুনামগঞ্জ
