‘আমার বুকের ধন চইলা গেল, আপনারা ওরে ফিরায়া দেন’
সজীব
সমকাল ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ মার্চ ২০২৬ | ০৪:১১
পাঁচ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে হেরে গেল ছুরিকাঘাতে কলিজা বের হওয়া কিশোর সজীব। শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। ফোনে বিষয়টি নিশ্চিত করে আর্তনাদ করতে থাকেন তার বাবা ফারজান মিয়া। একই সময় তাঁর পাশে থাকা সন্তানহারা সুফিয়া বেগমের বুকফাটা চিৎকার শোনা যায়। তিনি বলছিলেন, ‘আমার বুকের ধন চইলা গেল, আপনারা ওরে ফিরায়া দেন।’
সমকালের পক্ষ থেকে পাঁচ দিন ধরে নিহত সজীবের বাবা-মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছিল। শনিবার দুপুরেও ফারজান মিয়ার সঙ্গে কথা হয়। তখন তিনি জানান, সজীব ভালো নেই। প্রচণ্ড শ্বাসকষ্ট হচ্ছে। এরপর বেলা আড়াইটার দিকে ফোন করলে মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়।
শেরপুরের নকলা উপজেলার টালকী ইউনিয়নের বিবিরচর গ্রামের ঘটনা। একটি ফোন হারানোকে কেন্দ্র করে গত ১০ মার্চ ১৪ বছর বয়সী সজীব স্থানীয় যুবক রাহাতের প্রতিহিংসার শিকার হয়। রাহাত একই গ্রামের রিয়াজ উদ্দিনের ছেলে। ওইদিন রাত সাড়ে ১০টার দিকে তাকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে প্রথমে নেশাদ্রব্য খাওয়ায়। পরে নকলা উপজেলা সদরের বাইপাস সড়কের পাশে নিয়ে দুটি ছুরি দিয়ে সজীবের বুক চিরে কলিজা বের করে ফেলে রাহাত ও তার সঙ্গীরা। এই ঘটনায় নকলা থানায় মামলা করেছেন ভুক্তভোগীর বাবা। পাঁচ দিনেও ধরাছোঁয়ার বাইরে আসামিরা।
সজীবের মৃত্যুতে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন নকলার বিএনপি নেতা আহসান হাবিব রুবেল। ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘দোষটা কার? পরিবারের অবহেলা, সমাজের নীরবতা, নিয়ন্ত্রণহীন প্রযুক্তি, মাদকের বিস্তার, নাকি কিশোর গ্যাং সংস্কৃতি। সজীব আমার ছেলের বয়সী। কী লিখব, ভাষা নেই। এ হত্যা সমাজের জন্য বড় সতর্কবার্তা।’
নকলা থানার ওসি রিপন চন্দ্র গোপের ভাষ্য, তিনজনের নামে মামলা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
দোহারে নারীকে হত্যা
ঢাকার দোহার উপজেলায় মলি আক্তার নামে এক নারীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। শনিবার ভোরে আন্তা বাগেরকাঁচা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। মলি আক্তার ওই গ্রামের বাদশা বাবুর্চির মেয়ে।
স্বজনরা জানান, শনিবার ভোরে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে মলি ঘর থেকে বের হলে কে বা কারা তাঁকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। তাঁর চিৎকারে স্বজনরা গিয়ে তাঁকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। পরে লাশটি মর্গে পাঠানো হয়েছে।
দোহার থানার ওসি আবু বকর সিদ্দিক জানান, হত্যার কারণ ও জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
শ্রীপুরে ৩ খণ্ড লাশ
গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভার চন্নাপাড়া এলাকায় নারীর তিন খণ্ড লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার দুর্গন্ধের উৎস খুঁজতে গিয়ে একটি ডোবায় কচুরিপানার নিচ থেকে খণ্ডিত অংশগুলো উদ্ধার করেন স্থানীয়রা। ভুক্তভোগীর পরিচয় জানা যায়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা নাজমুল হাসান জানান, এলাকাটি ঘনবসতিপূর্ণ হওয়ায় অন্য কোথাও ওই নারীকে হত্যার পর লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে খণ্ডিত অংশগুলো ডোবায় ফেলে রাখা হয়েছে।
শ্রীপুর থানার ওসি মোহাম্মদ নাছির আহমদ জানান, ভুক্তভোগীর পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে। খণ্ডিত অংশগুলো মর্গে পাঠানো হয়েছে।
প্রতিবেদন তৈরিতে তথ্য দিয়েছেন জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধিরা।
