ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

বেঁচে থেকেও সরকারি খাতায় ‘মৃত’ তিন বছর

ভাতা বঞ্চিত মমিনা বেগম

বেঁচে থেকেও সরকারি খাতায় ‘মৃত’ তিন বছর
×

মমিনা বেগম

ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৭ মার্চ ২০২৬ | ০৮:৩০

| প্রিন্ট সংস্করণ

দিনাজপুরের ফুলবাড়ী পৌর এলাকার তেঁতুলিয়া গ্রামের ৮৯ বছরের মমিনা বেগম। তিন বছর ধরে বয়স্কভাতা পাচ্ছেন না। কারণ, তিনি জীবিত থাকলেও সরকারি নথিতে তাঁকে ‘মৃত’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। একজন জনপ্রতিনিধির দায়িত্বহীন সুপারিশ এবং যথাযথ তদন্ত ছাড়াই সমাজসেবা দপ্তরের এমন কর্মকাণ্ডে ব্যাপক অর্থকষ্টে দিন কাটছে এই বৃদ্ধার।
স্থানীয়রা এই দায়িত্বহীনতার জন্য সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

জানা গেছে, ২০২৩ সালের আগস্ট মাসে উপজেলা সমাজসেবা অধিদপ্তর ভাতাভোগীদের তথ্য যাচাই শুরু করে। সে সময় মমিনা বেগম জীবিকার তাগিদে ঢাকায় অবস্থান করছিলেন। 
তাঁকে বাড়িতে না পেয়ে তৎকালীন সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর বাবলী আরা কোনো খোঁজখবর না নিয়েই মমিনা বেগমকে ‘মৃত’ দেখিয়ে পৌর মেয়রের কাছে সুপারিশ পাঠান। 
সেই সুপারিশের ভিত্তিতেই সমাজসেবা দপ্তর মমিনা বেগমকে মৃত হিসেবে তালিকাভুক্ত করে তাঁর বয়স্কভাতা বন্ধ করে দেয়।
ঢাকা থেকে ফিরে মমিনা বেগম সমাজসেবা কার্যালয়ে যোগাযোগ করলে জানতে পারেন, সরকারি কাগজে তিনি মৃত। এরপর পৌরসভা ও সমাজসেবা দপ্তরে একাধিকবার ধরনা দিলেও কোনো কাজ হয়নি। 
পরে বর্তমান প্রশাসনের তদন্তে তিনি ‘জীবিত’ প্রমাণিত হন এবং পৌর প্রশাসক তাঁকে একটি প্রত্যয়নপত্রও দেন। সেই প্রত্যয়নপত্র জমা দেওয়ার পরও আজ পর্যন্ত তাঁর ভাতা চালু হয়নি।
মমিনা বেগমের পুত্রবধূ আমিনা বেগম জানান, তাঁরা অত্যন্ত দরিদ্র। শাশুড়ির ওষুধ ও খাবারের খরচ জোগাতে হিমশিম খাচ্ছেন। সরকারি এই ভাতাই ছিল তাঁর চিকিৎসার একমাত্র ভরসা। মমিনা বেগম আক্ষেপ করে বলেন, ‘আর কয়দিন বাঁচব জানি না। ভাতার টাকাটা পেলে অন্তত ওষুধগুলো কিনে খেতে পারতাম। টাকার অভাবে তাও পারছি না।’

এ বিষয়ে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা সানোয়ার হোসেন সমকাল প্রতিবেদককে জানান, পৌরসভার পাঠানো কাগজের ভিত্তিতেই সার্ভারে তাঁকে মৃত দেখানো হয়েছিল। তবে বিষয়টি এখন সংশোধন করা হয়েছে। নতুন বরাদ্দ এলে পুনরায় তাঁর ভাতা চালু করা হবে।
পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, তৎকালীন মহিলা কাউন্সিলর বাবলী আরার ভুল সুপারিশের কারণেই এই জটিলতা তৈরি হয়েছে। অভিযুক্ত কাউন্সিলরের মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

আরও পড়ুন

×