ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

আদিবাসী পরিবারকে উচ্ছেদচেষ্টা

মধুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন মানবাধিকার কর্মীদের

মধুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন মানবাধিকার কর্মীদের
×

মধুপুরের চাঁদপুরের পূর্ব ধরাটি গ্রাম পরিদর্শনে সিটিজেনস ফর হিউম্যান রাইটসের প্রতিনিধিরা সমকাল

 সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৭ মার্চ ২০২৬ | ০৯:১২ | আপডেট: ১৭ মার্চ ২০২৬ | ১১:১৭

| প্রিন্ট সংস্করণ

টাঙ্গাইলের মধুপুরে গারো আদিবাসী নারী-শিশুদের ওপর হামলা ও উচ্ছেদচেষ্টার ঘটনা পরিদর্শন করেছেন সিটিজেনস ফর হিউম্যান রাইটসের প্রতিনিধিরা। সোমবার তারা ঘটনাস্থল মধুপুরের চাঁদপুরের পূর্ব ধরাটি গ্রাম পরিদর্শন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় প্রতিনিধি দলের সদস্যরা ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

গত ৯ মার্চ মধুপুরের চাঁদপুরে বন শিল্প উন্নয়ন করপোরেশনের আওতাধীন রাবারবাগান কর্তৃপক্ষ ওই এলাকায় বসবাসকারী একটি গারো পরিবারকে উচ্ছেদের চেষ্টা করে। ঘটনার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তীব্র সমালোচনা হয়।

প্রতিনিধি দলে ছিলেন সিপিবির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, লেখক ও গবেষক আলতাফ পারভেজ, নাগরিক উদ্যোগের প্রধান নির্বাহী জাকির হোসেন, মানবাধিকার কর্মী দীপায়ন খীসা, আদিবাসী যুব ফোরাম সভাপতি টনি ম্যাথিউ চিরান, ব্লাস্টের টাঙ্গাইলের আইনজীবী শামসিন্নাহার লিজা, আদিবাসী যুব ফোরামের আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক সতেজ চাকমা প্রমুখ।

পরিদর্শনকালে আরও উপস্থিত ছিলেন ৪ নম্বর কুরাগাছা ইউনিয়নের সদস্য অর্চনা নকরেক, জয়েনশাহী উন্নয়ন পরিষদের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মর্নিংটন চিরান, ওই সংগঠনের ধরাতি শাখার সাধারণ সম্পাদক চন্দন চিরান প্রমুখ। 

ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, ‘আমরা এসেছি আপনাদের সংকটে পাশে দাঁড়াতে। আপনারা যেন এখানে স্থায়ীভাবে টিকে থাকতে পারেন তার জন্য আমরা পাশে আছি। একটা ইতিবাচক বিষয় হলো, এই ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন তৎক্ষণাৎ রেসপন্স করেছে। আমরা তাদের ধন্যবাদ জানাই। আমরা আশা করব, এরকম ঘটনা যেন আর কোথাও ঘটতে না পারে তার জন্য স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, প্রশাসনসহ সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।’ 

নাগরিক উদ্যোগের প্রধান নির্বাহী জাকির হোসেন বলেন, ‘আমরা এই প্রথম দেখলাম প্রশাসন একটা ইতিবাচক ও দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে। অভ্যুত্থানের পরের বাংলাদেশে প্রশাসনের এরকম উদ্যোগ দেখে ভালো লাগল। তবে কোনো নাগরিক যেন এভাবে আক্রান্ত না হয় এবং ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, তার জন্য প্রশাসনকে আরও সতর্ক থাকতে হবে।’

লেখক ও গবেষক আলতাফ পারভেজ বলেন, ‘প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপকে আমরা স্বাগত জানাই। তবে কেন এই পদক্ষেপ নেওয়ার পর্যায়ে চলে যাবে তাও আমাদের সজাগ থাকতে হবে। রাষ্ট্রের কোনো নাগরিককে যেন এভাবে হয়রানি করা না হয়। আর এখানে যারা গারো, কোচ, বর্মণ আদিবাসীরা আছেন তাদের মধ্যে ঐক্য গড়ে তুলতে হবে।’ 

আরও পড়ুন

×