ঢাকা শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

বাঘায় কাজে আসছে না ‘ভিক্ষুকমুক্ত’ ঘোষণা

বাঘায় কাজে আসছে না ‘ভিক্ষুকমুক্ত’ ঘোষণা
×

বাঘা (রাজশাহী) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৮ মার্চ ২০২৬ | ০৮:০৯

| প্রিন্ট সংস্করণ

এক সময় রাজশাহীর বাঘাকে ‘ভিক্ষুকমুক্ত উপজেলা’ ঘোষণা করা হলেও বর্তমানে হাট-বাজার, বাসাবাড়ি, মসজিদ ও মাজারের সামনে ভিক্ষুকের দীর্ঘ সারি দেখা যাচ্ছে। ঈদকে উপলক্ষে তাদের আনাগোনা অস্বাভাবিক হারে বেড়ে গেছে। বিত্তবানদের জাকাত-ফিতরা ও দান-খয়রাত পাওয়ার আশায় পেশাদার ভিক্ষুকদের পাশাপাশি অনেক অভাবী মানুষও এই মৌসুমে পথে নেমেছেন।
রোববার বাঘার শাহী মসজিদ ও মাজার এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, প্রবেশপথের দুই ধারে সারি বেঁধে বসে আছেন অর্ধশতাধিক ভিক্ষুক, যাদের বেশির ভাগই নারী। তাঁদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রমজান মাসে মানুষের দানশীলতা বাড়ায় তাঁদের দৈনিক আয় ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত হয়। স্থানীয় ভিক্ষুকদের পাশাপাশি চাটমোহর, লালপুর–এমনকি রংপুর থেকেও অনেকে এসে এখানে ভিড় করছেন। বহিরাগত এসব ভিক্ষুক রাত কাটাচ্ছেন মাজার কিংবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বারান্দায়।

সুফিয়া খাতুন, কাদের মিয়াসহ বেশ কয়েকজন ভিক্ষুক অভিযোগ করেন, তাঁরা ঠিকমতো সরকারি সুবিধা পান না। অনেকে ভিজিএফের চাল থেকেও বঞ্চিত হয়েছেন। এর উল্টো চিত্রও আছে। প্রতিবন্ধী ভাতা পান এমন অনেককেও ভিক্ষা করতে দেখা গেছে। ভিক্ষুক শেফালি খাতুন জানান, ভিক্ষার জমানো ৪০ হাজার টাকা আগে মসজিদে দান করেছেন এবং এবারও মাদ্রাসা ও এতিমখানায় দান করার ইচ্ছা পোষণ করেছেন। এক কাঠা জমির ওপর তাঁর আধাপাকা টিনশেড ঘর রয়েছে।

৫ বছর আগে বাঘাকে ভিক্ষুকমুক্ত করার ঘোষণা দিয়ে পুনর্বাসন কার্যক্রম শুরু হয়েছিল। ২০২০ সালে কয়েকজন ভিক্ষুককে ছাগল, ভ্যানগাড়ি, সেলাই মেশিন ও মুদি দোকান দেওয়া হয়। তদারকির অভাবে তাঁদের অনেকেই পুরোনো পেশায় ফিরে এসেছেন। 
বাজু বাঘা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান খন্দকার মনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘দারিদ্র্য ও পারিবারিক অবহেলার কারণে অনেকে এই পথে নামেন। তবে সাহায্যের নামে অনেক সময় বিরক্তি বা অত্যাচারের পর্যায়ে চলে যায় এই ভিক্ষাবৃত্তি।’
বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাম্মী আক্তার বলেন, ‘উপজেলায় আগেকার পুনর্বাসন কার্যক্রমের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। তবে সরকারের এই মহৎ উদ্যোগ যাতে সফল হয় এবং ভিক্ষুকরা যেন সম্মানের সঙ্গে বাঁচতে পারেন, সে বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হবে।’

আরও পড়ুন

×