ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

তিন মাসের কাজ শেষ হয়নি চার বছরেও

তিন মাসের কাজ শেষ  হয়নি চার বছরেও
×

মির্জাপুরের সিংজুরী বিলের সেতু থেকে বর্ধনপাড়া পর্যন্ত নির্মাণাধীন রাস্তা সমকাল

মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৮ মার্চ ২০২৬ | ০৮:১৫

| প্রিন্ট সংস্করণ

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলায় তিন মাসের কাজ চার বছরেও শেষ করতে পারেননি ঠিকাদার। ভাতগ্রাম ইউনিয়নের সিংজুরী বিলের সেতু থেকে উয়ার্শী ইউনিয়নের বর্ধনপাড়া পর্যন্ত ৮০০ মিটার রাস্তার পাকাকরণ কাজ এখনও শেষ হয়নি। এতে ওই এলাকা ও আশপাশের প্রায় ১০ গ্রামের মানুষকে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালের এপ্রিল মাসে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় রাস্তাটি পাকাকরণের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়। কাজটি পায় ঢাকার উত্তরা এলাকার মেসার্স জে এস এন্টারপ্রাইজ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। প্রায় ৮৩ লাখ টাকা ব্যয়ে রাস্তার কাজটি একই বছরের ১ আগস্ট মাসে শেষ করতে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। সে সময় ঠিকাদার রাস্তাটি উঁচু করতে কিছু জায়গায় মাটি ভরাট করে ফেলে রাখেন। এতে স্থানীয়দের দুর্ভোগ শুরু হয়। পরবর্তীকালে কাজের সময় বৃদ্ধি ও থেকে থেকে কিছু কাজ করলেও ঠিকাদার আজও সড়কটি শেষ করতে পারেননি।
এদিকে নির্ধারিত সময় পার হওয়ার আড়াই বছরেরও বেশি সময় পর গত বছরের ৯ মার্চ প্রকল্প পরিচালক মোল্লা মিজানুর রহমান স্বাক্ষরিত এক পত্রে টাঙ্গাইলের স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলীকে ঠিকাদারের পারফরম্যান্স সিকিউরিটি বাজেয়াপ্ত করাসহ চুক্তি বাতিলের অনুমোদন করেন। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে তা বাস্তবায়ন হয়নি। 

সরেজমিন দেখা যায়, প্রায় দুই মাস আগে ঠিকাদারের লোকজন রাস্তাটিতে বালু ফেলতে দুই পাশে আধা ফুট করে উঁচু রেখে মাঝখানে আড়াই থেকে তিন ফুট করে কেটে গর্ত করে রাখে। কিছু অংশে বালু ফেললেও তা সমান করা হয়নি। আর কিছু অংশে বালু ফেলে সমান করা হয়েছে। এতে মানুষের চলাচলে সমস্যা হচ্ছে।
বর্ধনপাড়া গ্রামের বাসিন্দা তৌফিক হাসান জানান, রাস্তাটি দিয়ে বর্ধনপাড়া, চুহাত্তর, নিলজা, রোয়াইল, অষ্টমৈসাসহ আশপাশের অন্তত ১০ গ্রামের মানুষ যাতায়াত করে থাকেন। এই রাস্তায় স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়, মির্জাপুর সদরের মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ ও হাসপাতালে লোকজন যাতায়াত করে। রাস্তার কাজ শুরু করার আগে রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স চলত। কৃষকরা উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত করতেন এই পথে। রাস্তাটি আগে নিচু থাকলেও ভালো ছিল। পাকা করার অজুহাতে এলাকাবাসীকে ঠিকাদার যে কতটুকু দুর্ভোগে ফেলেছেন, তার সীমা নেই। রাস্তাটির কাজ শেষ করতে তিনি স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিবের কাছে লিখিত আবেদন করেছিলেন। কিন্তু তাতে লাভ হচ্ছে না।

রাস্তাটি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মতিউর রহমান নামে সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক। তাঁর দাবি, রাস্তাটি তাদের ব্যাপক দুর্ভোগে ফেলেছে। যাতায়াতে সমস্যার কারণে আয় কমে গেছে।
যোগাযোগ করলে ঠিকাদার সুমন আলী বলেন, ‘আমরা টাঙ্গাইলে আটটি কাজ পেয়েছিলাম। মির্জাপুরের দুটি কাজের মধ্যে একটি শেষ পর্যায়ে। বর্ধনপাড়া রাস্তার কাজ দ্রুত শেষ করতে বালু ভরাট শেষ করা হয়েছে। ঈদের পর পাকা করা হবে।’
মির্জাপুর উপজেলা প্রকৌশলী মনিরুল সাজ রিজনের ভাষ্য, এলাকাবাসীর দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে ঠিকাদারকে দ্রুত রাস্তার কাজ করতে বলা হয়েছে। তিনি পুনরায় কাজ শুরু করেছেন।

আরও পড়ুন

×