ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

কলার মোচা উঁচিয়ে ট্রেন থামালেন নির্মাণ শ্রমিক, দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পঞ্চগড় এক্সপ্রেসের

কলার মোচা উঁচিয়ে ট্রেন থামালেন নির্মাণ শ্রমিক, দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পঞ্চগড় এক্সপ্রেসের
×

ছবি-সমকাল

পার্বতীপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি 

প্রকাশ: ২৩ মার্চ ২০২৬ | ১৯:৫১

লাল কাপড় না পেয়ে রেললাইনের ধার থেকে সংগৃহীত কলার মোচা উঁচিয়ে ট্রেন থামালেন এক নির্মাণ শ্রমিক। তার উপস্থিত বুদ্ধিতে নিশ্চিত দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পেলেন আন্তঃনগর এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রীরা। 

সোমবার সকাল ৬টা ৫০ মিনিটে রিবামপুর-ফুলবাড়ী স্টেশনের মাঝামাঝি চন্ডিপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

ট্রেনের লোকোমাস্টার তহিদার রহমান জানান, তিনি ঢাকা থেকে পঞ্চগড় এক্সপ্রেস নিয়ে পঞ্চগড়ের দিকে যাচ্ছিলেন। সঙ্গে ছিলেন সহকারী লোকো মাস্টার আসাদুজ্জামান খান। ট্রেনটি জয়পুরহাট ছেড়ে পরবর্তী গন্তব্য পার্বতীপুরের উদ্দেশ্যে ছুটছিল। বিরামপুর স্টেশন পার হয়ে কিছু দূর যাওয়ার পর তিনি লক্ষ্য করেন, রেললাইনের মাঝখানে দাঁড়িয়ে এক ব্যক্তি লাঠির মাথায় লাল রঙের কিছু একটা নিয়ে ট্রেন থামার জন্য সংকেত দিচ্ছিলেন। এ দৃশ্য দেখে তিনি ৮২ কিলোমিটার গতিতে থাকা ট্রেনটি দাঁড় করাতে সক্ষম হন। ইঞ্জিন থেকে নেমে দেখেন রেললাইনের ৯ ইঞ্চির মতো একটি অংশ ভেঙে পড়ে আছে। পরে রেললাইন মেরামত শেষে ৪০ মিনিট বিলম্বে ট্রেনটি ছেড়ে আসে। 

তিনি বলেন, ট্রেনটি না থামানো গেলে নিশ্চিত দুর্ঘটনার কবলে পড়তে হতো। 

ট্রেনের লোকোমাস্টার ট্রেন থামানো ব্যক্তির ছবি দিতে পারলেও পরিচয় দিতে পারেননি। পরে ছবির সূত্র ধরে সমকালের অনুসন্ধানে ওই ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তার নাম মো. এনামুল ইসলাম। বাড়ি দিনাজপুর জেলার বিরামপুর উপজেলার পলিপ্রাকপুর ইউনিয়নের চন্ডিপুর গ্রামে। তিনি মৃত ফজলুল হকের ছেলে। পেশায় তিনি নির্মাণ শ্রমিকের সহকারী।

নির্মাণ শ্রমিক এনামুল হক সমকালকে জানান, তিনি ফজরের নামাজের পর রেললাইনের ধার দিয়ে হাঁটছিলেন। হঠাৎ তার চোখে পড়ে রেললাইনের একটি বড় অংশ ভেঙে পড়ে গেছে। কি করতে হবে ভেবে পাচ্ছিলেন না। হাতের কাছে কোনো লাল কাপড়ও ছিল না। পাশে পড়ে থাকা কলার মোচার লাল অংশ লাঠির মাথায় বেঁধে উঁচিয়ে ধরেন। এটি লোকোমাস্টারের নজরে আসলে ট্রেনটি দাঁড়িয়ে যায়।

পার্বতীপুর প্রকৌশল অফিস সূত্রে জানা যায়, পার্বতীপুর ও হিলি সেকশনের মধ্যে ২৪ কিলোমিটার রেলপথ খুবেই ঝুকিপূর্ন। এর মধ্যে হিলি সেকশনে ১২ কিলোমিটার, পার্বতীপুর সেকশনে ৬ কিলোমিটার ও ডিও সেকশনে রয়েছে ৬ কিলোমিটার রেলপথ। পশ্চিম রেলে গত এক বছরে শতাধিক রেললাইন ভাঙার ঘটনা ঘটলেও শুধু হিলি সেকশনেই রেল ভাঙার ঘটনা ঘটেছে ৬২ বারের বেশি। 

পার্বতীপুর রেলওয়ের উপ-সহকারী প্রকৌশলী শেখ আল আমিন বলেন, পুরাতন রেলের কারণে বারবার দুর্ঘটনা ঘটছে। গত ২০ অক্টোবর হিলি স্টেশনের কাছে চিলাহাটি ট্রেনকে বঁচিয়েছেন এক ইট ভাঁটা শ্রমিক। রেললাইন ভাঙার খবর পেলেই ক্ষতিগ্রস্ত অংশ কেটে ফেলে ফিসপ্লেট লাগিয়ে রেল পথ সচল করা হচ্ছে। এতে স্লিপারও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বড় ধরনের দুর্ঘটনার আতঙ্কে থাকতে হয় আমাদের। তিনি ট্রেনের দ্রুত গতিকেও লাইন ভাঙার একটি কারণ বলে মনে করেন।

পার্বতীপুর রেল বিভাগের ঊর্ধ্বতন-সহকারী প্রকৌশলী রাকিব হাসান বলেন, পার্বতীপুর-সান্তাহার পথের ২৪ কিলোমিটার পথে রেললাইন ভাঙার ঘটনা এখন নিত্যদিনের ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। ১৯৪৩ সালে নির্মিত রেললাইন এখনো ব্যবহার করা হচ্ছে ওই পথে। ৯০ পাউন্ডের রেললাইন গুলো অনেক আগেই মেয়াদ উর্ত্তীর্ণ হয়ে গেছে।  ১২০ পাউন্ডের রেললাইন বসানো হলে লাইন ভাঙা রোধ করা সম্ভর হবে। বিষয়টি নিরসনে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। তারা প্রযোজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।

আরও পড়ুন

×