নির্দিষ্ট সময়ের ৩ সপ্তাহ পরেও ৫০ ভাগ কাজ বাকি
নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও এখনও সম্পন্ন হয়নি তাহিরপুরে মাটিয়ান হাওরের আলমখালি বাঁধের কাজ সমকাল
তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৫ মার্চ ২০২৬ | ০৭:৫৪
| প্রিন্ট সংস্করণ
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণকাজের সময়সীমা ২৮ ফেব্রুয়ারি পেরিয়ে গেছে। এরপর কেটে গেছে অতিরিক্ত তিন সপ্তাহ। তবে এখনও মাটিয়ান হাওরের আলমখালি ক্লোজারে কাজ বাকি ৫০ ভাগ।
সম্প্রতি বৃষ্টি ও নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় মাটিয়ান হাওরতীরের কৃষকরা আলমখালি ক্লোজার বাঁধের কাজ সম্পন্ন না হওয়ায় শঙ্কায় পড়েছেন। বাঁধ এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, দুর্মুস ছাড়াই বাঁধের ওপর মাটি এলামেলোভাবে পড়ে আছে। তাহিরপুর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, মাটিয়ান হাওরে এ বছর ১০ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষাবাদ হয়েছে।
মাটিয়ান হাওর উন্নয়ন কমিটির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম বলেন, মাটিয়ান হাওরের ঝুঁকিপূর্ণ আলম খালি ক্লোজার বাঁধটি মাটির কাজ এখনও শেষ হয়নি। বাঁধে বাঁশ, বস্তা ও জিওব্যাগের কাজ নিয়ে বার বার অনুরোধ করার পরও পাউবোর কর্মকর্তারা কোনো গুরুত্ব দেননি। বাঁধের উচ্চতা বৃদ্ধি ও স্লোপে মাটি ফেলতে হবে। হাওরের সাইটে অবশ্যই বাঁশের প্যালাসাইটিং করতে হবে। নদীর দিকে জিওটেক্স বস্তা দিতে হবে জরুরি ভিত্তিতে।
অপরদিকে জামলাবাজ বাঁধের বিষয়ে তিনি জানান, নদীর বাঁধে পেটিবাঁধ দিতে হবে। বাঁধের পেছনে বাঁশের প্যালাসাইটিং এবং বাঁধের সামনে বাধ্যতামূলক জিওট্যাক্স/বস্তা জরুরি ভিত্তিতে দেওয়ার পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। ধরুন্দ বাঁধে নামমাত্র মাটি ফেলে আস্তরণ দেওয়া হয়েছে। বাঁধ বিগত বছরের চেয়ে অনেক নিচু রয়েছে। নিচু স্থানগুলোতে উচ্চতা বাড়াতে হবে।
মাটিয়ান হাওরের পাঁচনালিয়া বাঁধের বিষয়ে সিরাজুল ইসলাম বলেন, পাঁচ নালিয়ার বাঁধের স্থায়ী ব্লক বসানোর কাজ চলছে মন্থর গতিতে। তাছাড়া নির্মাণকাজের যথাযথ ডিজাইন অনুসরণ করা হচ্ছে না বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ রয়েছে। জিও ব্যাগের বস্তায় নামমাত্র মাটি দেওয়া হচ্ছে। দ্রুত পানি আসার আগেই পূর্বদিকের ব্লকের কাজ শেষ করতে হবে। পশ্চিম দিকে ব্লকের গোড়ায় বাঁধের ওপর দিয়ে পানি গড়ালেও যেন গোড়া থেকে মাটি সরে না যায় সেজন্য ব্যবস্থা নিতে হবে।
হাওর বাঁচাও আন্দেলনের সাধারণ সম্পাদক তুজাম্মিল হক নাসরুম বলেন, মাটিয়ান হাওরের আলমখালি ক্লোজার বাঁধের কাজ খুবই দুর্বল। নদীতে পানি এলে যে কোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তিনি আরও জানান, কোনো বাঁধেই নির্মাণকাজের কোনো সাইনবোর্ড নেই। এ বিষয়ে তিনি পাউবোর কর্মকর্তাদের কাছে জানতে চাইলে তারা বলেন, সাইনবোর্ড চোরে নিয়ে গেছে। আবার কখনও বলেন ট্রাকের ধাক্কায় পড়ে গেছে।
পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি কাসমির রেজা বলেন, তিনি সোমবার সরেজমিন আলমখালি ক্লোজার বাঁধটি পরিদর্শন করে দেখেছেন। নির্মাণকাজ নির্দিষ্ট সময় থেকে তিন সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও ৫০ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বাঁধটি বর্তমানে যে অবস্থায় রয়েছে তা খুবই নাজুক। নদীর পানি বেড়ে গেলে সামান্য পানির চাপেই বাঁধটি ভেঙে মাটিয়ান হাওরের সব বোরো ফসল তলিয়ে যাবে।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. মনির হোসেন বলেন, আলমখালি ক্লোজার বাঁধটি নির্মাণকাজের জন্য পিআইসি আহ্বান করলেও যথাসময়ে কোনো আবেদন পড়েনি। যে কারণে ফেব্রুয়ারি মাসের ২০ তারিখ কাজটি শুরু করা হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রতি তিন ঘণ্টা পর পর পানির পরিমাপ করছে। বর্তমানে পানি কমতির দিকে রয়েছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আলমখালি ক্লোজার বাঁধটির কাজ সম্পন্ন করা হবে।
আলমখালী ক্লোজার বাঁধের প্রকল্প সভাপতি শাহ আলম বলেন, এ কাজটি শুরুতে উপজেলা কমিটি আহ্বান করলেও কোনো আবেদন জমা পড়েনি। পরে কমিটি তাঁকে দিয়ে কাজটি করাচ্ছে। শুরুতে কাজের অগ্রগতি ভালো ছিল। কিন্তু বৃষ্টির কারণে কিছুদিন কাজ করা যাচ্ছিল না। তা ছাড়া ভেকু মেশিনও তিন দিন বিকল ছিল। যে কারণে কাজটি উঠাতে বিলম্ব হচ্ছে। তবে কাজটি দ্রুত সময়ের মধ্যেই শেষ করবেন বলে তিনি জানান।
- বিষয় :
- রাস্তা
