ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

বিয়ের আগের দিন সড়ক দুর্ঘটনায় বরের মৃত্যু, কনের বাড়িতে মাতম

বিয়ের আগের দিন সড়ক দুর্ঘটনায় বরের মৃত্যু, কনের বাড়িতে মাতম
×

সংগৃহীত

সমকাল ডেস্ক

প্রকাশ: ২৫ মার্চ ২০২৬ | ১৮:০৪ | আপডেট: ২৫ মার্চ ২০২৬ | ১৮:৩৪

সোমবার (২৩ মার্চ) ছিল অন্তরা খাতুনের জীবনের শ্রেষ্ঠ দিন। লাল বেনারসি পরে বধূ সেজে নতুন সংসারে পা রাখার কথা ছিল তাঁর। কিন্তু বিয়ের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে সব আনন্দ মাটি হয়ে গেল এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায়। কনের বাড়িতে যখন বিয়ের সানাই বাজার কথা, তখন সেখানে চলছে মাতম। যে বরকে বরণ করার কথা ছিল, সেই বর প্রকৌশলী জুলফিকার ইসলাম জিল্লুর রহমান জিল্লু এখন কবরের বাসিন্দা।

নিহত জিল্লুর পরিবার জানায়, বিয়ের অনুষ্ঠানের জন্য বোন জামাইকে আনতে প্রাইভেটকার চালিয়ে যাচ্ছিলেন জিল্লু। পথে বনপাড়া গড়মাটি কলোনি রোডে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাড়িটি গাছের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে দুমড়েমুচড়ে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, গাড়ির গতিবেগ অনেক বেশি থাকায় ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। জিল্লু পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার দাশুড়িয়া নওদাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আনসারুল মুন্সির ছোট ছেলে।

রাজশাহীর বাঘা উপজেলার চণ্ডীপুর বড় ছয়ঘটি গ্রামের মৃত আলাউদ্দীনের মেয়ে অন্তরা খাতুন। অন্যের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করে মা এবং রাজমিস্ত্রির কাজ করে বড় ভাই তিল তিল করে বড় করেছেন অন্তরাকে। বর্তমানে তিনি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ইন্টার্নশিপ করছেন। ভালোবাসার মানুষ প্রকৌশলী জিল্লুর সঙ্গে বিয়ে ঠিক হলে দুই পরিবারেই বইছিল আনন্দের জোয়ার।

শনিবার রাতে ধুমধাম করে অন্তরার গায়ে হলুদ সম্পন্ন হয়। বরপক্ষ এসে কনেকে মিষ্টিমুখ করিয়ে যায়। পরদিন সকালে প্রথা অনুযায়ী কনেকে ক্ষীর খাওয়ানোর কথা ছিল। কিন্তু সকাল ৮টায় খবর আসে, নাটোর-পাবনা মহাসড়কের বনপাড়া এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় জিল্লু প্রাণ হারিয়েছেন। মুহূর্তেই উৎসবের বাড়িতে পড়ে শোকের ছায়া। খুলে ফেলা হয় ডেকোরেটরের প্যান্ডেল।

বুধবার পর্যন্ত নিহত বরের বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন অন্তরা। যেন এখনও বিশ্বাস করতে পারছেন না– জিল্লু আর নেই। তাঁর বাড়ির দরজায় এখন তালা ঝুলছে। স্বজনদের কান্নায় ভারি হয়ে উঠেছে এলাকার বাতাস। অন্তরার চাচি রোজিনা বেগম ডুকরে কেঁদে উঠে বলেন, ‘সব আয়োজন ঠিক ছিল, শুধু মানুষটা আর ফিরল না।’

ডেকোরেটর মালিক হৃদয় আহমেদ ভারাক্রান্ত মনে জানান, ‘আমার সাজানো প্যান্ডেলে বসে কনে ক্ষীর খেয়েছেন, আর সেই প্যান্ডেল আজ আমার নিজের হাতেই চোখের জলে খুলে ফেলতে হলো।’

বনপাড়া হাইওয়ে পুলিশের ওসি মো. মনিরুজ্জামান জানান, আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে এ দুর্ঘটনা শুধু একটি প্রাণ কেড়ে নেয়নি; চুরমার করে দিয়েছে এক অদম্য মেধাবীর সাজানো স্বপ্নকে।

আরও পড়ুন

×