ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

চালক না সহকারী, কে ছিলেন আসনে

চালক না সহকারী, কে ছিলেন আসনে
×

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পদ্মায় তলিয়ে যাওযা বাস উদ্ধার করছে উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা। বুধবার রাতে ৩ নম্বর ফেরিঘাটে সমকাল

রাজবাড়ী প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৭ মার্চ ২০২৬ | ০৯:৫৭

| প্রিন্ট সংস্করণ

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ায় পদ্মা নদীতে যাত্রীবাহী সৌহার্দ্য পরিবহনের (রাজবাড়ী হ ১১-০০২৪) বাসডুবির কারণ সম্পর্কে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। বাস কর্তৃপক্ষ দুর্ঘটনার জন্য পরোক্ষভাবে বিআইডব্লিউটিসি কর্তৃপক্ষকে দায়ী করেছে। তবে প্রাণে রক্ষা পাওয়া যাত্রী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যে উল্টো তথ্য পাওয়া গেছে। বাসের এক যাত্রীর ভাষ্য, হঠাৎ করেই চালকের সহকারী বাসটি চালু করায় নদীতে তলিয়ে যায়। যদিও মালিকপক্ষের দাবি, বাসটির চালকের আসনে চালকই ছিলেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বাসটির চালকের নাম আরমান আলী (৩১)। তিনি রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার বাসিন্দা। তাঁর মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। তাঁর সঙ্গে ছিলেন সহকারী আলিম। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার হলেও তাঁর খোঁজ মেলেনি।

এই বাসের পেছনের আসনে ছিলেন রাজবাড়ী সদর উপজেলার দাদশী গ্রামের বাসিন্দা রাজীব সরদার। তিনি বলেন, বাসটি পন্টুনের সামনে ফেরির অপেক্ষায় ছিল। এ সময় কয়েকজন যাত্রী চা খেতে নামেন। তিনি চালককেও নামতে দেখেছেন। 
রাজীব সরদারের দেওয়া তথ্যমতে, ওইপার থেকে আসা ফেরিটি আনলোড করার পর বাসের হেলপার বাসটি স্টার্ট দেয়। তখনই ভারসাম্য হারিয়ে বাসটি পানিতে পড়ে যায়। তিনি বাসের পেছনের আসনে ছিলেন। তাঁর সামনে কয়েকজন শিশু ছিল। পানিতে ডুবে যাওয়ার পর জানালা ধরে বের হন। তখন তাঁর ঘাড়ে-পিঠে দুজন উঠে দাঁড়ায়। পরে কোন জায়গা দিয়ে কীভাবে বের হয়েছেন, মনে নেই। 
রাজবাড়ীর গান্ধীমারা বাসস্ট্যান্ড থেকে সৌহার্দ্য পরিবহনের বাসটিতে ওঠা এক যাত্রী (৩০) বলেন, তিনি যখন ওঠেন বাসের কোনো সিট খালি ছিল না। যাত্রীদের মধ্যে ৮-১০ জন শিশু ও ১৫ জন নারী ছিলেন। বাকিরা পুরুষ। 

দুর্ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, বাসটি ঘাটের পন্টুনে উঠে ফেরির জন্য অপেক্ষা করছিল। বাসটি যখন পন্টুনে আসে, তখন একটি ফেরি পুরো ভর্তি করে ছেড়ে যায়। এর ১০-১৫ মিনিট পর একটি ফেরি এসে তিন-চারটি গাড়ি আনলোড করে। তিনি তিন-চার মিনিট আগে নেমে ফেরিটির পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তখনও বাসের ইঞ্জিন চালু ছিল। হঠাৎ করে দেখেন বাসটি পন্টুনের কাছে চলে আসছে। তিনি বাসের সামনে যাবেন কিনা ভাবতে ভাবতেই দেখেন বাসের সামনের চাকা পানির ওপরে। পেছনের চাকা ওপরে উঠে গেছে। বাসটি লম্বালম্বি ঘুরে নিচে পড়ে গেল। ওই সময় তিনজনের মতো যাত্রী বাইরে ছিলেন। 
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী অটোরিকশাচালক শামসুদ্দিন বলেন, তিনি যাত্রীর অপেক্ষা করছিলেন। একটি ছোট ফেরি এসে পন্টুনে ভেড়ার পর দুটি বাস ফেরি থেকে নামে। তখন সৌহার্দ্য বাসের হেলপার চালকের আসনে বসে বাসটি চালু করেন। এরপরই বাসটি রানিংয়ে এসে উল্টে নদীতে পড়ে যায়।
এ বিষয়ে সৌহার্দ্য পরিবহনের রাজবাড়ী কাউন্টারের ব্যবস্থাপক সিরাজ আহমেদ বলেন, তাদের বাসটির নিয়মিত সুপারভাইজার ছুটিতে। চালক আরমান আলী ও হেলপার আলিম ছিলেন বাসে। এর মধ্যে চালকের মৃতদেহ পাওয়া গেছে। হেলপার আলিমের খোঁজ পাননি। 

সৌহার্দ্য পরিবহনের মালিক আক্তারুজ্জামান হাসানের ভাষ্য, তাদের বাসটি পন্টুনে উঠতে পারলেও প্রথম ফেরিটি পায়নি। পরের ফেরির জন্য পন্টুনে অপেক্ষা করছিল। তখনই একটি ফেরি জোরে এসে পন্টুনে ধাক্কা দেওয়ায় বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে ডুবে যায়। বিআইডব্লিউটিসি যদি সিরিয়াল মেইনটেইন ঠিকভাবে করত, তবে এমন ঘটনা ঘটত না বলেও মনে করেন তিনি।
তাঁর ভাষ্য, ফেরিতে যে কয়টি গাড়ি ধরবে, সে কয়টি গাড়ি ছাড়লে এমন ঘটনা ঘটতো না। তাঁর বাসের ফিটনেস ছিল। লাইসেন্সধারী চালক আরমান আলীকে আনুমানিক এক বছর আগে নিয়োগ 
দেন। ওই চালকই গাড়ি চালাচ্ছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি।
বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া ঘাট শাখার সহকারী মহাব্যবস্থাপক মো. সালাউদ্দিনের মোবাইল ফোনে কয়েক দফায় কল দিলেও তিনি ধরেননি। যে কারণে তাঁর বক্তব্য জানা যায়নি। রাজবাড়ী বিআরটিএ’র সহকারী পরিচালক (ইঞ্জি.) মুহাম্মদ অহিদুর রহমানের ভাষ্য, দুর্ঘটনাকবলিত বাসটিকে ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে ফিটনেস সনদ দেওয়া হয়। বাসটির রুট পারমিটও ছিল।

আরও পড়ুন

×