দৌলতদিয়ায় বাসডুবি
পন্টুন সরিয়ে মেলেনি মরদেহ, উদ্ধার অভিযান চলবে
আহত-নিহত মিলিয়ে ৪০ যাত্রীর খোঁজ মিলেছে
গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৯ মার্চ ২০২৬ | ০৮:০২ | আপডেট: ২৯ মার্চ ২০২৬ | ০৮:৪৩
| প্রিন্ট সংস্করণ
রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ৩ নম্বর ফেরিঘাটে বাসডুবির ঘটনায় চতুর্থ দিনের মতো উদ্ধার অভিযান চালানো হয়েছে। শনিবার বিকেল পর্যন্ত চলে অভিযান। এদিন দুর্ঘটনাস্থলের ফেরিঘাট পন্টুনটি স্থানান্তর করে কোনো মরদেহ মেলেনি। এ ছাড়া কেউ নিখোঁজ আছে বলে প্রশাসনের কাছে তথ্য নেই।
উদ্ধারকারী দল ও স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ফায়ার সার্ভিস, নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের ডুবুরি দল যৌথভাবে এ উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করছে। দীর্ঘ সময় পার হয়ে যাওয়ায় মরদেহ স্রোতের সঙ্গে ভেসে যাওয়ার আশঙ্কায় সম্ভাব্য সব স্থানে তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। উদ্ধার অভিযানের অংশ হিসেবে গতকাল ফেরিঘাটের পন্টুন সরিয়ে নদীর তলদেশে তল্লাশি চালানো হয়েছে। তাতেও কোনো ফল পাওয়া যায়নি।
উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা জানান, ঘটনাস্থলে আর কোনো মরদেহ পাওয়ার আশঙ্কা নেই। কারণ যেভাবে তল্লাশি করা হয়েছে, তাতে এ এলাকায় আর কোনো কিছু নেই।
সৌহার্দ্য পরিবহনের ৪৬ আসনের বাসটি নদীতে পড়ে যাওয়ার সময় কতজন যাত্রী ছিল, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। বেঁচে যাওয়া একাধিক যাত্রী দাবি করেছিল, বাসটিতে ৫০ থেকে ৫৫ জন যাত্রী ছিল। সেখানে আহত-নিহত মিলিয়ে এখন পর্যন্ত মোট ৪০ জন যাত্রীর খোঁজ মিলেছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলেছে সমকালের এই প্রতিবেদক।
আবুল হোসেন, সাখাওয়াত মিয়া, আকরাম হোসেনসহ অনেকেই জানান, দুর্ঘটনার শিকার বাসটি ৩ নম্বর ফেরিঘাটের সংযোগ সড়কে এসে ১০ থেকে ১৫ মিনিট দাঁড়িয়ে ছিল। সেখানে বেশ কিছু যাত্রী বিভিন্ন প্রয়োজনে নেমে যায়। এটা ফেরিঘাটের অনেকটা স্বাভাবিক ব্যাপার। যে কারণে হিসাব মেলানো কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখন পর্যন্ত নিহত ২৬ জনের মধ্যে ১৭ জনই নারী-শিশু। এতে ধারণা করা যায়, বেশ কিছু পুরুষ যাত্রী বিভিন্ন কারণে আগেই বাস থেকে নেমে গিয়েছিল।
গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাথী দাস জানান, প্রশাসনের কাছে এখন পর্যন্ত রাজবাড়ীর কালুখালী ও বালিয়াকান্দি উপজেলার দুজন নিখোঁজের তথ্য ছিল। কালুখালী উপজেলার নিখোঁজ ব্যক্তিকে ঢাকায় পাওয়া গেছে। পরিবারের সদস্যরা নিশ্চিত করেছেন, তিনি অন্য বাসে ঢাকায় চলে গেছেন। বালিয়াকান্দি উপজেলার ওই ব্যক্তির নিখোঁজের তথ্য নিশ্চিত না। কারণ ইটভাটার এই শ্রমিক যে ওই বাসের যাত্রী ছিল, তার সঠিক কোনো তথ্য নেই। উদ্ধার অভিযান শনিবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলমান ছিল। আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে।
- বিষয় :
- বাস দুর্ঘটনা
