ড্রেনেজ অব্যবস্থাপনায় পৌরবাসীর ভোগান্তি
সুনামগঞ্জের ছাতক পৌরসভার বাসা-বাড়ির ময়লা ড্রেনের কালো পানি রাস্তায় গড়িয়ে পড়ছে। এতে ভোগান্তি বাড়াচ্ছে এলাকাবাসীর। সম্প্রতি ৭ নম্বর ওয়ার্ডের শাহজালাল আবাসিক এলাকায় সমকাল
ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০২ এপ্রিল ২০২৬ | ০৭:৪০
| প্রিন্ট সংস্করণ
বছরের পর বছর নানা দুর্ভোগে ভুগছেন ছাতক পৌরসভার নাগরিকরা। পৌরসভা হিসেবে কাগজে-কলমে পরিচিতি পেলেও পৌর অঞ্চলের সার্বিক নাগরিক সেবা এখনও নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। এমনটাই অভিযোগ স্থানীয়দের।
পৌর এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলা এবং অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা পৌর এলাকার সবচেয়ে বড় দুর্ভোগের কারণ। এ ছাড়া বিপর্যস্ত যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণেও ভোগান্তি বাড়াচ্ছে।
দুর্বল ও অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই পানিবন্দি হয়ে পড়েন পৌরসভার বাসিন্দারা। ড্রেনের ময়লা কালো পানির দুর্গন্ধে বাসাবাড়ির লোকজনের নাভিশ্বাস উঠেছে। পৌরসভার ড্রেনগুলোর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা অপর্যাপ্ত হওয়ায় ময়লা-আবর্জনায় দ্রুত ড্রেনগুলো ভরাট হয়ে যাচ্ছে। যে কারণে বর্ষা মৌসুমের ভারী বর্ষণে পানিবন্দি হয়ে পড়েন বেশ কিছু এলাকার কয়েক হাজার মানুষ। পৌরসভা কর্তৃপক্ষ এসব ভোগান্তি লাগবে কিছু উদ্যোগ নিলেও কমছে না দুর্ভোগ। পানিতে ভেসে ময়লা-আবর্জনায় ছড়িয়ে পড়ছে রোগ-জীবাণু। শিল্পনগরী হিসিবে পরিচিত সুনামগঞ্জের ছাতক পৌরসভা ১৯৯৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রথম শ্রেণির এ পৌরসভায় বর্তমানে ৫০ হাজারের বেশি মানুষের বসবাস। ৯টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত পৌরসভা এলাকায় পরিচ্ছন্নতাকর্মী রয়েছেন ২৮ জন। আবর্জনা অপসারণে কাজ করছেন মাত্র ১৪ জন। অল্প লোকবলের কারণে এই সমস্যা আরও ঘনীভূত হচ্ছে।
সরেজমিন পৌরসভার এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, শহরের ট্রাফিক পয়েন্ট থেকে ১ নম্বর সেতু পর্যন্ত যে মাস্টার ড্রেন রয়েছে, সেই ড্রেন ময়লা জমে অনেক যায়গায় ব্লক হয়ে আছে। ২ নম্বর ওয়ার্ডের নোয়ারাই এলাকার ড্রেন ময়লা জমে ব্লক হয়ে গেছে। স্থানীয়রা জানান, এখানে ড্রেন নিয়মিত পরিষ্কার করা হয় না। ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাগবাড়ি এলাকায় রাস্তার পাশের অনেক ডাস্টবিন উপচে পড়ছে বর্জ্য। একই অবস্থা ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সুজন মিয়া রোর্ডের শাহজালাল আবাসিক এলাকায়। পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সর্দার ইয়ামিন আহমদ বলেন, তারা প্রতিটি ড্রেন নিয়মিত পরিষ্কার করেও পরিস্থিতি সামাল দিতে পারছেন না। ড্রেন পরিষ্কার করতে গিয়ে উঠে আসছে পলিথিন ও প্লাস্টিক বর্জ্যের স্তূপ। অনেক ড্রেনের মধ্যে গ্যাস লাইনের পাইপ থাকায় পরিষ্কার করতে কষ্ট হচ্ছে।
৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাগবাড়ি এলাকার বাসিন্দা ফয়েজ মিয়া বলেন, বাসার সামনে ড্রেনের ময়লা উপচে পড়ছে। মাঝে মধ্যে ড্রেন পরিষ্কার করলেও এক সপ্তাহের মধ্যেই ড্রেন ভরে ময়লা পানি রাস্তায় গড়িয়ে পড়ে।
পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ব্যবসায়ী আক্তার হোসেন তালুকদার বলেন, এক ঘণ্টার বৃষ্টিতে রাস্তায় দেড় থেকে দুই ফুট পানি জমে। ড্রেনের ময়লা-আবর্জনা মাড়িয়ে গত ১০ বছর ধরে দুর্ভোগ নিয়েই চলাচল করতে হচ্ছে। প্রতিদিন নোংরা পানির ওপর দিয়ে শিক্ষার্থীরা যাতায়াত করছে।
পৌরসভায় কর্মরত পরিচ্ছন্নতা বিভাগের সঞ্চালক সুব্রত হালদার বলেন, ড্রেনগুলোতে পর্যান্ত পরিমাণের স্লাব না থাকায় দ্রুতই ময়লা-আবর্জনায় ড্রেন ভরে যাচ্ছে। এ ছাড়াও অনেকেই ড্রেনে বিভিন্ন ময়লার পাশাপাশি পলিথিন ফেলার কারণে অল্প সময়ের মধ্যে ড্রেন আটকে যায়।
পৌর নির্বাহী কর্মকর্তার অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন সরবিন্দু রায়। তিনি কুলাউড়া পৌরসভার পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা। তাঁর কার্যালয়ে গিয়ে জানা যায়, তিনি মাঝে মধ্যে জরুরি প্রয়োজনে ছাতকের দপ্তরে আসেন। মুঠোফোনেও ওই কর্মকর্তার নাগাল পাওয়া যায়নি।
পৌরসভার প্রকৌশলী মো. আব্দুল মালেক ড্রেনেজ সমস্যার বিষয়ে বলেন, প্রতি মাসেই শহর পরিষ্কার রাখার বিষয়ে বৈঠক হয়। সেখানে এসব সমস্যার বিষয়ে আলোচনা করা হয়। স্বল্প জনবল দিয়ে চেষ্টা করা হচ্ছে শহর পরিষ্কার রাখার।
- বিষয় :
- ময়লা
