ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

দুস্থদের ৭ টন চাল বিক্রি করে দিলেন ইউপি চেয়ারম্যান

দুস্থদের ৭ টন চাল বিক্রি করে দিলেন ইউপি চেয়ারম্যান
×

সিংড়া (নাটোর) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৩ এপ্রিল ২০২৬ | ০৮:৩৩

| প্রিন্ট সংস্করণ

নাটোরের সিংড়া উপজেলার ১ নম্বর সুকাশ ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের বন ও পরিবেশ-বিষয়ক সম্পাদক সোহরাব হোসেনের বিরুদ্ধে ২৪৭ জন হতদরিদ্র মহিলার বরাদ্দকৃত ৭.৪১ টন ভিজিডির চাল কালোবাজারে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়া ভুয়া মাস্টাররোল তৈরি করে সরকারি অর্থ ও সঞ্চয় আত্মসাতের ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। 

অনিয়মে ক্ষুব্ধ ভুক্তভোগীদের দাবি, দুস্থদের হক আত্মসাৎকারী চেয়ারম্যান ও তাঁকে সহায়তাকারী ট্যাগ অফিসারের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত ৫ মার্চ উপজেলা খাদ্য গুদাম থেকে সুকাশ ইউনিয়নের ২৪৭ জন দুস্থ নারীর জন্য মার্চ মাসের বরাদ্দ ৭.৪১ টন চাল উত্তোলন করেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন। ১১ মার্চ এই চাল বিতরণ করার কথা থাকলেও তা না করে ট্যাগ অফিসার ও বিআরডিবির উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা বুলবুল হাসানের যোগসাজশে চালগুলো কালোবাজারে বিক্রি করে দেওয়া হয়। জালিয়াতি ঢাকতে ১১ মার্চ চাল বিতরণ করা হয়েছে দেখিয়ে একটি ভুয়া প্রত্যয়নপত্র ও মাস্টাররোল মহিলা-বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ে জমা দেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার সকালে সুকাশ ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে গিয়ে নমিতা রানী, বিজলী রানী, শিউলি খাতুন, রাশেদা খাতুনসহ অসংখ্য উপকারভোগীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা মার্চ মাসের চাল পাননি। ভুক্তভোগীরা জানান, বিনামূল্যে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার নিয়ম থাকলেও জনপ্রতি ১ হাজার টাকা; মোট ২ লাখ ৪৭ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন চেয়ারম্যান। অতিরিক্ত টাকা নিলেও এখন পর্যন্ত তাদের নামে কোনো ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা হয়নি। প্রতি মাসে ২২০ টাকা হারে সঞ্চয় জমা দিলেও তাদের মোবাইল ফোনে কোনো এসএমএস আসে না। গত ৮ মাসে প্রায় সাড়ে চার লাখ টাকা সঞ্চয় থাকার কথা; তার কোনো হদিস নেই।

অনিয়মের খবর পেয়ে উপজেলা মহিলা-বিষয়ক কর্মকর্তা সুমি খাতুন ইউনিয়ন পরিষদে তদন্তে গেলে নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। প্রথমে চেয়ারম্যানের শিখিয়ে দেওয়া কথা অনুযায়ী কয়েকজন মহিলা চাল পেয়েছেন বলে দাবি করলেও কর্মকর্তার জেরার মুখে তারা সত্য স্বীকার করেন। নারীরা জানান, চেয়ারম্যান তাদের ভয়ভীতি দেখিয়ে মিথ্যা বলতে বাধ্য করেছিলেন এবং আগের রাতে তাদের কার্ডে জোরপূর্বক স্বাক্ষর করিয়ে নিয়েছেন। পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আজহারুল ইসলাম ও হিসাব সহকারী পরিতোষ অধিকারীও স্বীকার করেন যে, মার্চ মাসের চাল বিতরণের কোনো তথ্য তাদের জানা নেই।
ট্যাগ অফিসার বুলবুল হাসান প্রথমে জালিয়াতির বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন; পরে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। অন্যদিকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন প্রথমে চাল বিতরণের দাবি করলেও পরে মহিলা-বিষয়ক কর্মকর্তার জেরার মুখে স্বীকার করেন, উত্তোলনকৃত চাল বিক্রি করা হয়েছে। আগামী সোমবার চাল সংগ্রহ করে বিতরণ করা হবে। তিনি এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ না করতে প্রতিবেদককে অনুরোধ করেন।
উপজেলা মহিলা-বিষয়ক কর্মকর্তা সুমি খাতুন বলেন, ‘প্রাথমিক তদন্তে চাল বিতরণ না করে বাইরে বিক্রি করার সত্যতা পাওয়া গেছে। এ ছাড়া ব্যাংক অ্যাকাউন্ট না খোলা এবং সঞ্চয়ের টাকা জমা না করার বিষয়ও প্রমাণিত। চেয়ারম্যান ও ট্যাগ অফিসার স্বাক্ষরিত একটি ভুয়া মাস্টাররোল অফিসে জমা দেওয়া হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

আরও পড়ুন

×