ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

দুই সংঘর্ষে ৪০ জন আহত

দুই সংঘর্ষে ৪০ জন আহত
×

খোকসার সাতপাখিয়া কবরস্থান নিয়ে শুক্রবার সকালে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে দুই গ্রামের লোকজন। ছবি: সমকাল

খোকসা (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১০ এপ্রিল ২০২৬ | ১৯:৫৭

কুষ্টিয়ার খোকসায় পৃথক দুই সংঘর্ষে অন্তত ৪০ জন আহত হয়েছেন। শুক্রবার সকালে এসব সংঘর্ষ হয়। একটি সংঘর্ষ কবরস্থানের গাছ বিক্রি নিয়ে, অপরটি ফেসবুকে স্ট্যাটাস নিয়ে দ্বন্দ্ব হয়েছে বলে জানা গেছে। 

খোকসার গোপগ্রাম ইউনিয়নের সাতপাখিয়া করবস্থানের গাছ বিক্রি করে মাটি ভরাট শুক্রবার সকালে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে দুটি গ্রামের লোকজন। এলাকাবাসীর ভাষ্য, শতবর্ষী সাতপাখিয়া কবরস্থানটি ১৬ বিঘা জমিতে অবস্থিত। সেখানে কোটি টাকা মূল্যের কয়েক হাজার মেহগনি গাছ রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির কর্তৃত্ব নিয়ে সাতপাখিয়া ও বরইচাড়া গ্রামের মাতব্বরদের বিরোধ রয়েছে। সাতপাখিয়া গ্রামবাসীর নিয়ন্ত্রণে আছে বর্তমান কমিটি।

বরইচাড়া গ্রামের মাতব্বরেরাও পাল্টা কমিটি করেছেন। সাতপাখিয়া গ্রামবাসীর কমিটির সদস্যরা ১০টি মেহগনি গাছ বিক্রি করে কবরস্থানের মাটি ভরাট শুরু করেন। এতে বাধা দিলে দুই পক্ষের সংঘর্ষে ১৮¬-২০ জন আহত হন।

মাটিকাটা শ্রমিক শুকুর আলী বলেন, তারা প্রায় ২০ জন কাজ করছিলেন। হঠাৎ করে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও গোপগ্রাম ইউনিয়ন বিএপির সাবেক সভাপতি মাসুদ আহসান শিবলীর নেতৃত্বে বরইচারা গ্রামের প্রায় ২০০ লোক হামলা চালায়। তাদের সবার হাতেই দেশীয় ধারালো অস্ত্র ছিল। ভয়ে শ্রমিকরা পালিয়ে যান। 

মাসুদ আহসান শিবলীর ভাষ্য, তাদের পূর্বপুরুষরা ওই কবরস্থানের জমি দান করেন। কিন্তু প্রতিপক্ষ সেটা মানতে নারাজ। সাতপাখিয়া গ্রামের কয়েকজন সাবেক মেম্বার তাদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে চুরি করে গাছ বিক্রি করেছে। বরইচাড়া গ্রামের লোকজন গাছ কাটা বন্ধ করতে যান। এ সময় তাদের ওপর হামলা জয়। বরইচারা গ্রামের বিল্লাল হোসেনসহ (৪০) দুইজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, বরইচাড়ার সশস্ত্র লোকদের আসতে দেখেই সাতপাখিয়া গ্রামের বাসিন্দারা মাইকে ঘোষণা দিয়ে প্রতিপক্ষকে প্রতিহতের চেষ্টা করে। শুরু হয় তাদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া। এভাবে চলে প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা। পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

সাতপাখিয়া কবরস্থান কমিটির সভাপতি আবু মুসা বলেন, ওই কবরস্থানে বরইচাড়া গ্রামবাসীর কোনো অবদান নেই। তারপরও তারা মৃতদেহ দাফন করে। অনেকবার বাধা দেওয়া হয়েছে। কমিটির সিদ্ধান্তে ১০টি মেহগনি গাছ বিক্রি করা হয়েছে। সেই টাকা দিয়ে কবরস্থানে মাটি ভরাটের কাজ হচ্ছে। প্রতিপক্ষ বিনা উস্কানিতে শ্রমিকদের ওপর হামলা করে ও দেয়াল লিখন মুছে দেয়। সাতপাখিয়া গ্রামবাসী তাদের প্রতিহতের চেষ্টা করে। তাদের হামলায় কমিটির প্রায় ১০ জন আহত হয়েছেন। 

এদিন প্রায় একই সময়ে উপজেলার বেতবাড়িয়া ইউনিয়নের বনগ্রামে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। দুই যুবকের মধ্যে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়া কেন্দ্র করে এই সংঘর্ষ হয় বলে জানা গেছে। এলাকাবাসী জানায়, স্থানীয় স্কুলশিক্ষক সামছুজ্জামান তুহিন বিএনপির রাজনীতি করেন। তাঁর রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ আবু হেনা মোস্তফা সালাম লুলু উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক। ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়ার জেরে বৃহস্পতিবার বিকেলে দুই পক্ষের রনি ও শিপলুর মধ্যে বিরোধ হয়। এর জের ধরে শুক্রবার সকালে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে উভয়পক্ষের ২২ জন আহত হন। এ সময় ৬টি বাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়। 

সামছুজ্জামান তুহিনের ভাষ্য, প্রতিপক্ষের হামলায় তাঁর পক্ষের ১৫ জন আহত হয়েছেন। তাঁর কর্মী শান্ত বিশ্বাসের ছেলে রন বিশ্বাসের অবস্থা গুরুতর। তাঁকে কুষ্টিয়ায় রেফার করা হয়েছে। 

আবু হেনা মোস্তফা সালাম লুলুর দাবি, হামলায় তাঁর পক্ষের প্রায় ৭ জন আহত হয়েছেন। এসব কর্মীদের বাড়িঘরেও ভাঙচুর করা হয়েছে। 

খোকসা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোশারফ হোসেন বলেন, দুই এলাকার পরিস্থিতি এখন শান্ত। কোনো অভিযোগ পাননি, পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

আরও পড়ুন

×