ঢাকা শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

খানজাহান আলীর মাজার: কুকুরটির শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ, তদন্ত কমিটি গঠন

খানজাহান আলীর মাজার: কুকুরটির শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ, তদন্ত কমিটি গঠন
×

ছবি: সমকাল

বাগেরহাট প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১২ এপ্রিল ২০২৬ | ০০:১৯ | আপডেট: ১২ এপ্রিল ২০২৬ | ০০:৩৫

বাগেরহাটের ঐতিহাসিক খান জাহান আলী (রহ.) মাজারের দিঘির ঘাটে একটি কুকুরকে কুমিরের টেনে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনা চলছে। সামাজিক মাধ্যমে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠনের পাশাপাশি শনিবার মৃত কুকুরটির ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। 

বাগেরহাট জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন জানিয়েছেন, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আতিয়া খাতুনকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আজ বিকেলে জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের তত্ত্বাবধানে কুকুরটির ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। 

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মোহাম্মদ ছাহেব আলী জানান, কুকুরটির মাথার নমুনা ঢাকার সেন্ট্রাল ডিজিজ ইনভেস্টিগেশন ল্যাবরেটরিতে (সিডিআইএল) পাঠানো হয়েছে। কুকুরটি জলাতঙ্ক বা অন্য কোনো রোগে আক্রান্ত ছিল কিনা, প্রতিবেদন এলে তা নিশ্চিত হওয়া যাবে। 

এদিকে, এই ঘটনায় তীব্র নিন্দা এবং ক্ষোভ জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুসহ বিশিষ্টজনেরা। প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু তাঁর অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে লিখেছেন, বাগেরহাটের ঘটনাটি আমার দৃষ্টিগোচর হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নয় বরং মানুষ হিসেবে ঘটনাটি আমাকে ব্যথিত করেছে। আমি সংশ্লিষ্ট সবাইকে এই অমানবিক ঘটনার সঠিক তদন্তের মাধ্যমে দোষী ব্যক্তিকে শাস্তির আওতায় আনার অনুরোধ করছি। 

ঘটনা নিয়ে বিতর্ক
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, কুকুরটি পিচ্ছিল সিঁড়ি বেয়ে ওঠার চেষ্টা করছিল। বারবার ব্যর্থ হচ্ছিল। একপর্যায়ে ওত পেতে থাকা কুমিরটি তাকে টেনে পানির নিচে নিয়ে যায়। নেটিজেনদের বড় একটি অংশের দাবি, কুকুরটিকে হাত-পা বেঁধে কুমিরের সামনে ফেলে দেওয়া হয়েছিল। তবে মাজারের খাদেম ও প্রত্যক্ষদর্শীরা এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন। 

মাজারের খাদেমরা বলছেন, ঘটনাটি গত বুধবারের। দিঘির ঘাটের কাছে একটি অসুস্থ কুকুর শিশু, নারীসহ কয়েকজনকে কামড় দেয়। তখন কয়েকজন কুকুরটিকে তাড়া দেয়। পরে কুকুরটি নারীদের ঘাট থেকে মূল ঘাটের দিকে আসে। সেখানে মাজারের নিরাপত্তাপ্রহরী ফোরকানকে কামড় দেয়। তিনি পা ঝাড়া দিলে কুকুরটি ঘাটে পড়ে যায়। সিঁড়ি পিচ্ছিল হওয়ার কারণে কুকুরটি ওপরে উঠতে পারেনি। একপর্যায়ে একটি কুমির কুকুরটিকে ধরে টেনে পানির নিচে নিয়ে যায়। কুমিরটি কুকুরটিকে ধরে নিয়ে যাওয়ার অংশটুকু ফেসবুকে মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। 

মাজারের নিরাপত্তা প্রহরী ফোরকান হাওলাদার বলেন, ‘একটি পাগলা কুকুর এসে হঠাৎ আমার পায়ে কামড় দেয়। আমি পা ঝাড়া দিলে কুকুরটি পানিতে পড়ে যায়। সিঁড়ি পিচ্ছিল থাকায় সেটি ওপরে উঠতে পারেনি।’ মাজারের ঘাটের পাশের দোকানি বীণা আক্তারও একই কথা জানান। তাঁর দাবি, কুকুরটি কামড় দেওয়ায় আতঙ্কে কেউ তাকে বাঁচাতে নামেনি। আধা ঘণ্টা পরে অন্য ঘাটে ভেসে উঠলে কুকুরটিকে উদ্ধার করে মাটিচাপা দেওয়া হয়। 

মাজারের প্রধান খাদেম ফকির তারিকুল ইসলাম জানান, ভিডিওটি ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।

মাজারের খাদেমরা জানান, হজরত খানজাহান আলী (রহ.) এই দিঘিতে প্রথম কুমির ছেড়েছিলেন। দীর্ঘ কয়েক শতাব্দী ধরে সেই আদি বংশধরেরা এই দিঘিতে বিচরণ করলেও বর্তমানে তাদের কেউ আর বেঁচে নেই। পরে ২০০৫ সালে ভারত থেকে ৫টি কুমির এনে এখানে ছাড়া হয়। বর্তমানে তাদের মধ্য থেকে বেঁচে থাকা একমাত্র কুমিরটিই দিঘিতে অবস্থান করছে।

আরও পড়ুন

×