ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস আজ
ক্ষত নিয়ে দাঁড়িয়ে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি কমপ্লেক্স
মেহেরপুরের মুজিবনগর স্মৃতি কমপ্লেক্সে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তাণ্ডব চালায় দুর্বৃত্তরা। ভেঙে ফেলা হয় ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে দেওয়া গার্ড অব অনারের ভাস্কর্যটিও। সম্প্রতি তোলা -সমকাল
সমকাল প্রতিবেদক ও মেহেরপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৭ এপ্রিল ২০২৬ | ০৮:৫৯ | আপডেট: ১৭ এপ্রিল ২০২৬ | ০৯:০৭
| প্রিন্ট সংস্করণ
আজ ১৭ এপ্রিল, ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নানা আনুষ্ঠানিকতায় পালিত হতো দিবসটি। গত ৫ আগস্ট ওই সরকারের পতনের পরও অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সংক্ষিপ্ত আকারে মুজিবনগর দিবস পালন করা হয়েছে। তবে ১৭ বছর পর এবার মুজিবনগর দিবস পালনের রাষ্ট্রীয় কোনো আনুষ্ঠানিকতা নেই কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে। মেহেরপুরের জেলা প্রশাসক শিল্পী রানী রায় জানান, তারা মৌখিকভাবে জানতে পেরেছেন, এবার মুজিবনগর দিবস পালন করা হচ্ছে না। তবে কোনো লিখিত চিঠি পাননি।
দেশের ঐতিহাসিক স্থানগুলোর মধ্যে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম রাজধানীখ্যাত মেহেরপুর জেলার মুজিবনগর অন্যতম। এ আম্রকাননেই ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকার গঠন করা হয়। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ প্রথম মুজিবনগরকে গুরুত্ব দিয়ে স্বাধীনতার স্মৃতিকে ধরে রাখতে ২৩ স্তম্ভবিশিষ্ট স্মৃতিসৌধ গড়ে তোলেন। এরপর ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় গিয়ে ৮০ দশমিক ৪২ একর জমি অধিগ্রহণ করে মুজিবনগর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক স্মৃতি কমপ্লেক্স গড়ে তোলার কাজ শুরু করে।
ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী মানচিত্রে মুক্তিযুদ্ধের ১১টি সেক্টরকে ভাগ করে প্রায় ৬০০টি ভাস্কর্যের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধকালীন বিভিন্ন চিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়। দূর-দূরান্ত থেকে দর্শনার্থীরা ছুটে যেতেন ঐতিহাসিক মুজিবনগরে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানতে। অথচ সেই ভাস্কর্যের মধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশ ভেঙে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। ভাস্কর্যগুলো ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে এখানে-সেখানে। গত ৫ আগস্ট সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশত্যাগের পর সারাদেশের মতো মেহেরপুরের মুজিবনগরে ছাত্র-জনতা আনন্দ মিছিল করতে রাস্তায় নেমে আসেন। এ সুযোগে কিছু দুষ্কৃতকারী মুবিজনগর সরকারের শপথ স্থানে নির্মিত ভাস্কর্য ভাঙচুর করে। এসব ক্ষত বুকে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে মুজিবনগর মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি কমপ্লেক্স।

২০২৫-এর ১৭ এপ্রিল মুজিবনগর দিবস উদযাপন অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম বীরপ্রতীক বলেছিলেন, মুজিবনগর সরকারের নাম পরিবর্তনের ইচ্ছা অন্তর্বর্তী সরকারের নেই। কারণ, ইতিহাস কখনও মোছা যায় না। তিনি জানান, ১০ এপ্রিল সরকার গঠন হলেও শপথগ্রহণ হয়েছে ১৭ তারিখে মুজিবনগরে। দেশের সঙ্গে আন্তর্জাতিক বিশ্বে সংযোগ স্থাপন করেছে মুজিবনগর সরকার। মুজিবনগর সরকার প্রবাসী কিংবা অস্থায়ী সরকার নয়। এ সরকারের নেতৃত্বে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়। তাই এই সরকার হচ্ছে সাংবিধানিক সরকার। এ সরকারের শপথ গ্রহণ একটি গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়। তিনি বলেন, মুজিবনগর মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি কমপ্লেক্সে যে ক্ষতি হয়েছে, তা সংস্কার করা হবে। এখানে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস মোছা হবে না এবং কোনো কিছু আরোপিতও করা হবে না। তবে এখনও মুজিবনগর মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি কমপ্লেক্স সংস্কার হয়নি।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে নভেম্বর-ডিসেম্বরে গণপূর্ত বিভাগ মেহেরপুর থেকে মুজিবনগর কমপ্লেক্সে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে একটি তালিকা করে। গণপূর্ত বিভাগ মেহেরপুরের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. জামাল উদ্দিন বলেন, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে ক্ষতিগ্রস্ত ও খোয়া যাওয়ার তালিকা তৈরি করে পাঠানো হয়েছিল। তখন ঢাকা থেকে একটি টিম এসে পরিদর্শনও করে গেছে। ঠিকঠাক করতে ৬০ লাখ ৮৭ হাজার টাকা খরচ হবে মর্মে অর্থ বরাদ্দের জন্য চিঠিও দেওয়া হয়েছিল। সরকারি বাজেট না পাওয়ায় কাজ করা হয়নি।
একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সূচনা পর্বে ১৭ এপ্রিল তৎকালীন কুষ্টিয়া জেলার মেহেরপুর মহকুমার বৈদ্যনাথতলার (বর্তমান মুজিবনগর) এক আমবাগানে আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ নেয় স্বাধীন বাংলার অস্থায়ী বিপ্লবী সরকার। এ আমবাগানকে ‘মুজিবনগর’ নামকরণ করে বাংলাদেশের অস্থায়ী রাজধানী ঘোষণা করা হয়।
- বিষয় :
- দিবস আজ
- মুজিবনগর দিবস
