ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

আন্দামানে ট্রলারডুবি থেকে ফেরা রোহিঙ্গা যুবককে হত্যার হুমকি

পাচারকারীদের তথ্য না দিতে ভয় দেখানো হচ্ছে, আতঙ্কে পরিবার 

আন্দামানে ট্রলারডুবি থেকে ফেরা রোহিঙ্গা যুবককে হত্যার হুমকি
×

মোহাম্মদ রফিক

টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি 

প্রকাশ: ১৯ এপ্রিল ২০২৬ | ২০:৪৪

আন্দামান সাগরে মালয়েশিয়াগামী ট্রলারডুবির ভয়াবহতা থেকে বেঁচে ফিরেও স্বস্তিতে নেই রোহিঙ্গা যুবক মোহাম্মদ রফিক। মানব পাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে তথ্য দেওয়ায় এবার তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে দালালচক্র। বর্তমানে উখিয়ার কুতুপালং ক্যাম্পে পরিবারসহ চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন তিনি। 

ভুক্তভোগী মোহাম্মদ রফিক কক্সবাজারের উখিয়া কুতুপালং ক্যাম্প-৬-এর বাসিন্দা। তিনি অভিযোগ করেন, সম্প্রতি ‘নানা মাঝি’ পরিচয়ে এক ব্যক্তি মোবাইল ফোনে তাঁকে ক্যাম্প থেকে বের হলেই তুলে নিয়ে হত্যার হুমকি দিয়েছেন। পাচারকারীদের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা গণমাধ্যমকে কোনো তথ্য দিতে নিষেধ করে তাঁকে বারবার ভয় দেখানো হচ্ছে। 

ঘটনার বিবরণ দিয়ে রফিক জানান, গত ৪ এপ্রিল ভালো কাজের প্রলোভন দেখিয়ে একদল দালাল তাঁকে টেকনাফে নিয়ে যায়। সেখানে তাঁকে আটকে রেখে মারধর করা হয় এবং পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করা হয়। প্রাণ বাঁচাতে তাঁর পরিবার প্রায় তিন লাখ টাকা দিলেও মুক্তি মেলেনি। পরিবর্তে তাঁকে জোরপূর্বক মালয়েশিয়াগামী একটি ট্রলারে তুলে দেওয়া হয়। 

গত ৮ এপ্রিল আন্দামান সাগরে ট্রলারটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে ডুবে যায়। রফিক জানান, উত্তাল সাগরে দুই দিন ভেসে থাকার পর একটি জাহাজ তাঁকে উদ্ধার করে। ওই ঘটনায় উদ্ধার হওয়া ৯ জনের মধ্যে ছয়জনই ছিল পাচারকারী চক্রের সদস্য। বর্তমানে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। 

রফিক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এলাম; কিন্তু এখন আবার মৃত্যুভয়ে দিন কাটাতে হচ্ছে। এই মানব পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে সাগরে এই মৃত্যুর মিছিল কখনোই থামবে না।’

কুতুপালং ক্যাম্প-৬-এর ব্লক মাঝি মোহাম্মদ হেলাল বলেন, ‘রফিককে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে জানতে পেরেছি। বিষয়টি আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে গুরুত্বের সঙ্গে জানাচ্ছি।’ 

তবে এ বিষয়ে ক্যাম্প-৬-এর ইনচার্জ (উপ-সচিব) গাজী শরীফুল হাসান জানান, ট্রলারডুবির ঘটনায় ওই ক্যাম্পের একজন উদ্ধারের খবর তাদের কাছে থাকলেও হুমকির বিষয়ে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পাননি। তিনি বলেন, ‘অভিযোগ পেলে আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখব এবং ওই যুবকের নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ 

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মিয়ানমারের রাখাইনে চলমান সংঘাত ও প্রত্যাবাসন অনিশ্চয়তার সুযোগ নিয়ে পাচারকারী চক্রগুলো সক্রিয় হয়ে উঠেছে। ক্যাম্পের সাধারণ রোহিঙ্গাদের উন্নত জীবনের স্বপ্ন দেখিয়ে সাগরপথে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিচ্ছে তারা। দালালদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করা না গেলে মানব পাচারের ঝুঁকি আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। 

আরও পড়ুন

×