জামিন নিয়েই বাদীপক্ষকে এলাকাছাড়া করার হুমকি
ধর্ষণচেষ্টার মামলা করায় ভাঙচুরের মামলা
প্রতীকী ছবি
নোয়াখালী প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২০ এপ্রিল ২০২৬ | ২১:০৬
নোয়াখালী সুবর্ণচরে ধর্ষণচেষ্টার মামলার জেরে মাদ্রাসাছাত্রীর বাড়িতে হামলার ঘটনায় আসামিরা জামিন পেয়েছেন। ভাঙচুর-লুটপাটের ঘটনায় যে ২০ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা হয়, সেই ২০ জনই সোমবার আদালতে হাজির হয়ে জামিন পান। সেখানে থাকা অবস্থায়ই তারা হুমকি দেন মামলার বাদীপক্ষকে। এতে পরিবারটি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
সোমবার বিকেলে সমকালকে এসব তথ্য জানিয়েছেন ভুক্তভোগী মেয়েটির বাবা। ওই কিশোরী (১৪) চর জুবলী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের দারুল আরকাম ইসলামী মাদ্রাসার হিফজুল কোরআন বিভাগের আবাসিক ছাত্রী। ৫ ফেব্রুয়ারি তাঁকে ‘আলগা বাতাস’ সারানোর নামে ওই মাদ্রাসা সুপার মাওলানা আবুল খায়ের যৌন নিপীড়ন ও ধর্ষণচেষ্টা করেন।
ভুক্তভোগী ছাত্রীর ভাষ্য, তার পেটে ব্যথা হয়েছিল। এজন্য দাদি তাকে মাদ্রাসায় দেখতে যান। হুজুর (খায়ের) তার শরীরে ‘আলগা বাতাস’ লেগেছে উল্লেখ করে দাদিকে জানান, তেল পড়া ও পানিপড়া লাগবে। এজন্য দাদিকে পাশের দোকান থেকে তেল আনতে পাঠান। এরই মধ্যে মাদ্রাসার পেছনে থাকার গোপন কক্ষে তাকে নিয়ে যান হুজুর। ওই কিশোরী আরও জানায়, ‘তিনি (হুজুর) আমাকে বলেন, আমার শরীরে ‘আলগা বাতাস’ আছে। প্রতি রাতে জিনপরি আমার সাথে মেলামেশা করে। তেলপড়া মালিশ করলে ঠিক হয়ে যাবে।’ এসব বলে হাতে তেল মেখে মেয়েটির স্পর্শকাতর জায়গায় মালিশ করে ধর্ষণের চেষ্টা চালান মাওলানা আবুল খায়ের। ঘটনাটি জানাজানি হলে তিনি মেয়েটি, তার বাবা ও দাদিকে হত্যার হুমকি দেন।
এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে সুরাহা না হওয়ায় বৃহস্পতিবার মেয়েটির বাবা মাওলানা আবুল খায়েরকে আসামি করে চর জব্বর থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। পুলিশ সেদিনই ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গেলে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন মাওলানা আবুল খায়ের। পুলিশ সদস্যরা তদন্ত করে এলাকাছাড়ার পরই মাদ্রাসা সুপারের পক্ষের কিছু লোক সেখানে মানববন্ধন করে। সেখান থেকে শতাধিক ব্যক্তি বাদীর বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। এ সময় বাড়ির সদস্যদের মারধর করা হয়।
শনিবার এই ঘটনায় ২০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় ৩৫-৪০ জনের বিরুদ্ধে চর জব্বর থানায় মামলা করেন মেয়েটির মা। ধর্ষণচেষ্টার মামলার বাদী ছাত্রীটির বাবা বলেন, তাঁর স্ত্রীর করা মামলার ২০ আসামির সবাই সোমবার সকালে নোয়াখালী চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত থেকে জামিন নিয়েছেন। এর পরপরই তারা মাদ্রাসা সুপার আবুল খায়েরের পক্ষ নিয়ে তাদের হুমকি দিচ্ছেন। ধর্ষণচেষ্টার মামলা তুলে না নিলে এলাকাছাড়া করা হবে বলে ভয় দেখাচ্ছে। তিনি এখন পরিবার-পরিজন নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
তিনি পরিবারের নিরাপত্তার পাশাপাশি জামিনে মুক্ত আসামিদের জামিন বাতিলের দাবি জানান। পাশাপাশি তাঁর মেয়েকে ধর্ষণের চেষ্টাকারী মাদ্রাসা সুপারকে দ্রুত সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
চর জব্বর থানার ভাবপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফুর রহমান বলেন, মামলার বাদীকে হুমকি দেওয়া বা আসামিদের জামিন পাওয়ার বিষয়টি তাঁকে কেউ জানায়নি। মামলার বাদীকে থানায় এনে তাঁর নিরাপত্তার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। ধর্ষণচেষ্টা মামলার একমাত্র আসামি মাওলানা আবুল খায়ের পলাতক। তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে।
সুবর্ণচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আকিব ওসমান বলেন, মামলার বাদীকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দিতে পুলিশ প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শ্লীলতাহানির মামলার আসামিকে গ্রেপ্তারেও পুলিশ তৎপর রয়েছে।
