খেয়াঘাট ইজারা নিয়ে ত্রিমুখী সংঘর্ষ, দুই নেতাকে পিটুনি
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে বক্তাবলী ঘাট ইজারা নিয়ে বিএনপি-জামায়াত ইসলামী ও এনসিপির সংঘর্ষ। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে সমকাল
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২২ এপ্রিল ২০২৬ | ০৮:৩৯ | আপডেট: ২২ এপ্রিল ২০২৬ | ১২:০৮
| প্রিন্ট সংস্করণ
খেয়াঘাট ইজারা নিয়ে নারায়ণগঞ্জে বিএনপি, এনসিপি-জামায়াত ও আওয়ামী লীগ সমর্থক এক ইউপি সদস্যের সমর্থকদের ত্রিমুখী সংঘর্ষ হয়েছে। এতে দুজন আহত হয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে এই ঘটনা ঘটে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বাংলা ১৪৩৩ সনের জন্য সদর উপজেলার রাজাপুর খেয়াঘাট অস্থায়ীভাবে ইজারা দেওয়ার জন্য সম্প্রতি দরপত্র আহ্বান করা হয়। সম্ভাব্য সর্বনিম্ন ইজারা দর নির্ধারণ করা হয়েছে ৩১ লাখ ৭০ হাজার ৭৫০ টাকা।
মঙ্গলবার ছিল দরপত্র জমা দেওয়ার প্রথম দিন। এদিন সকাল থেকেই পুরো সদর উপজেলা অফিস এলাকা ঘিরে রাখে ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি শহীদুল ইসলাম টিটু ও বক্তাবলী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলামের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী। তাদের পাশাপাশি দরপত্র জমা দিতে আসেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জেলা শাখার আহ্বায়ক যুবায়ের আহমেদ সরদার। তাঁর সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরাও ছিলেন। অপরদিকে বক্তাবলী ইউপির ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আওয়ামী লীগ সমর্থক মোহাম্মদ আবদুর রশিদও দরপত্র জমা দেওয়ার জন্য মহড়া দেন। তাঁর সঙ্গে বিএনপির একাংশের নেতাকর্মীরাও ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সকাল থেকেই তিন পক্ষের নেতাকর্মীরা উপজেলা পরিষদ এলাকায় মহড়া দিচ্ছিল। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এনসিপির জেলা আহ্বায়ক যুবায়ের আহমেদ সরদার পুলিশ ডেকে ইউএনও কার্যালয়ের দোতলায় জড়ো হওয়া বিএনপি কর্মীদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। এতে বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তাদের সরিয়ে দিয়ে এনসিপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীরা দরপত্র জমা দিতে যান। এ সময় বিএনপি নেতাকর্মীরা তাদের ওপর হামলা করে। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলতে থাকে। বিএনপি কর্মীদের মারধরে এনসিপি নেতা তাওহীদুল ইসলাম ও বক্তাবলী ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমির আবু বকর আহত হন।
এই দুই পক্ষের সংঘর্ষের সুযোগে রশিদ মেম্বারের লোকজন দরপত্র জমা দিতে যায়। তাদের ওপর হামলা চালায় এনসিপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীরা। এক পর্যায়ে বিএনপির নেতাকর্মীরাও রশিদের লোকজনের ওপর হামলা করে। এ সময় ত্রিমুখী সংঘর্ষ বেঁধে যায়। দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় উপজেলা পরিষদ চত্বর ও আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সড়কে যানবাহন চলাচল ও দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। পরে
পুলিশ ও র্যাবের অতিরিক্ত সদস্যরা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
হামলার শিকার জেলা এনসিপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক তাওহীদুল ইসলাম বলেন, ‘সকাল থেকে ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি টিটুর অনুসারীরা আমাদের ভেতরে ঢুকতে দিচ্ছিল না। আমরা এর প্রতিবাদ করলে তারা আমাদের মারধর করে। আমি ও জামায়াতের আমির আবু বকর আহত হয়েছি।’
বক্তাবলী ইউনিয়ন জামায়াতের আমির আবু বকর বলেন, ‘এনসিপি নেতা তাওহীদকে বাঁচাতে গিয়ে আমি মারধরের শিকার হই। বক্তাবলী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম প্রধানের নেতৃত্বে ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক হালিম, ইউনিয়ন যুবদলের সেক্রেটারি আবুল খায়ের, ৩ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি মোজাম্মেল প্রধান আমাদের মারধর করেছেন।’
ইউপি সদস্য মো. আব্দুর রশিদের ভাষ্য, ‘আমার সঙ্গে কারও কিছু হয়নি। ওরা আমাকে টেন্ডার ড্রপ করতে বাধা দিয়েছিল। পরে বিএনপি, এনসিপি-জামায়াত নিজেরাই মারামারি করে। আমি আমার টেন্ডার ড্রপ করে ভেতরে অফিসে বসেছিলাম।’ তাঁর দাবি, তিনি বিএনপির রাজনীতিতে জড়িত। তবে কোনো পদে নেই।
ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি শহিদুল ইসলাম টিটু বলেন, ‘আমরা সমঝোতার মাধ্যমে সবকিছু করার চেষ্টা করি। গতরাত (সোমবার) থেকেই আমি জামায়াত-এনসিপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করে বলেছি যে, সম্মিলিতভাবে কাজটি করব। কিন্তু সেটা সম্ভব হয়নি। আজ (মঙ্গলবার) আমাদের নেতাকর্মীরা টেন্ডার ড্রপ করতে গেলে তারা হামলা চালায়। পুলিশ দিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের সরিয়ে দিয়ে ড্রপিংয়ের চেষ্টা করে।’
নারায়ণগঞ্জ সদরের ইউএনও এস এম ফয়েজ উদ্দিন জানান, ফতুল্লার রাজপুর গুদারাঘাটের ইজারা নিয়ে দরপত্র দাখিল ও খোলার তারিখ ছিল গতকাল মঙ্গলবার। এ নিয়ে বিশৃঙ্খলা হয়েছে বলে শুনেছেন। ব্যবস্থা নিতে ফতুল্লা থানা পুলিশকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে দরপত্র গ্রহণ সুষ্ঠু হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
- বিষয় :
- সংঘর্ষ
- ইজারা
- খেয়াঘাট
- নারায়ণগঞ্জ
