৭ মাসের সন্তানকে ডোবায় ফেলে হত্যার অভিযোগ বাবার বিরুদ্ধে
ছবি: সংগৃহীত
ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৩ এপ্রিল ২০২৬ | ১৮:২৭
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ৭ মাসের শিশু সন্তানকে ডোবায় ফেলে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার বাবার বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত বাবা মেরাজ মিয়া (২৪) ও শিশুটির দাদি রাবেয়া বেগম (৬০) ঘটনার পর থেকেই পলাতক রয়েছেন।
বৃহস্পতিবার উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের মানিকদী পূর্বকান্দা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশ গোলাপ মিয়ার ডোবা থেকে শিশু তানভীরের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় তিন বছর আগে মেরাজ মিয়ার সঙ্গে তাসলিমা বেগমের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে সাত মাস আগে এ শিশুর জন্ম হয়। মেরাজ কখনো অটোচালক, কখনো জুতার কাজ করতেন এবং মাদকাসক্ত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। নেশার টাকার জন্য তিনি প্রায়ই পরিবারে ঝগড়া করতেন।
১০ দিন আগে পারিবারিক বিরোধের জেরে স্ত্রী ও সন্তান তানভীরকে বাড়ি থেকে বের করে দেন মেরাজের মা ও ভাইয়েরা। এরপর থেকে সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়িতে গিয়ে থাকতে শুরু করেন শিশুটির মা তাসলিমা। সেখানে গিয়েও স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়া লেগে থাকত মেরাজের।
এক সপ্তাহ আগে শিশুটি অসুস্থ হলে দাদি রাবেয়া বেগম চিকিৎসার কথা বলে নানা বাড়ি থেকে নিজ বাড়িতে নিয়ে আসেন। বাড়িতে এনে নাতিকে আটকে রাখেন। তিনদিন পর শিশুটির মাকে জানান শিশুটিকে তার বাবা বিক্রি করে দিয়েছেন। পরে পুলিশকে বিষয়টি অবগত করলে তারা গিয়ে শিশুটিকে বের করে দিতে দাদি রাবেয়া বেগম বাবা মেরাজকে চাপ দেয়। ২২ এপ্রিল রাতে বাবা মেরাজ মিয়া শ্বশুরবাড়ির স্বজনদের জানান শিশুটিকে গোলাপ মিয়ার ডোবায় ফেলে এসেছেন। সেখানে গেলে শিশুটিকে পাওয়া যাবে। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সকালে নানার বাড়ির লোকজন স্থানীয়দের নিয়ে গিয়ে শিশুটির অর্ধগলিত মরদেহ দেখতে পায়।
শিশুর মা তাসলিমা বেগম বলেন, কয়েকদিন আগে আমার সঙ্গে স্বামী ও তার পরিবারের ঝগড়া হলে আমি আমার সন্তান তানভীরকে নিয়ে বাবার বাড়ি চলে যাই। আমার ছেলের ডায়রিয়া হলে পরের দিন তার দাদি ওষুধ কিনে দেওয়ার কথা বলে তাকে তাদের বাড়ি নিয়ে যান। এরপর থেকেই আমার ছেলে নিখোঁজ। আমি ভাবতে পারছি না একজন বাবা তার সন্তানকে হত্যা করতে পারে। আমি আমার স্বামীকে ফোন করলেই তিনি বলতেন তোকে ও তোর সন্তানকে আমি হত্যা করব।
শিশুটির মা অভিযোগ করে আরও বলেন, ২২ এপ্রিল আমার স্বামী আমাকে ফোন দিয়ে বলেন তোর ছেলেকে কোনোদিন ফিরে পাবি না। আমার ছেলেকে তারা পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে। আমি আমার স্বামী ও শাশুড়িসহ জড়িত সবার বিচার চাই, ফাঁসি চাই।
ভৈরব থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রফিকুল ইসলাম জানান, আমরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করেছি। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হবে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে মৃত্যুর কারণ জানা যাবে।
- বিষয় :
- কিশোরগঞ্জ
- ভৈরব
- হত্যার অভিযোগ
