ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

জেলের বরাদ্দ চাল আত্মসাৎ!

জেলের বরাদ্দ চাল আত্মসাৎ!
×

আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৪ এপ্রিল ২০২৬ | ১০:০১

| প্রিন্ট সংস্করণ

বরগুনার তালতলীতে জেলেদের জন্য বরাদ্দ ভিজিএফের চাল আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে এক ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। করাইবাড়িয়া ইউপির সাত সদস্যের পক্ষ থেকে বুধবার ইউএনও বরাবর লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল বৃহস্পতিবার প্রশাসন তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। 
উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, তালতলীতে নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা আট হাজার ৭৯৯ জন। তাদের মধ্যে করাইবাড়িয়া ইউনিয়নের নিবন্ধিত জেলে ৭৬৫ জন। চলতি বছর জাটকা আহরণে বিরত জেলেদের জীবনযাত্রা নির্বাহের জন্য কড়ইবাড়িয়া ইউনিয়নের ৪১৮ জেলের জন্য মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় প্রতি মাসে জেলেপ্রতি ৪০ কেজি হারে চাল বরাদ্দ হয়। ফেব্রুয়ারি, মার্চ, এপ্রিল ও মে– এই চার মাসের জন্য ৬৬ টন ৬৮০ কেজি চাল তোলেন ওই ইউপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. ফজলুল হক বাচ্চু।

৫ ও ১৭ এপ্রিল দুই ধাপে জেলেদের মধ্যে চাল বিতরণ করা হয়। কিন্তু ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফজলুল হক বাচ্চুর বিরুদ্ধে চাল আত্মসাতের লিখিত অভিযোগ দেন সাত ইউপি সদস্য। ইউপি সদস্য মো. রেদওয়ান সরদার, খলিলুর রহমান, পীযূষ কান্তি হাওলাদার, পুলুকেশ মজুমদার, মনির গাজী ও সংরক্ষিত (নারী) সদস্য মাহমুদা আক্তারের অভিযোগ, ইউনিয়নের জেলেদের জন্য দুই ধাপে ৬৬ টন ৮৮০ কেজি চাল বরাদ্দ দেয় সরকার। কিন্তু প্যানেল চেয়ারম্যান ৬১ টন ২০০ কেজি চাল বিতরণ করেন। বাকি পাঁচ টন ৬৮০ কেজি চাল তিনি আত্মসাৎ করেন।
করাইবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. খলিলুর রহমান বলেন, ‘চাল বিতরণের বিষয়ে আমাকে কেউ জানায়নি। এখন পর্যন্ত মাস্টাররোলও বুঝিয়ে দেয়নি।’
কড়ইবাড়িয়া ইউনিয়নের ট্যাগ অফিসারের দায়িত্বে থাকা তালতলী উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আল আমিনের ভাষ্য, ‘আমি উপস্থিত থেকে জেলেদের মধ্যে চাল বিতরণ করেছি। কোনো অনিয়মের ঘটনা ঘটেনি।’

ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. ফজলুল হক বাচ্চু বলেন, ‘আমি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করব। এ জন্য একটি গ্রুপ ষড়যন্ত্র করছে। আমি প্রতি জেলেকে ৮০ কেজি করে চাল বুঝিয়ে দিয়েছি। কোনো আত্মসাতের ঘটনা ঘটেনি। একটি মহল আমাকে ইউনিয়নে ছোট করার জন্য ষড়যন্ত্র করছে। এটি তাদের কাজ। এই অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা জানাই।’
অভিযোগটি তদন্তে প্রশাসন তিন সদস্যের কমিটি করেছে। এই কমিটির প্রধান তালতলী উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা ভিক্টর বাইন। সদস্য হিসেবে আছেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম ও মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. টিপু সুলতান। এ বিষয়ে ভিক্টর বাইন বলেন, ‘ইউএনও অফিস থেকে তদন্ত কমিটির প্রধান হিসেবে চিঠি পেয়েছি। অন্য সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত প্রতিবেদন দেওয়া হবে।’
ইউএনও মোহাম্মাদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে পরিষদের অন্য সদস্যরা চাল আত্মসাতের লিখিত অভিযোগ করেছেন। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন

×