ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

টাকা পরিশোধ না করেই ইজারার মেয়াদ পার

টাকা পরিশোধ না করেই  ইজারার মেয়াদ পার
×

শরীফ উদ্দিন সবুজ, নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশ: ২৬ এপ্রিল ২০২৬ | ০৮:২৪

| প্রিন্ট সংস্করণ

নারায়ণগঞ্জে শীতলক্ষ্যা নদীর তিনটি ঘাটের ইজারার টাকা গত বছরের সেপ্টেম্বরে পরিশোধের কথা থাকলেও আজ পর্যন্ত দেওয়া হয়নি। যদিও আর মাত্র এক দিন পর নতুন ইজারার দরপত্র হবে। ইজারাদারের বিরুদ্ধে সরকার নির্ধারিত টোলের তিন গুণ আদায়ের অভিযোগ করলেও ব্যবস্থা নেয়নি বিআইডব্লিউটিএ।

ঘাট তিনটি হচ্ছে মাছুয়াবাজার কালেকশন রাইট, টানবাজার ঘাট ও কেরোসিন ঘাট। ২৮ এপ্রিল এই তিনটি ঘাট ইজারা হওয়ার কথা। আগামী ১ জুলাই থেকে পরের বছরের ইজারাদারের টোল আদায় করার কথা।

বিআইডব্লিউটিএর একটি সূত্র জানায়, ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জের মাছুয়াবাজার কালেকশন রাইট, টানবাজার ঘাটের ইজারা পান ঢাকার কদমতলীর ২৩১ মুরাদপুর হাইস্কুল রোডের শিবলী মাহমুদ। মাছুয়াবাজার কালেকশন রাইট পয়েন্টের ইজারা মূল্য ছিল দুই কোটি ২৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে এক কোটি ১৩ লাখ টাকা, ইজারা মূল্যের ওপর ১০ শতাংশ আয়কর বাবদ ২২ লাখ ৬০ হাজার টাকা ও ১৫ শতাংশ ভ্যাট বাবদ ৩৩ লাখ ৯০ হাজার টাকা দেন তিনি। তাঁর ইজারা মূল্যের বাকি এক কোটি ১৩ লাখ টাকার মধ্যে ৫৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা ২০২৫ সালের ১৫ আগস্ট এবং বাকি ৫৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা ২০২৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পরিশোধ করার কথা ছিল। প্রথম কিস্তি পরিশোধ করলেও তাঁর ইজারার মেয়াদ শেষ হয়ে এলেও দ্বিতীয় কিস্তির টাকা পরিশোধ করেননি। একইভাবে অন্য ঘাটের ইজারার টাকাও পরিশোধ করেননি। 

শীতলক্ষ্যা নদীর কেরোসিন ঘাট পয়েন্টের ইজারা পান কামাল হোসেন। তিনিও একইভাবে ইজারার টাকা বকেয়া রেখেছেন এবং অতিরিক্ত টোল আদায় করছেন বলে জানায় বিআইডব্লিউটিএর সূত্রটি। অভিযোগের ব্যাপারে বক্তব্য জানতে কল করা হলে তাঁর মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ঘাটে গেলে তাঁর ম্যানেজার হিসেবে মোহাম্মদ সাকির নম্বর দেওয়া হয়। সাকিকে ফোন দিলে জানান, তিনি কামাল হোসেনের না তিনি শিবলী মাহমুদের ম্যানেজার।

শুধু ইজারা পরিশোধে অনিয়ম নয় এই ইজারাদারদের বিরুদ্ধে তিন গুণ বেশি টোল আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। নারায়ণগঞ্জ চাল আড়তদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম ও অটো ফ্লাওয়ার মিলস মালিক সমিতির সচিব মোহাম্মদ আশরাফ হোসেন জানান, মাছুয়াবাজার কালেকশন রাইট পয়েন্ট, টানবাজার লেবার হ্যান্ডলিং পয়েন্ট ও কেরোসিন ঘাট দিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে নারায়ণগঞ্জে বিভিন্ন খাদ্যদ্রব্য আসে ও যায়। চট্টগ্রাম বন্দর থেকে লাইটার জাহাজ দিয়ে এসব মালপত্র ঘাট দুটিতে খালাস করা হয়। ট্রলার নৌকার মাধ্যমেও কিছু খাদ্যদ্রব্য আমদানি হয়। গম নিয়ে আসা নৌকা থেকে ১৫০ টাকা করে বিআইডব্লিউটিএর নির্ধারিত বার্দিং টোল আদায়ের কথা থাকলেও ৫০০ টাকা করে আদায় করছে। অনুরূপভাবে মাছুয়াবাজার ঘাটের শুল্ক বাবদ প্রতি কুইন্টাল ভ্যাটসহ ৩ টাকা ৪৫ পয়সা আদায়ের কথা থাকলেও সাত টাকা করে আদায় করছে। এমনকি কোনো বস্তায় এক কুইন্টালের (১০০ কেজি) কম পণ্য থাকলেও একই হারে টোল আদায় করছে। কোনো মাঝি অতিরিক্ত টোল আদায়ের প্রতিবাদ করলে তাঁকে মারধর করতে উদ্যত হয় ইজারাদারের লোকজন। তাঁকে ঘাটে ভিড়তে দেয় না। 

একই ইজারাদার একরামপুর ফেরিঘাটটি ইজারা নিয়ে নির্ধারিত দুই টাকা টোলের জায়গায় চার টাকা আদায় করছে। ২০২৫ সালের ২৬ আগস্ট অতিরিক্ত টোলের বিষয়টি বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যানকে লিখিতভাবে জানালে তিনি নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরের পোর্ট অফিসারকে ব্যবস্থা নিতে বলেন, তবে তিনি কোনো ব্যবস্থা নেননি।
ইজারাদার শিবলী মাহমুদের ভাষ্য, বিআইডব্লিউটিএ তাদের জেটি দেওয়ার কথা থাকলেও দেয়নি। নদী খননের কথা বললেও করেনি। ফলে নদীর তীরে জাহাজ ভেড়াতে পারছেন না। এতে তাঁর আয় কম হয়। এসব কারণে বিআইডব্লিউটিএর ইজারার প্রায় ১৮ লাখ টাকা বাকি রেখেছেন। অতিরিক্ত টোল আদায়ের বিষয়ে তিনি বলেন, অনেক জাহাজ ধীরে ধীরে মালপত্র খালাস করে প্রায় এক মাস ধরে দাঁড়িয়ে থাকছে। তখন বিআইডব্লিউটিএর নিয়ম অনুযায়ীই অতিরিক্ত চার্জ আদায় করতে পারেন তিনি। 
বিআইডব্লিউটিএর নারায়ণগঞ্জ পোর্টের যুগ্ম পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান জানান, ইজারাদারের সামান্য কিছু টাকা বাকি আছে। অতিরিক্ত টোল আদায়ের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি অল্প কয়েক মাস হয়েছে এসেছি। আমি আসার পরে এই ব্যাপারে কেউ কোনো অভিযোগ করেনি।’

আরও পড়ুন

×