দানিশ মন্দ (রহ.) মাজারের দানবাক্সে জমছে টাকা, বৃষ্টিতে নষ্টের শঙ্কা
বাঘা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী হজরত আব্দুল হামিদ দানিশ মন্দের (রহ.) মাজারটি চারদিক থেকে নেট দিয়ে ঘেরা। বৃষ্টির পানি ভেতরে প্রবেশ করলে টাকা নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে
বাঘা (রাজশাহী) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৯ এপ্রিল ২০২৬ | ১৮:৫৫
রাজশাহীর বাঘা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী হজরত আব্দুল হামিদ দানিশ মন্দের (রহ.) মাজারে প্রতিদিন ভক্তদের দেওয়া নজরানা ও মানতের টাকায় জমে উঠছে কাগজের নোটের স্তূপ। তবে নিয়মিত সংগ্রহ ও সংরক্ষণের অভাবে এসব টাকা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
গতকাল বুধবার সরেজমিন দেখা যায়, মাজারের ভেতরে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে বিপুল পরিমাণ কাগজের নোট। ছাদঢালা মাজারটি চারদিক থেকে নেট দিয়ে ঘেরা থাকলেও ভেতরে জমে থাকা টাকার স্তূপ স্পষ্ট দেখা যায়। বিশেষ করে ৫, ১০, ২০, ৫০ ও ১০০ টাকার নোটের স্তূপ জমে আছে। বড় অঙ্কের ৫০০ বা এক হাজার টাকার নোট চোখে না পড়লেও ছোট নোটের পরিমাণই বেশি।
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে এসব টাকা গণনা না হওয়ায় মাজারের ভেতরে স্তূপ জমেছে। বৃষ্টির পানি ভেতরে প্রবেশ করলে এসব কাগজের টাকা নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
মাজারটি বাঘা হজরত শাহ দৌলা (রহ.) ওয়াক্ফ এস্টেটের অধীনে পরিচালিত। মাজার এলাকায় আরও পাঁচটি দানবাক্স রয়েছে, যেগুলোও মাসের পর মাস খোলা হয়নি বলে জানা গেছে।
ওয়াক্ফ এস্টেট উপদেষ্টা কমিটি সূত্রে জানা যায়, দানবাক্স ও মাজারের ভেতরের টাকা উত্তোলনের জন্য যৌথ হিসাবের ব্যবস্থা রয়েছে। এর চাবি থাকে কমিটির সহসভাপতি ও সদস্য সচিবের কাছে। ফলে এককভাবে কেউ ইচ্ছামতো তা খুলতে পারেন না। সূত্র আরও জানায়, দেড় মাস আগে দানবাক্স থেকে ৫৭ হাজার ৪১ টাকা এবং মাজারের ভেতর থেকে ৭১ হাজার ৫৩ টাকা সংগ্রহ করা হয়েছিল। বিশেষ দিন বা ওরস মৌসুমে এই পরিমাণ আরও বেড়ে যায়।
সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান খন্দকার মানোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘মাজারের ভেতরে বর্তমানে যে পরিমাণ টাকা জমে আছে, তা অন্তত লাখ টাকার কাছাকাছি হতে পারে।’ ওয়াক্ফ এস্টেট উপদেষ্টা কমিটির সদস্য সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম (রইশ) জানান, সংগৃহীত অর্থ মাজারের রক্ষণাবেক্ষণ, এতিমদের সহায়তা এবং দরিদ্র শিক্ষার্থীদের বৃত্তি হিসেবে ব্যয় করা হয়। নিয়মিত হিসাব নিরীক্ষার মাধ্যমে ব্যাংকে জমা দেওয়া হয়।
ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট থেকে আসা ভক্ত আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘মাজারে এসে মানসিক শান্তি পাই। মানত পূরণ হওয়ায় সামর্থ্য অনুযায়ী দান করেছি।’ স্থানীয় ব্যবসায়ী খায়রুল ইসলাম জানান, মাজারকে কেন্দ্র করে এলাকার ব্যবসা-বাণিজ্যও ভালো চলছে। বিশেষ করে শুক্রবার ভিড় বেশি হয়।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ওয়াক্ফ কমিটির সহসভাপতি শাম্মী আক্তার বলেন, ‘মাজারের আয়-ব্যয় স্বচ্ছভাবে পরিচালিত হয়। নিয়ম অনুযায়ী টাকা সংগ্রহ করে ব্যাংকে জমা দেওয়া হয়। শিগগিরই আবার দানবাক্স খোলা হবে।’
স্থানীয়দের মতে, ধর্মীয় ভক্তি ও আস্থার কেন্দ্র হিসেবে এই মাজার যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি এখানকার দানের অর্থ সমাজকল্যাণমূলক কাজে ব্যবহৃত হওয়ায় এর গুরুত্ব আরও বেড়েছে। তবে সময়মতো টাকা সংগ্রহ ও সংরক্ষণ না করলে ক্ষতির আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।
উল্লেখ্য, হজরত আব্দুল হামিদ দানিশ মন্দ (রহ.) ও তাঁর পিতা হজরত শাহ মোয়াজ্জেম (রহ.) এই অঞ্চলের প্রখ্যাত সুফি সাধক ছিলেন। প্রায় পাঁচ শতাব্দী আগে তারা ইসলাম প্রচার ও মানবসেবায় আত্মনিয়োগ করেন। বর্তমানে তাদের মাজার বাঘার অন্যতম ধর্মীয় ও পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।
