নিত্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতা তেলের সংকটে ভোগান্তি
মুরগি-ডাল-সবজির দাম ঊর্ধ্বমুখী, ট্যাগিং বাণিজ্যের অভিযোগ
ফুলবাড়ী পৌর বাজারে ক্রেতা নেই মুরগির দোকানে
ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৯ এপ্রিল ২০২৬ | ২০:৩৮
দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে মিনিকেট ছাড়া মোটা চালের দাম কিছুটা কমলেও ডাল, সবজি, মাছ-মাংসসহ প্রায় সব ধরনের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে অস্বাভাবিক ঊর্ধ্বগতি দেখা দিয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সয়াবিন তেলের তীব্র সংকট, যা সাধারণ মানুষের ভোগান্তিকে বেসামাল করে দিয়েছে। নিত্যপণ্যের লাগামহীন দামে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে পড়েছে। দ্রুত বাজার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি খারাপ হওয়ার আশঙ্কা করছেন ভুক্তভোগীরা।
গতকাল বুধবার সরেজমিনে ফুলবাড়ী পৌর বাজারে গিয়ে দেখা যায়, বাজারজুড়ে নিত্যপণ্যের দামে অস্থিরতা বিরাজ করছে। প্রশাসনের টাঙানো মূল্য তালিকা থাকলেও বাস্তবে সরবরাহ সংকট ও বাজার নিয়ন্ত্রণের অভাবে ক্রেতারা পড়ছেন বিপাকে। টাকা দিয়েও মিলছে না বোতলজাত সয়াবিন তেল। ৫ লিটারের বোতল দূরের কথা, ছোট বোতলও দুষ্প্রাপ্য হয়ে উঠেছে। এ সংকটের সুযোগে চলছে ‘ট্যাগিং বাণিজ্য’। অর্থাৎ তেল কিনতে গেলে ব্যবসায়ীদের বাধ্য করা হচ্ছে একই কোম্পানির চাল, ডাল, চিনি বা সুজি কিনতে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন পরিবেশক জানান, কোম্পানির এই শর্তের কারণে ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। ফলে অনেকে পরিবেশকের দায়িত্ব ছেড়ে দিচ্ছেন, যা সংকটকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী উত্তম সরকার বলেন, ‘আগে যেখানে মাসে প্রায় এক লাখ টাকার তেল বিক্রি হতো, এখন তা কমে ২৫ হাজারে নেমে এসেছে।’
খুচরা বিক্রেতা সাজ্জাদ মিয়া জানান, ‘আগে নির্ধারিত দামে তেল পাওয়া যেত। এখন বেশি দাম দিয়েও পাওয়া যাচ্ছে না। ৫ লিটারের বোতল এক হাজার টাকা দিয়েও মিলছে না।’
তেলের সংকটের প্রভাব পড়েছে অন্যান্য পণ্যের বাজারেও। গত সপ্তাহে ১০০ টাকা থাকা চিনি এখন ১০৩-১০৫ টাকা এবং ১৩০ টাকার মসুর ডাল বেড়ে ১৫০-১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আমিষের বাজারেও স্বস্তি নেই। বিশেষ করে পাকিস্তানি বা সোনালি মুরগির দাম এক সপ্তাহে কেজিতে ১০০ টাকার বেশি বেড়েছে। বর্তমানে তা ৩৩০-৩৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশি মুরগির দাম ৬৫০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে।
মুরগি ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর হোসেন, মোজাফ্ফর হোসেন ও শের আলী বলেন, ‘আবহাওয়া পরিবর্তন ও রোগের কারণে সরবরাহ কমে গেছে। এজন্য দাম বেড়েছে।’
মাছের বাজারেও দাম এখনও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। ৮০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ১৫০০ টাকা এবং ১ কেজি ইলিশ ১৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া রুই ৩৫০, কাতলা ৩২০, টেংরা ৬০০ এবং বোয়াল ১০০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। সবজির বাজারেও ঊর্ধ্বগতি অব্যাহত। বেগুন ৬০ টাকা, টমেটো ও পেঁপে ৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। তবে আলুর দাম কিছুটা স্থিতিশীল রয়েছে–১৮ থেকে ২০ টাকা কেজি। পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ২৮-৩০ টাকায়।
ফুলবাড়ী থানা ব্যবসায়ী সমিতির আহ্বায়ক আব্দুল কাইয়ুম আনসারী বলেন, ‘বিশ্ববাজার পরিস্থিতির পাশাপাশি তেলের সঙ্গে অন্যান্য পণ্য চাপিয়ে দেওয়ার প্রবণতা বাজার অস্থিরতার বড় কারণ।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহমেদ হাছান বলেন, ‘কেউ যাতে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়াতে না পারে, সেজন্য নিয়মিত বাজার তদারকি করা হচ্ছে।’
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক বোরহান উদ্দিন জানান, ‘প্রশাসনের সঙ্গে যৌথভাবে বাজারে অভিযান চালানো হবে।’
