উলিপুর-রমনা রেলপথ
ঝুঁকিপূর্ণ রেলপথ সংস্কারে ধীরগতি
মানববন্ধনে ক্ষোভ
উলিপুর-রমনা রেলপথ সংস্কারকাজে ধীরগতি ও অনিয়মের প্রতিবাদে মানববন্ধন
চিলমারী (কুড়িগ্রাম) সংবাদদাতা
প্রকাশ: ০৪ মে ২০২৬ | ১৮:০৪
কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলা থেকে রমনা রেলস্টেশন পর্যন্ত রেলপথ সংস্কারকাজ নির্ধারিত সময় বারবার পেরিয়ে গেলেও শেষ হয়নি। কাজের ধীরগতি, অনিয়ম ও তদারকির অভাবের প্রতিবাদে ভুক্তভোগী যাত্রী ও স্থানীয়রা মানববন্ধন করেছেন। সোমবার দুপুরে রেল-নৌ যোগাযোগ ও পরিবেশ উন্নয়ন গণকমিটির ব্যানারে রমনা রেলস্টেশন এলাকায় এ কর্মসূচি পালিত হয়।
এ সময় বক্তব্য দেন রেল-নৌ যোগাযোগ ও পরিবেশ উন্নয়ন গণকমিটির সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি নাহিদ হাসান, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবু সাঈদ হোসেন পাখী, উপজেলা কৃষক দলের সদস্য সচিব আবু হানিফা ও রমনা ইউনিয়ন কমিটির সদস্য সচিব সোহানুর রহমান প্রমুখ।
বক্তারা অভিযোগ করেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতি, নিম্নমানের কাজ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দুর্বল তদারকির কারণেই প্রকল্পটি দীর্ঘসূত্রতায় পড়েছে। এতে সরকারের বিপুল অর্থ ব্যয় হলেও সাধারণ মানুষ প্রত্যাশিত সুফল পাচ্ছেন না। তারা আরও জানান, গত কয়েক বছরে এই রুটে একাধিকবার ট্রেন লাইনচ্যুতির ঘটনা ঘটলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এ সময় তারা দ্রুত রেললাইনে পাথর ফেলা, স্লিপার প্রতিস্থাপন এবং ট্র্যাক মজবুতকরণের দাবি জানান। পাশাপাশি রমনা রেলস্টেশন আধুনিকায়ন ও এ রুটে ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানোর দাবিও তোলা হয়। দাবি পূরণ না হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন আন্দোলনকারীরা।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১০ কিলোমিটার রেলপথ সংস্কারের কাজ শুরু হওয়ার কথা ছিল ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে। প্রাথমিকভাবে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হলেও তা সম্ভব হয়নি। পরে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৫ সালের জুন এবং সর্বশেষ ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়। সময় বাড়লেও কাজের দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, রেললাইনের বিভিন্ন অংশে এখনও পর্যাপ্ত ব্যালাস্ট (পাথর) ফেলা হয়নি। অনেক জায়গায় পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ স্লিপার রয়েছে। ট্র্যাক মজবুতকরণের কাজ অসম্পূর্ণ থাকায় দুর্ঘটনা এড়াতে ট্রেন চলাচলের গতি ঘণ্টায় মাত্র ১৫ থেকে ২০ কিলোমিটারে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে। এতে যাত্রীদের যাতায়াতে সময় ও দুর্ভোগ বহুগুণ বেড়ে গেছে।
যাত্রীদের ভাষ্য, ধীরগতির ট্রেন চলাচলের কারণে যাতায়াতে সময় ও খরচ বেড়ে গেছে। এতে শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন।
এ বিষয়ে লালমনিরহাট বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ তসলিম আহমেদ খানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
